০২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফেনীর গ্রীন টাউন বাস সার্ভিস অচল

দেড় যুগ আগে আগে চালু হওয়া ‘গ্রীন টাউন বাস সার্ভিস’ এখন বন্ধ হওয়ার
পথে। ফেনী শহরে যানজট নিরসনে এটি বেশ সাড়াও ফেলেছিল। রিক্সা ও
সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দিন দিন কমে গেছে বাস।
ফেনী শহরের দুটি রুটে ৫২টি বাস চলাচল করতো। মহিপাল রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায়
২০টি বাসের ৬০-৭০ শ্রমিক অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন। মালিকরা লোকসান
গুনতে থাকায় অনেক বাস কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন।
সম্প্রতি পৌরসভার উদ্যোগে শহর এলাকার উল্লিখিত দুটি রুটে সিএনজি
চালিত পৌর অটোরিকশা চালু হয়। তবে পৌরসভার নির্ধারিত গাড়ির বাইরেও
অসংখ্য গাড়ি চলাচল করছে। টাউন সার্ভিসের জন্য নির্ধারিত স্থান এমনকি
সড়ক দখল করে অটোরিকশায় যাত্রী ওঠানামা করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মহিপাল
থেকে হাসপাতাল মোড় রুটে বন্ধ হয়ে যায় টাউন সার্ভিস।
ফেনী পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী জানান, ছোট শহর হিসেবে টাউন
সার্ভিস বাসের পাশাপাশি পৌর অটোরিকশা সার্ভিস চালু করেছি। মানুষ
দ্রুত ও আরামদায়ক সেবা পেতে চায়। অটোরিকশা সার্ভিস মানুষের যাতায়াতকে
আরও সহজ করে তুলেছে। অনুমোদনহীন অটোরিকশা চলাচল বন্ধে জেলা প্রশাসন ও
বিআরটিএর সহযোগিতায় অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানান।
প্রবাসী সজীব ওছমান জানান, ‘কম খরচে নিম্নআয়ের যাত্রীদের জন্য এ বাস
সার্ভিস অতুলনীয়। যানজট নিরসনে এটি ছিল অসাধারণ উদ্যোগ। বর্তমানে
মাত্রাতিরিক্ত রিক্সা ও সিএনজির কবলে ফেনী শহর। অসংখ্য অনুমোদনহীন সিএনজি
সড়কে পার্কিং করে যানজট তৈরি করছে। জনজীবনকে বিষিয়ে তুলেছে তারা।’
একাধিক বাসমালিক ও চালক জানান, এখন শুধু লালপোল থেকে হাসপাতাল মোড়
রুটে টাউন সার্ভিসের বাস চলছে। বাসের সংখ্যাও আগের তুলনায় অর্ধেকে
নেমেছে। যেগুলো চলাচল করছে সেগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিয়ে-শাদি ও অন্যান্য
সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা হয়। শহরে বাস সার্ভিস এখন বন্ধের পথে।
সানরাইজ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা সদস্য মু. ইকবাল চৌধুরী জানান, যানজট
নিরসনে শহর থেকে সব বাসস্ট্যান্ড অপসারণ ও গাড়ি চলাচল বন্ধ করা হয়। এতে শহরে
রিকশার দাপট বেড়ে যায়। ফলে যানজট না কমে বরং বেড়ে যায়। তাই জনগণের
দুর্ভোগ ও যানজট নিরসনে পৌর কর্তৃপক্ষ শহরে গ্রীনটাউন বাস সার্ভিস

চালু করেছিল। এতে শহরবাসী খুশি হয়েছিল। তবে সড়কে এখন আগের মত বাস
চলাচল করতে দেখা যায় না।
ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল
আজিজ সায়েম জানায়, মহিপাল থেকে কলেজে যেতে টাউন সার্ভিসে ১০ টাকার
ভাড়া এখন ২০ টাকা গুনতে হয়। সার্ভিসটি এখন বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে
সিএনজিতে যাতায়াত করি।
জানা যায়, ২০০৫ সালের ১১ আগস্ট শহরে গ্রীনটাউন বাস সার্ভিসের সূচনা
করেন সাবেক মেয়র নুরুল আবছার। সবগুলো বাস একই রঙে রঙিন করা হয়। শহরের
অসহনীয় যানজট নিরসনে এ উদ্যোগ যাত্রীদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়। তখন
প্রতিটি বাসেই উপচেপড়া ভিড় ছিল লক্ষণীয়। ২২টি বাস দিয়ে এ সার্ভিস শুরু
হলেও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পর্যায়ক্রমে শহরতলীর বিসিক শিল্পনগরী ও ফেনী-
নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের তেমুহনী, অপরপ্রান্তে রানীরহাট পর্যন্ত রুট
বাড়ানো হয়। একইসঙ্গে বাড়ানো হয় বাসের সংখ্যাও। এ দুটি রুটে
অধশর্তাধিক বাস চলতো। প্রথমে সর্বনিম্ন ভাড়া দুই টাকা নির্ধারণ করা
হলেও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরে পাঁচ টাকা করা হয়।
মোবারক হোসেন নামে এক লাইনম্যান বলেন, ‘একটি রুট বন্ধ হওয়ায় এখন ১৫
দিন ডিউটি করি, বাকি ১৫ দিন বেকার বসে থাকতে হয়। এ রুটে আমরা দুজন
লাইনম্যান মাসে ১৫ দিন করে কাজ করি।’
গ্রীনটাউন সার্ভিস বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিনের
বলেন, এ সার্ভিসের সঙ্গে সম্পৃক্তরা কোনোরকম জীবনযাপন করছেন। মহিপাল
রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অনেকেই গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন। অনেকে এ পেশা
ছেড়ে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী বলেন, টাউন
সার্ভিস বাস পৌর নাগরিকদের চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বিশেষ
করে শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষ এ পরিবহনটি বেশি ব্যবহার করেন। তাদের কথা
চিন্তা করেই আমরা এটি আরও আধুনিকায়ন করবো। যে রুটে টাউন সার্ভিস
বন্ধ রয়েছে সে রুট সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেনীর গ্রীন টাউন বাস সার্ভিস অচল

