ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে খুন হওয়া আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ এবং সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার রুহের মাগফিরাত কামনায় ইবিয়ানদের নিয়ে দোয়া মাহফিল ও গণইফতারের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।
রবিবার (৮ মার্চ) বিকেলে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হল গেটে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য এবং কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠে পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এদিন মোট ২৫০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আসরের নামাজের পর ইফতার বিতরণের স্থানে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
এতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, আইআইইআর পরিচালক ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন গ্রীণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নাজিমুদ্দিন, পরিকল্পনা অধিদপ্তর প্রধান মোয়াজ্জেম হোসেন, শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ইফতারে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘হলের ডাইনিংয়ে ইফতারের সুবিধা না থাকায় ইফতারে কিছুটা সমস্যা হতো। আশপাশের দোকান গুলো ইফতার বিক্রি করলেও সেগুলোর মান খুব একটা ভালো না। ছাত্রশিবির গতবছরও শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে গণইফতার আয়োজন করেছিলো, এবারেও আয়োজন করেছে। এজন্য ইবি শিবিরকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, রমজান মাস আমাদের কাছে এসব আবার অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে। আমরা কতটা শিক্ষা অর্জন করতে পেরেছি সেটাই মূল বিষয়। মহান আল্লাহ আমাদের উপর রমজান ফরজ করেছেন, আমাদের পূর্ববর্তীদের উপরেও ফরজ করেছিলেন। রমজানের শিক্ষা ধারণ করতে না পারলে, বাস্তব জীবনে বাস্তবায়ন করতে না পারলে যাবতীয় আয়োজন বৃথা। আমরা যদি তাকওয়া অর্জন করে বাকি ১১ মাস রমজানের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে চলতে পারি তাহলেই রমজান মাসের স্বার্থকতা।
গ্রীণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রমজান মাস কুরআনের মাস। কুরআন যেভাবে বলে সেভাবে আচরণ করলেই আমরা মুত্তাকি হতে পারবে৷ মুত্তাকি হওয়ার জন্য আমাদের আল কুরআনের কাছেই যেতে হবে। এই কুরআনের মাসে কুরআন তেলাওয়াত না করে, মুখস্থ না করলে মুত্তাকি হওয়া যাবে না। আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত কেওই চাকরিতে যেতে পারবেন না। ভালো চাকরি পেতে হলেও অবশ্যই মুত্তাকি হতে হবে৷ এসময় শিক্ষার্থীদের যে কয়টি রোজা বাকি আছে প্রতিদিন কুরআন তেলাওয়াত এবং নামাজ পড়ার আহবান জানান তিনি।
শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, রোজাদারদের জন্য আনন্দের মূহুর্তে দুটি। তার একটি হচ্ছে ইফতারের সময় অন্যটি সে যখন তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করে সেই সময়। আমরা ইফতারের আয়োজন করেছি যেন ইফতারের আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে পারি। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এই সমাজের বুকে ইনসাফ কায়েম করতে চায়, এই সমাজের পরিবর্তন চায়, এই ভূখণ্ডে ইসলামের বিজয় দেখতে চায়। এজন্য ইসলামী ছাত্রশিবির কাজ করে যাচ্ছে। ইসলামকে বিজয় করার জন্য সমাজের ইনসাফ কায়েমের জন্য ও সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের সহযোগিতা করবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।
শু/সবা























