তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙ্গনে ফের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের বাসিন্দারা। নদীর বাম তীরে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত তীর রক্ষা প্রকল্পের জিও ব্যাগগুলো কোনো সুরক্ষা দিতে পারছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ১নং রামহরি মৌজার বাতেন মেম্বারের বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে তিস্তা নদীর ভাঙ্গন প্রকট আকার ধারণ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মূলত ওই এলাকায় তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়, যার ফলে ইতিমধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের তিনটি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার থেকে ওই এলাকায় জিও ব্যাগের পাইলিংয়ের ফাঁক দিয়ে ভাঙন শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যেই অনেকগুলো জিও ব্যাগ নদীতে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, নদী ভাঙ্গনে মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ইদ্রিস আলীর বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পাশাপাশি আব্দুর রশিদ ও সাইফুল ইসলামের বাড়িও বর্তমানে তীব্র হুমকির মুখে রয়েছে। বড় অংকের অর্থ ব্যয়ে তীর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও কাজের ত্রুটির কারণে তা কোনো সুরক্ষাই দিতে পারছে না। ফলে রামহরি মৌজার তৈয়বখাঁ এবং ঘড়িয়াল ডাঙ্গার খিতাব খাঁ এলাকাতেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মোশাররফ হোসেন (মজু) ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আতিকুর রহমান ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানান। এ সময় তারা বলেন, “অস্থায়ী জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙ্গন ঠেকানো সম্ভব নয়। তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘস্থায়ী দুঃখ লাঘবে দ্রুত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নই এখন সময়ের দাবি।”
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, “আমরা বিষয়টি অবগত আছি এবং আমাদের লোকজন এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন। ভাঙ্গন রোধে জরুরি ভিত্তিতে ৬ হাজার জিও ব্যাগের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত কাজ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।”
তবে স্থানীয়রা মনে করেন, প্রতিবছর জিও ব্যাগের মতো অস্থায়ী পদক্ষেপ নিলেও নদী শাসন ও টেকসই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় তাঁরা প্রতিবারই ভিটেমাটি হারানোর ঝুঁকিতে থাকছেন।
শু/সবা
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: 






















