11:29 pm, Friday, 26 June 2026

দেশকে জুয়া ও মাদকমুক্ত করতে কঠোর পদক্ষেপ, সংসদে আসছে আইন সংশোধনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশকে জুয়া ও মাদকমুক্ত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, যুবসমাজকে মাদক ও জুয়ার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে কাজ করছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে জনমিতিক লভ্যাংশের গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। দেশের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়তে তরুণ সমাজকে অবশ্যই মাদকমুক্ত রাখতে হবে। এ লক্ষ্যেই সরকার কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

তিনি জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করতে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধনী) বিল’ উত্থাপন করা হবে। সংশোধিত আইনের মাধ্যমে অধিদপ্তরকে স্বতন্ত্র ও কার্যকর সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কর্মকর্তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ৯ এমএম পিস্তলসহ প্রয়োজনীয় অস্ত্রও দেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় স্থানে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রাখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মাদক শনাক্তে প্রতিটি জেলায় আধুনিক কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি স্থাপন, ডগ স্কোয়াড সংযোজন এবং আসামিদের জন্য হাজতখানা নির্মাণের প্রস্তাবও নতুন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক ও জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এনক্রিপ্টেড অ্যাপ এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা ও অর্থপাচার বাড়ছে। এসব অপরাধ দমনে আইনি কাঠামো যুগোপযোগী করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার শুধু খুচরা বিক্রেতাদের নয়, মাদক ব্যবসার মূল হোতা ও অর্থ জোগানদাতাদের আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর। মাদকের অর্থে অর্জিত অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার কঠোর বিধানও সংশোধিত আইনে যুক্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ৯টি মানি লন্ডারিং মামলা করেছে এবং আরও ২৩টি মামলার তদন্ত চলছে।

মন্ত্রী জানান, উত্তরার মতো এলাকায় কিটামিন উৎপাদন ল্যাবরেটরি শনাক্ত হওয়া প্রমাণ করে অপরাধীরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তাই সিনথেটিক ও নতুন ধরনের মাদক মোকাবিলায় আইন ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

মাদকাসক্তদের অপরাধী নয়, রোগী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভাগীয় পর্যায়ে ২০০ শয্যার সরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অ্যাডিকশন প্রফেশনালদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে মাদকবিরোধী প্রামাণ্যচিত্র ও থিম সং প্রদর্শন, বার্ষিক মাদক প্রতিবেদন ও স্মারক প্রকাশ এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এ বছরের আন্তর্জাতিক দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল—‘বিশ্ব মাদক সমস্যা: বিদ্যমান ইস্যু, নতুন চ্যালেঞ্জ, উদ্ভাবনী প্রতিক্রিয়া’।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

3 − 1 =

About Author Information

বদলগাছীতে সবজি ও মসলা জাতীয় কৃষি পণ্যের দাম কম

দেশকে জুয়া ও মাদকমুক্ত করতে কঠোর পদক্ষেপ, সংসদে আসছে আইন সংশোধনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : ০৬:২৩:২৮ pm, Friday, ২৬ জুন ২০২৬

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশকে জুয়া ও মাদকমুক্ত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, যুবসমাজকে মাদক ও জুয়ার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে কাজ করছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে জনমিতিক লভ্যাংশের গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। দেশের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়তে তরুণ সমাজকে অবশ্যই মাদকমুক্ত রাখতে হবে। এ লক্ষ্যেই সরকার কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

তিনি জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করতে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধনী) বিল’ উত্থাপন করা হবে। সংশোধিত আইনের মাধ্যমে অধিদপ্তরকে স্বতন্ত্র ও কার্যকর সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কর্মকর্তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ৯ এমএম পিস্তলসহ প্রয়োজনীয় অস্ত্রও দেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় স্থানে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রাখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মাদক শনাক্তে প্রতিটি জেলায় আধুনিক কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি স্থাপন, ডগ স্কোয়াড সংযোজন এবং আসামিদের জন্য হাজতখানা নির্মাণের প্রস্তাবও নতুন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক ও জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এনক্রিপ্টেড অ্যাপ এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা ও অর্থপাচার বাড়ছে। এসব অপরাধ দমনে আইনি কাঠামো যুগোপযোগী করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার শুধু খুচরা বিক্রেতাদের নয়, মাদক ব্যবসার মূল হোতা ও অর্থ জোগানদাতাদের আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর। মাদকের অর্থে অর্জিত অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার কঠোর বিধানও সংশোধিত আইনে যুক্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ৯টি মানি লন্ডারিং মামলা করেছে এবং আরও ২৩টি মামলার তদন্ত চলছে।

মন্ত্রী জানান, উত্তরার মতো এলাকায় কিটামিন উৎপাদন ল্যাবরেটরি শনাক্ত হওয়া প্রমাণ করে অপরাধীরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তাই সিনথেটিক ও নতুন ধরনের মাদক মোকাবিলায় আইন ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

মাদকাসক্তদের অপরাধী নয়, রোগী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভাগীয় পর্যায়ে ২০০ শয্যার সরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অ্যাডিকশন প্রফেশনালদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে মাদকবিরোধী প্রামাণ্যচিত্র ও থিম সং প্রদর্শন, বার্ষিক মাদক প্রতিবেদন ও স্মারক প্রকাশ এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এ বছরের আন্তর্জাতিক দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল—‘বিশ্ব মাদক সমস্যা: বিদ্যমান ইস্যু, নতুন চ্যালেঞ্জ, উদ্ভাবনী প্রতিক্রিয়া’।

শু/সবা