রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি এবং এক রোগীর মরদেহ আটকে রেখে তার ছেলেকে কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১৩ জুন হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি নূরনাহার বেগমের মৃত্যুর পর তার ছেলে রিফাত হোসেন চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে কর্তব্যরত দুই চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন এবং কিছু সময়ের জন্য জরুরি বিভাগের সেবাও বন্ধ রাখেন।
পরবর্তীতে নূরনাহার বেগমের মরদেহ মর্গে রেখে অভিযুক্ত রিফাতকে হাসপাতালে এসে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়। পরে তাকে হাসপাতালে এনে পরিচালকের কার্যালয়ে কান ধরে উঠবস করানোর পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এ বিষয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি সাদমান মিরাজ বলেন, “যেন লঘু দোষে গুরু শাস্তি না হয়, সে কারণে তাকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। আমরা অতটা অমানবিক নই।” তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় পুলিশ ও হাসপাতাল প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগের সেবায় প্রভাব পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। তবে জরুরি সেবা সচল রাখার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের দাবিগুলো শোনা হবে এবং আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শু/সবা
রংপুর ব্যুরো: 





















