উজানে ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ভাঙনের কবলে পড়া রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান কার্যালয়ের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ভাস্কর কান্তি চৌধুরী, ভবন ব্যবস্থাপনা ও সেতু বাস্তবায়ন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবাদত আলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলী তাপস চক্রবর্তী গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে তারা বাঁশের পাইলিং দিয়ে নির্মিত স্পার এবং নৌকাযোগে তিস্তা নদীর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় নদীর গতি-প্রকৃতি, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এলজিইডির কর্মকর্তারা জানান, বিশেষজ্ঞ দলের মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় চলমান ভাঙন ঠেকাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এলজিইডির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবাদত আলী বলেন, গত বছর বুয়েটের এক প্রকৌশলীর গবেষণার ভিত্তিতে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের পাইলিংয়ের মাধ্যমে তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধের সুরক্ষামূলক কাজ করা হয়েছিল। সীমিত বাজেটের ওই কাজ চলতি বছরের তীব্র স্রোতের মধ্যেও বাঁধকে আংশিকভাবে রক্ষা করেছে।
তিনি বলেন, “এ বছরও ভাঙন দেখা দেওয়ায় আমরা পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেছি। আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বুয়েটের নদী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পুনরায় এলাকা পরিদর্শন করে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে তাৎক্ষণিক করণীয় নির্ধারণের কাজ চলছে।”
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব, নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, এলজিইডি রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মূসা, গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার, লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী এবং উপজেলা বিএনপি নেতা ওয়াহেদুজ্জামান মাবুসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
এদিকে উজানের ঢলে বেড়ে যাওয়া তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল ৩টায় তিস্তার ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার এবং কাউনিয়া পয়েন্টে ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
রংপুর ব্যুরো: 





















