১২:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রংপুরে কালোজিরা চাষে কৃষক মশিউরের সাফল্য

রংপুরে পরীক্ষামূলকভাবে কালোজিরা চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন এক কৃষক। তার কাছে কালোজিরা যেন শুধু একটি ফসল নয়, বরং ‘কালো সোনা’। অধিক লাভের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি।

বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, রোদযুক্ত উঁচু বা মাঝারি উঁচু দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি, যেখানে পানি জমে না—এ ধরনের জমিতে কালোজিরা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। সাধারণত কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে জমিতে পঁচা গোবর ছিটিয়ে কয়েক দফা চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করতে হয়। এরপর সামান্য পরিমাণ টিএসপি ও এমওপি সার প্রয়োগ করে বীজ বপন করা হয়।

প্রতি হেক্টরে ৮–১০ কেজি বীজ ব্যবহার করা হয় এবং সারি থেকে সারির দূরত্ব রাখা হয় প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার। বপনের প্রায় চার মাস পর ফাল্গুন-চৈত্র মাসে গাছ শুকিয়ে হলুদ হলে তা সংগ্রহ করে রোদে শুকিয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বীজ আলাদা করা হয়।

সঠিক সেচ ও বালাই ব্যবস্থাপনা থাকলে প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব, যা অনেক প্রচলিত ফসলের তুলনায় বেশি। এ কারণেই কালোজিরাকে অনেক কৃষক ‘কালো সোনা’ বলে থাকেন।

বদরগঞ্জ উপজেলায় কালোজিরা চাষ তুলনামূলক নতুন। অভিজ্ঞতার অভাবে অনেক কৃষক এতে আগ্রহ দেখান না। তবে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের শালবাড়ি আমডাঙ্গা পাড়ার কৃষক মশিউর রহমান ইউটিউব দেখে কালোজিরা চাষে উদ্বুদ্ধ হন।

বাজারে বীজ না পেয়ে তিনি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহেববুল ইসলামের সহযোগিতা নেন। পরে মশলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলামের সহায়তায় ৬০ শতক জমির জন্য প্রায় ১ কেজি ৮০০ গ্রাম বীজ সংগ্রহ করা হয়।

বীজ বপনে কিছুটা বিলম্ব হলেও জমিতে ভালো চারা গজায়। তবে অতিরিক্ত সেচ দেওয়ায় ২০ শতক জমির চারা নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে ৪০ শতক জমিতে কালোজিরা রয়েছে এবং গাছে ফুল ও দানা ধরতে শুরু করেছে।

কৃষক মশিউর রহমান বলেন, “অভিজ্ঞতা না থাকায় শুরুতে কিছুটা সমস্যায় পড়েছিলাম। তবে এখন গাছে ফুল ও দানা দেখে খুব ভালো লাগছে। এত কম খরচে অন্য কোনো ফসলে এত লাভ সম্ভব নয়। আমার কাছে এটি কালোজিরা নয়, কালো হীরা।”

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহেববুল ইসলাম বলেন, কালোজিরা এলাকায় নতুন ফসল হওয়ায় কৃষকদের অভিজ্ঞতা কম। তবে মশিউর রহমান সেই ভয় কাটিয়ে সফলতার পথে এগিয়ে গেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিনা আফরোজ জানান, মসলা জাতীয় ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। মশিউরের সাফল্য দেখে ভবিষ্যতে অন্য কৃষকরাও কালোজিরাসহ মসলা জাতীয় ফসল চাষে আগ্রহী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

শু/সবা

কক্সবাজারে রাখাইন নারী ফোরামের আয়োজনে নারী দিবস পালিত

রংপুরে কালোজিরা চাষে কৃষক মশিউরের সাফল্য

আপডেট সময় : ০৫:০২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

রংপুরে পরীক্ষামূলকভাবে কালোজিরা চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন এক কৃষক। তার কাছে কালোজিরা যেন শুধু একটি ফসল নয়, বরং ‘কালো সোনা’। অধিক লাভের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি।

বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, রোদযুক্ত উঁচু বা মাঝারি উঁচু দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি, যেখানে পানি জমে না—এ ধরনের জমিতে কালোজিরা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। সাধারণত কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে জমিতে পঁচা গোবর ছিটিয়ে কয়েক দফা চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করতে হয়। এরপর সামান্য পরিমাণ টিএসপি ও এমওপি সার প্রয়োগ করে বীজ বপন করা হয়।

প্রতি হেক্টরে ৮–১০ কেজি বীজ ব্যবহার করা হয় এবং সারি থেকে সারির দূরত্ব রাখা হয় প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার। বপনের প্রায় চার মাস পর ফাল্গুন-চৈত্র মাসে গাছ শুকিয়ে হলুদ হলে তা সংগ্রহ করে রোদে শুকিয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বীজ আলাদা করা হয়।

সঠিক সেচ ও বালাই ব্যবস্থাপনা থাকলে প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব, যা অনেক প্রচলিত ফসলের তুলনায় বেশি। এ কারণেই কালোজিরাকে অনেক কৃষক ‘কালো সোনা’ বলে থাকেন।

বদরগঞ্জ উপজেলায় কালোজিরা চাষ তুলনামূলক নতুন। অভিজ্ঞতার অভাবে অনেক কৃষক এতে আগ্রহ দেখান না। তবে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের শালবাড়ি আমডাঙ্গা পাড়ার কৃষক মশিউর রহমান ইউটিউব দেখে কালোজিরা চাষে উদ্বুদ্ধ হন।

বাজারে বীজ না পেয়ে তিনি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহেববুল ইসলামের সহযোগিতা নেন। পরে মশলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলামের সহায়তায় ৬০ শতক জমির জন্য প্রায় ১ কেজি ৮০০ গ্রাম বীজ সংগ্রহ করা হয়।

বীজ বপনে কিছুটা বিলম্ব হলেও জমিতে ভালো চারা গজায়। তবে অতিরিক্ত সেচ দেওয়ায় ২০ শতক জমির চারা নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে ৪০ শতক জমিতে কালোজিরা রয়েছে এবং গাছে ফুল ও দানা ধরতে শুরু করেছে।

কৃষক মশিউর রহমান বলেন, “অভিজ্ঞতা না থাকায় শুরুতে কিছুটা সমস্যায় পড়েছিলাম। তবে এখন গাছে ফুল ও দানা দেখে খুব ভালো লাগছে। এত কম খরচে অন্য কোনো ফসলে এত লাভ সম্ভব নয়। আমার কাছে এটি কালোজিরা নয়, কালো হীরা।”

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহেববুল ইসলাম বলেন, কালোজিরা এলাকায় নতুন ফসল হওয়ায় কৃষকদের অভিজ্ঞতা কম। তবে মশিউর রহমান সেই ভয় কাটিয়ে সফলতার পথে এগিয়ে গেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিনা আফরোজ জানান, মসলা জাতীয় ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। মশিউরের সাফল্য দেখে ভবিষ্যতে অন্য কৃষকরাও কালোজিরাসহ মসলা জাতীয় ফসল চাষে আগ্রহী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

শু/সবা