চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা আপিল বিভাগের রায়ে বাতিল হওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ কেটে সড়ক অবরোধের ঘটনায় ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১ জুলাই) সীতাকুণ্ড মডেল থানায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, সরকারি গাছ কেটে মহাসড়ক অবরোধ ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও পর্যালোচনা করে অন্যদের শনাক্তের কাজ চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে আপিল বিভাগের রায়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভে নামেন। বেলা ১২টা থেকে বিকেল পর্যন্ত সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট দারোগারহাট, কুমিরা, বাড়বকুণ্ড ও বাঁশবাড়িয়াসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একাধিক স্থানে রাস্তার পাশের সরকারি গাছ ইলেকট্রিক করাত দিয়ে কেটে সড়কের ওপর ফেলে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। কয়েকটি স্থানে টায়ারে আগুনও দেওয়া হয়।
এতে মহাসড়কের উভয় লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শত শত দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে পড়ে। দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী, কর্মজীবী মানুষ, পরীক্ষার্থী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনের যাত্রীরা।
খবর পেয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও আইনশৃলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়কের ওপর ফেলে রাখা গাছ সরিয়ে দেন। পরে ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, প্রার্থিতা বাতিলের রায়ের পর বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা কয়েকটি স্থানে গাছ ফেলে মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় সওজ বিভাগের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের পরিচয় পরে জানানো হবে। অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারি আনোয়ার সিদ্দিকীর করা আপিলের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে আসলাম চৌধুরীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ স্থগিত রেখেছিলেন। পরে ৩০ জুন ঘোষিত রায়ে আপিল বিভাগ তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করে। আইনজীবীদের মতে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন পরবর্তী বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 














