11:32 pm, Friday, 26 June 2026

গণভোটের রায় উপেক্ষা, মৌলিক সংস্কার থেকে সরে আসছে সরকার: জামায়াত আমির

সরকার মৌলিক সংস্কারের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন, স্বাধীন ভোট কমিশন ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন—কোনোটিই সরকার বাস্তবায়ন করতে চায় না। ফলে যেসব কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে অতীতে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেগুলো আগের মতোই বহাল রয়েছে।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ রাষ্ট্রে মৌলিক পরিবর্তনের আশা করেছিল। কিন্তু সংস্কার পরিষদের গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের সমর্থন পাওয়া প্রস্তাবগুলো বর্তমান সরকার উপেক্ষা করেছে। তাঁর ভাষায়, “একটি ভোটের মূল্যায়ন করা হলো, আরেকটি ভোট ফেলে দেওয়া হলো। অথচ দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দল—উভয়েই নির্বাচনের আগে গণভোটের ফল মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু জনগণের রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ কারণে বিরোধী দল সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছে এবং ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে।

সরকারের চার মাসের সময়কাল নিয়ে যে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তা প্রত্যাখ্যান করে জামায়াত আমির বলেন, “একটি রাষ্ট্রের ভিত্তিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দিনের শুরু যেমন পুরো দিনের ইঙ্গিত দেয়, তেমনি সরকারের শুরুই তার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে।”

সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষিতদের একটি অংশ জনগণের আমানতের খেয়ানত করছে, অবৈধভাবে মানুষের সম্পদ ও অধিকার দখল করছে। প্রকৃত সুশিক্ষা থাকলে তারা এমন কাজ করত না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ দুইবার স্বাধীনতা অর্জন করেছে—১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে। কিন্তু জনগণের প্রত্যাশা আজও পূরণ হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ব্যর্থতার কারণেই দেশে সামাজিক শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

two × 5 =

About Author Information

বদলগাছীতে সবজি ও মসলা জাতীয় কৃষি পণ্যের দাম কম

গণভোটের রায় উপেক্ষা, মৌলিক সংস্কার থেকে সরে আসছে সরকার: জামায়াত আমির

Update Time : ০৫:৫৮:১৪ pm, Friday, ২৬ জুন ২০২৬

সরকার মৌলিক সংস্কারের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন, স্বাধীন ভোট কমিশন ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন—কোনোটিই সরকার বাস্তবায়ন করতে চায় না। ফলে যেসব কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে অতীতে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেগুলো আগের মতোই বহাল রয়েছে।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ রাষ্ট্রে মৌলিক পরিবর্তনের আশা করেছিল। কিন্তু সংস্কার পরিষদের গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের সমর্থন পাওয়া প্রস্তাবগুলো বর্তমান সরকার উপেক্ষা করেছে। তাঁর ভাষায়, “একটি ভোটের মূল্যায়ন করা হলো, আরেকটি ভোট ফেলে দেওয়া হলো। অথচ দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দল—উভয়েই নির্বাচনের আগে গণভোটের ফল মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু জনগণের রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ কারণে বিরোধী দল সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছে এবং ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে।

সরকারের চার মাসের সময়কাল নিয়ে যে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তা প্রত্যাখ্যান করে জামায়াত আমির বলেন, “একটি রাষ্ট্রের ভিত্তিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দিনের শুরু যেমন পুরো দিনের ইঙ্গিত দেয়, তেমনি সরকারের শুরুই তার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে।”

সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষিতদের একটি অংশ জনগণের আমানতের খেয়ানত করছে, অবৈধভাবে মানুষের সম্পদ ও অধিকার দখল করছে। প্রকৃত সুশিক্ষা থাকলে তারা এমন কাজ করত না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ দুইবার স্বাধীনতা অর্জন করেছে—১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে। কিন্তু জনগণের প্রত্যাশা আজও পূরণ হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ব্যর্থতার কারণেই দেশে সামাজিক শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

শু/সবা