১২:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রংপুরে আলুর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন

আলুর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে রংপুর-এ।

রোববার (৮ মার্চ) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সামনে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠন রংপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের রংপুর জেলা আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন বাবলু।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক আহসানুল আরেফিন তিতু, আলুচাষি এমদাদুল হক বাবু, আবুল কাশেমসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, চলতি মৌসুমে সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে আলুর দাম নেমে এসেছে কেজি প্রতি মাত্র ৩ থেকে ৪ টাকায়। এতে বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা লাভের মুখ দেখতে পারছেন না।

তারা অভিযোগ করেন, কৃষকরা হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করতে গেলে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকদের যোগসাজশে অধিকাংশ জায়গা আগেই বুকিং হয়ে যায়। ফলে প্রকৃত কৃষকরা আলু সংরক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন না। আবার বাজারে বিক্রি করলেও ন্যায্য দাম মিলছে না।

বক্তারা আরও বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে দেশে সারের সংকট ও দাম বৃদ্ধির অভিযোগ রয়েছে। অনেক জায়গায় ব্যবসায়ীরা কেজিপ্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে সার বিক্রি করছে। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও তা কার্যকর হচ্ছে না।

সমাবেশ থেকে বক্তারা আলুর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—সরকারি উদ্যোগে আলু ক্রয়, সংরক্ষণ ও রপ্তানি কার্যক্রম জোরদার করা, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, সারের কালোবাজারি বন্ধ করে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের সার সরবরাহ নিশ্চিত করা।

এছাড়া হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কেজিপ্রতি ৮ টাকা থেকে কমিয়ে দেড় টাকা নির্ধারণ, অগ্রিম বুকিংয়ের নামে বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা আদায় বন্ধ, সরকারি উদ্যোগে প্রতিটি উপজেলায় বিশেষায়িত বীজ হিমাগার নির্মাণ, সব হিমাগারে প্রকৃত কৃষকের জন্য অন্তত ৬০ শতাংশ জায়গা সংরক্ষণ এবং ন্যায্য মূল্যে আলু বিক্রি করতে না পারা কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

শু/সবা

কক্সবাজারে রাখাইন নারী ফোরামের আয়োজনে নারী দিবস পালিত

রংপুরে আলুর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৫:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

আলুর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে রংপুর-এ।

রোববার (৮ মার্চ) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সামনে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠন রংপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের রংপুর জেলা আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন বাবলু।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক আহসানুল আরেফিন তিতু, আলুচাষি এমদাদুল হক বাবু, আবুল কাশেমসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, চলতি মৌসুমে সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে আলুর দাম নেমে এসেছে কেজি প্রতি মাত্র ৩ থেকে ৪ টাকায়। এতে বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা লাভের মুখ দেখতে পারছেন না।

তারা অভিযোগ করেন, কৃষকরা হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করতে গেলে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকদের যোগসাজশে অধিকাংশ জায়গা আগেই বুকিং হয়ে যায়। ফলে প্রকৃত কৃষকরা আলু সংরক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন না। আবার বাজারে বিক্রি করলেও ন্যায্য দাম মিলছে না।

বক্তারা আরও বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে দেশে সারের সংকট ও দাম বৃদ্ধির অভিযোগ রয়েছে। অনেক জায়গায় ব্যবসায়ীরা কেজিপ্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে সার বিক্রি করছে। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও তা কার্যকর হচ্ছে না।

সমাবেশ থেকে বক্তারা আলুর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—সরকারি উদ্যোগে আলু ক্রয়, সংরক্ষণ ও রপ্তানি কার্যক্রম জোরদার করা, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, সারের কালোবাজারি বন্ধ করে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের সার সরবরাহ নিশ্চিত করা।

এছাড়া হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কেজিপ্রতি ৮ টাকা থেকে কমিয়ে দেড় টাকা নির্ধারণ, অগ্রিম বুকিংয়ের নামে বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা আদায় বন্ধ, সরকারি উদ্যোগে প্রতিটি উপজেলায় বিশেষায়িত বীজ হিমাগার নির্মাণ, সব হিমাগারে প্রকৃত কৃষকের জন্য অন্তত ৬০ শতাংশ জায়গা সংরক্ষণ এবং ন্যায্য মূল্যে আলু বিক্রি করতে না পারা কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

শু/সবা