4:42 am, Sunday, 21 June 2026

বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রম চলছে, দিল্লিতে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের দাবি

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাস-সংশ্লিষ্ট তৎপরতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে চরমপন্থী প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক কূটনীতিতে পাকিস্তানের ভূমিকা এবং চরমপন্থা মোকাবিলায় ইসলামাবাদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিউভেন আজার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টাকে ইসরায়েল সতর্কতার সঙ্গে দেখছে। তার দাবি, ইসলামাবাদ একদিকে শান্তি প্রচেষ্টার অংশীদার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছে, অন্যদিকে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগের মুখে রয়েছে।

তিনি বলেন, “এমন কিছু দেশ আছে, যারা মনে করে শান্তি মানে এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।” একই সঙ্গে আঞ্চলিক বিষয়ে কাতারের ভূমিকাও সমালোচনা করেন তিনি।

রিউভেন আজার দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাসের সম্ভাব্য কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েল। তার ভাষ্য, কিছু তথ্য প্রকাশ্য সূত্র থেকে পাওয়া গেলেও আরও কিছু কার্যক্রম জনসমক্ষে আসেনি।

তিনি বলেন, “আমরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রমের ওপর নজর রাখছি। চরমপন্থী সংগঠনগুলো ৭ অক্টোবরের হামলাকে অন্যত্র কার্যক্রম পরিচালনার একটি মডেল হিসেবে দেখতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত।”

ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত জানান, এ বিষয়ে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং চরমপন্থী আন্দোলনের ওপর নজরদারি জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া পাকিস্তানের কিছু অংশে ইহুদি-বিদ্বেষী মনোভাব উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের অবস্থান ইসরায়েলের প্রতি ইসলামাবাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সম্পর্কে আস্থা তৈরিতে সহায়ক নয়।

ইরানকে ঘিরে চলমান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার প্রসঙ্গে রিউভেন আজার বলেন, ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্য হলো—ইরানকে নিয়ে যেকোনো চুক্তিতে যেন নিরাপত্তা উদ্বেগ ও আঞ্চলিক হুমকির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

সূত্র: এনডিটিভি

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

fifteen + 16 =

About Author Information

ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রম চলছে, দিল্লিতে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের দাবি

Update Time : ০৮:২১:১০ pm, Thursday, ১৮ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাস-সংশ্লিষ্ট তৎপরতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে চরমপন্থী প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক কূটনীতিতে পাকিস্তানের ভূমিকা এবং চরমপন্থা মোকাবিলায় ইসলামাবাদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিউভেন আজার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টাকে ইসরায়েল সতর্কতার সঙ্গে দেখছে। তার দাবি, ইসলামাবাদ একদিকে শান্তি প্রচেষ্টার অংশীদার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছে, অন্যদিকে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগের মুখে রয়েছে।

তিনি বলেন, “এমন কিছু দেশ আছে, যারা মনে করে শান্তি মানে এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।” একই সঙ্গে আঞ্চলিক বিষয়ে কাতারের ভূমিকাও সমালোচনা করেন তিনি।

রিউভেন আজার দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাসের সম্ভাব্য কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েল। তার ভাষ্য, কিছু তথ্য প্রকাশ্য সূত্র থেকে পাওয়া গেলেও আরও কিছু কার্যক্রম জনসমক্ষে আসেনি।

তিনি বলেন, “আমরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রমের ওপর নজর রাখছি। চরমপন্থী সংগঠনগুলো ৭ অক্টোবরের হামলাকে অন্যত্র কার্যক্রম পরিচালনার একটি মডেল হিসেবে দেখতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত।”

ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত জানান, এ বিষয়ে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং চরমপন্থী আন্দোলনের ওপর নজরদারি জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া পাকিস্তানের কিছু অংশে ইহুদি-বিদ্বেষী মনোভাব উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের অবস্থান ইসরায়েলের প্রতি ইসলামাবাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সম্পর্কে আস্থা তৈরিতে সহায়ক নয়।

ইরানকে ঘিরে চলমান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার প্রসঙ্গে রিউভেন আজার বলেন, ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্য হলো—ইরানকে নিয়ে যেকোনো চুক্তিতে যেন নিরাপত্তা উদ্বেগ ও আঞ্চলিক হুমকির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

সূত্র: এনডিটিভি

শু/সবা