1:28 pm, Saturday, 27 June 2026

বাগানে পাতার চেয়ে ফল বেশি, দৃষ্টি কাড়ছে পাঁচবিবির আম বাগান

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মহীপুর খিরাপাতার এক সময়ের ঝোপঝাড় ও আগাছায় পরিপূর্ণ পতিত জমি আজ পরিণত হয়েছে সবুজে ঘেরা বিশাল আম বাগানে। বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় আম ঝুলছে। ফলের ভারে অনেক গাছের ডাল মাটির দিকে নুয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, এ বাগানে যেন পাতার চেয়ে ফলই বেশি।

মহীপুর হাজী মহসীন সরকারি কলেজের পূর্ব পাশে প্রায় দেড়শ বিঘা জমিতে গড়ে উঠেছে এই আম বাগান। কয়েক বছর আগে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার বাসিন্দা ও একটি ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ আইয়ুব আলী লিজ নিয়ে পতিত জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের চারা রোপণ করে। পরিকল্পিত পরিচর্যা ও নিরলস পরিশ্রমের ফল হিসেবে এবার প্রথমবারের মতো প্রায় প্রতিটি গাছেই ব্যাপক ফলন এসেছে।

বাগান ঘুরে দেখা যায়, আমের ভারে অনেক ডাল নুয়ে পড়েছে। বাগানে প্রায় ২০ হাজারের বেশি বিভিন্ন জাতের আমগাছ রয়েছে। এর মধ্যে আম্রপালি, বারি-৪, নাক ফজলি, হাঁড়িভাঙ্গা, চোষা, ল্যাংড়া, ব্যানানা, খিরশাপাতিসহ প্রায় ১২টি জাতের আম চাষ করা হয়েছে।

বাগান মালিক আইয়ুব আলী জানান, এই বাগান গড়ে তুলতে প্রায় এক কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে । তিনি বলেন, গত কয়েক বছর নতুন গাছে অল্প পরিমাণ আম ধরেছিল। তবে এবার প্রায় প্রতিটি গাছেই প্রচুর ফল এসেছে। বাজারদর অনুকূলে থাকলে উৎপাদন খরচ উঠিয়ে ভালো লাভের আশা করছি।

আমের মৌসুমে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক বাগানে কাজ করছেন। ফলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এলাকার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে আটাপুর ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান আ. স. ম. সামছুল আরেফিন চৌধুরী আবু বলেন, ছোটবেলা থেকে এই জায়গাটিকে আগাছা ও জঙ্গলে ভরা পতিত জমি হিসেবেই দেখে আসছি। আজ সেখানে চোখজুড়ানো বিশাল আম বাগান গড়ে উঠেছে। এই বাগান শুধু এলাকার সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, অনেক মানুষের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

আইয়ুব আলী বলেন, একসময় এই জমিতে মানুষ যেতে ভয় পেত। আজ সেই জমিতেই হাজার হাজার আম ধরেছে। সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত পরিচর্যা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পতিত জমিকেও সোনার ফসলে পরিণত করা সম্ভব।”

তিনি দেশের বেকার শিক্ষিত তরুণদের উদ্দেশে বলেন, হাত গুটিয়ে বসে না থেকে ছোট-বড় যেকোনো উৎপাদনমুখী কাজে এগিয়ে আসুন। আন্তরিকতা ও পরিশ্রম থাকলে সফলতা অবশ্যই আসবে।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

three × 5 =

About Author Information

বদলগাছীতে সবজি ও মসলা জাতীয় কৃষি পণ্যের দাম কম

বাগানে পাতার চেয়ে ফল বেশি, দৃষ্টি কাড়ছে পাঁচবিবির আম বাগান

Update Time : ০৬:৫৫:৪৮ pm, Friday, ২৬ জুন ২০২৬
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মহীপুর খিরাপাতার এক সময়ের ঝোপঝাড় ও আগাছায় পরিপূর্ণ পতিত জমি আজ পরিণত হয়েছে সবুজে ঘেরা বিশাল আম বাগানে। বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় আম ঝুলছে। ফলের ভারে অনেক গাছের ডাল মাটির দিকে নুয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, এ বাগানে যেন পাতার চেয়ে ফলই বেশি।

মহীপুর হাজী মহসীন সরকারি কলেজের পূর্ব পাশে প্রায় দেড়শ বিঘা জমিতে গড়ে উঠেছে এই আম বাগান। কয়েক বছর আগে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার বাসিন্দা ও একটি ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ আইয়ুব আলী লিজ নিয়ে পতিত জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের চারা রোপণ করে। পরিকল্পিত পরিচর্যা ও নিরলস পরিশ্রমের ফল হিসেবে এবার প্রথমবারের মতো প্রায় প্রতিটি গাছেই ব্যাপক ফলন এসেছে।

বাগান ঘুরে দেখা যায়, আমের ভারে অনেক ডাল নুয়ে পড়েছে। বাগানে প্রায় ২০ হাজারের বেশি বিভিন্ন জাতের আমগাছ রয়েছে। এর মধ্যে আম্রপালি, বারি-৪, নাক ফজলি, হাঁড়িভাঙ্গা, চোষা, ল্যাংড়া, ব্যানানা, খিরশাপাতিসহ প্রায় ১২টি জাতের আম চাষ করা হয়েছে।

বাগান মালিক আইয়ুব আলী জানান, এই বাগান গড়ে তুলতে প্রায় এক কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে । তিনি বলেন, গত কয়েক বছর নতুন গাছে অল্প পরিমাণ আম ধরেছিল। তবে এবার প্রায় প্রতিটি গাছেই প্রচুর ফল এসেছে। বাজারদর অনুকূলে থাকলে উৎপাদন খরচ উঠিয়ে ভালো লাভের আশা করছি।

আমের মৌসুমে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক বাগানে কাজ করছেন। ফলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এলাকার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে আটাপুর ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান আ. স. ম. সামছুল আরেফিন চৌধুরী আবু বলেন, ছোটবেলা থেকে এই জায়গাটিকে আগাছা ও জঙ্গলে ভরা পতিত জমি হিসেবেই দেখে আসছি। আজ সেখানে চোখজুড়ানো বিশাল আম বাগান গড়ে উঠেছে। এই বাগান শুধু এলাকার সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, অনেক মানুষের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

আইয়ুব আলী বলেন, একসময় এই জমিতে মানুষ যেতে ভয় পেত। আজ সেই জমিতেই হাজার হাজার আম ধরেছে। সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত পরিচর্যা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পতিত জমিকেও সোনার ফসলে পরিণত করা সম্ভব।”

তিনি দেশের বেকার শিক্ষিত তরুণদের উদ্দেশে বলেন, হাত গুটিয়ে বসে না থেকে ছোট-বড় যেকোনো উৎপাদনমুখী কাজে এগিয়ে আসুন। আন্তরিকতা ও পরিশ্রম থাকলে সফলতা অবশ্যই আসবে।

শু/সবা