7:51 pm, Wednesday, 1 July 2026

৮৫ হাজারে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর কথা বলায় সিন্ডিকেট হুমকি দিচ্ছে: ডা. শফিকুর রহমান

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মালয়েশিয়ায় ৮৫ হাজার টাকায় কর্মী পাঠানোর দাবি সংসদে তোলার পর একটি সিন্ডিকেট তার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়েছে এবং হুমকি দিচ্ছে। তবে জনগণের স্বার্থে কথা বলতে গিয়ে কোনো সিন্ডিকেটের হুমকিকে তিনি ভয় পান না বলে জানিয়েছেন।

বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে বাজেট-পরবর্তী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে তিনি মালয়েশিয়ায় কম খরচে কর্মী পাঠানোর দাবি তুলেছেন এবং দালাল চক্রকে আইনের আওতায় আনার কথা বলেছেন। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ না করলেও একটি মহল ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।

তিনি বলেন, “জনগণের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে সিন্ডিকেটের কোনো হুমকির তোয়াক্কা করব না, ইনশাআল্লাহ। আমরা প্রবাসীদের স্বার্থে সংসদের ভেতরে-বাইরে সোচ্চার থাকব।”

প্রবাসী কর্মীদের বিভিন্ন দেশে প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর নামে গরিব মানুষকে নিঃস্ব করা হচ্ছে। অনেকেই বিদেশে গিয়ে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় কারাভোগও করছেন। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

মুদি দোকানিদের ওপর অগ্রিম কর আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাহারের বিষয়টিকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে তাদের আপত্তির কারণেই সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।

অর্থবছর পরিবর্তনের প্রস্তাবের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের আবহাওয়া ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থবছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা উচিত। এতে উন্নয়ন প্রকল্পের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি কাজের প্রবণতা কমবে এবং জনগণের অর্থ অপচয় রোধ হবে।

সাইকেলের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের ওপর কর আরোপের প্রস্তাব নিয়েও আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, এ শিল্পকে উৎসাহিত করলে কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে। অতিরিক্ত কর আরোপ করলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশ পিছিয়ে পড়বে।

সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তারা করমুক্ত গাড়ি বা সরকারি প্লট নেবেন না। তবে সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত সরকারি ফ্ল্যাট দায়িত্ব পালনের জন্য সাময়িকভাবে ব্যবহার করা হয়, এটি ব্যক্তিগত মালিকানায় দেওয়া হয় না।

বাজেট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শুধু বড় বাজেট করাই সাফল্য নয়; মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ। এই দুই ক্ষেত্রে সংস্কার ছাড়া জনগণ বাজেটের প্রকৃত সুফল পাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আজাদ, এস মাহমুদ জুবায়ের, নূরুল ইসলাম বুলবুল, সেলিম উদ্দিনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

3 × two =

About Author Information

Popular Post

পানির সংকট নিরসনে ৫টি গভীর নলকূপ বসানো হচ্ছে

৮৫ হাজারে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর কথা বলায় সিন্ডিকেট হুমকি দিচ্ছে: ডা. শফিকুর রহমান

Update Time : ০৫:৫৪:৩৬ pm, Wednesday, ১ জুলাই ২০২৬

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মালয়েশিয়ায় ৮৫ হাজার টাকায় কর্মী পাঠানোর দাবি সংসদে তোলার পর একটি সিন্ডিকেট তার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়েছে এবং হুমকি দিচ্ছে। তবে জনগণের স্বার্থে কথা বলতে গিয়ে কোনো সিন্ডিকেটের হুমকিকে তিনি ভয় পান না বলে জানিয়েছেন।

বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে বাজেট-পরবর্তী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে তিনি মালয়েশিয়ায় কম খরচে কর্মী পাঠানোর দাবি তুলেছেন এবং দালাল চক্রকে আইনের আওতায় আনার কথা বলেছেন। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ না করলেও একটি মহল ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।

তিনি বলেন, “জনগণের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে সিন্ডিকেটের কোনো হুমকির তোয়াক্কা করব না, ইনশাআল্লাহ। আমরা প্রবাসীদের স্বার্থে সংসদের ভেতরে-বাইরে সোচ্চার থাকব।”

প্রবাসী কর্মীদের বিভিন্ন দেশে প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর নামে গরিব মানুষকে নিঃস্ব করা হচ্ছে। অনেকেই বিদেশে গিয়ে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় কারাভোগও করছেন। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

মুদি দোকানিদের ওপর অগ্রিম কর আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাহারের বিষয়টিকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে তাদের আপত্তির কারণেই সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।

অর্থবছর পরিবর্তনের প্রস্তাবের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের আবহাওয়া ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থবছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা উচিত। এতে উন্নয়ন প্রকল্পের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি কাজের প্রবণতা কমবে এবং জনগণের অর্থ অপচয় রোধ হবে।

সাইকেলের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের ওপর কর আরোপের প্রস্তাব নিয়েও আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, এ শিল্পকে উৎসাহিত করলে কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে। অতিরিক্ত কর আরোপ করলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশ পিছিয়ে পড়বে।

সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তারা করমুক্ত গাড়ি বা সরকারি প্লট নেবেন না। তবে সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত সরকারি ফ্ল্যাট দায়িত্ব পালনের জন্য সাময়িকভাবে ব্যবহার করা হয়, এটি ব্যক্তিগত মালিকানায় দেওয়া হয় না।

বাজেট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শুধু বড় বাজেট করাই সাফল্য নয়; মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ। এই দুই ক্ষেত্রে সংস্কার ছাড়া জনগণ বাজেটের প্রকৃত সুফল পাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আজাদ, এস মাহমুদ জুবায়ের, নূরুল ইসলাম বুলবুল, সেলিম উদ্দিনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শু/সবা