আপডেট সময় : ০৩:৫৪:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৪

দেড় যুগ আগে আগে চালু হওয়া ‘গ্রীন টাউন বাস সার্ভিস’ এখন বন্ধ হওয়ার
পথে। ফেনী শহরে যানজট নিরসনে এটি বেশ সাড়াও ফেলেছিল। রিক্সা ও
সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দিন দিন কমে গেছে বাস।
ফেনী শহরের দুটি রুটে ৫২টি বাস চলাচল করতো। মহিপাল রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায়
২০টি বাসের ৬০-৭০ শ্রমিক অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন। মালিকরা লোকসান
গুনতে থাকায় অনেক বাস কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন।
সম্প্রতি পৌরসভার উদ্যোগে শহর এলাকার উল্লিখিত দুটি রুটে সিএনজি
চালিত পৌর অটোরিকশা চালু হয়। তবে পৌরসভার নির্ধারিত গাড়ির বাইরেও
অসংখ্য গাড়ি চলাচল করছে। টাউন সার্ভিসের জন্য নির্ধারিত স্থান এমনকি
সড়ক দখল করে অটোরিকশায় যাত্রী ওঠানামা করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মহিপাল
থেকে হাসপাতাল মোড় রুটে বন্ধ হয়ে যায় টাউন সার্ভিস।
ফেনী পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী জানান, ছোট শহর হিসেবে টাউন
সার্ভিস বাসের পাশাপাশি পৌর অটোরিকশা সার্ভিস চালু করেছি। মানুষ
দ্রুত ও আরামদায়ক সেবা পেতে চায়। অটোরিকশা সার্ভিস মানুষের যাতায়াতকে
আরও সহজ করে তুলেছে। অনুমোদনহীন অটোরিকশা চলাচল বন্ধে জেলা প্রশাসন ও
বিআরটিএর সহযোগিতায় অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানান।
প্রবাসী সজীব ওছমান জানান, ‘কম খরচে নিম্নআয়ের যাত্রীদের জন্য এ বাস
সার্ভিস অতুলনীয়। যানজট নিরসনে এটি ছিল অসাধারণ উদ্যোগ। বর্তমানে
মাত্রাতিরিক্ত রিক্সা ও সিএনজির কবলে ফেনী শহর। অসংখ্য অনুমোদনহীন সিএনজি
সড়কে পার্কিং করে যানজট তৈরি করছে। জনজীবনকে বিষিয়ে তুলেছে তারা।’
একাধিক বাসমালিক ও চালক জানান, এখন শুধু লালপোল থেকে হাসপাতাল মোড়
রুটে টাউন সার্ভিসের বাস চলছে। বাসের সংখ্যাও আগের তুলনায় অর্ধেকে
নেমেছে। যেগুলো চলাচল করছে সেগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিয়ে-শাদি ও অন্যান্য
সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা হয়। শহরে বাস সার্ভিস এখন বন্ধের পথে।
সানরাইজ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা সদস্য মু. ইকবাল চৌধুরী জানান, যানজট
নিরসনে শহর থেকে সব বাসস্ট্যান্ড অপসারণ ও গাড়ি চলাচল বন্ধ করা হয়। এতে শহরে
রিকশার দাপট বেড়ে যায়। ফলে যানজট না কমে বরং বেড়ে যায়। তাই জনগণের
দুর্ভোগ ও যানজট নিরসনে পৌর কর্তৃপক্ষ শহরে গ্রীনটাউন বাস সার্ভিস

চালু করেছিল। এতে শহরবাসী খুশি হয়েছিল। তবে সড়কে এখন আগের মত বাস
চলাচল করতে দেখা যায় না।
ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল
আজিজ সায়েম জানায়, মহিপাল থেকে কলেজে যেতে টাউন সার্ভিসে ১০ টাকার
ভাড়া এখন ২০ টাকা গুনতে হয়। সার্ভিসটি এখন বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে
সিএনজিতে যাতায়াত করি।
জানা যায়, ২০০৫ সালের ১১ আগস্ট শহরে গ্রীনটাউন বাস সার্ভিসের সূচনা
করেন সাবেক মেয়র নুরুল আবছার। সবগুলো বাস একই রঙে রঙিন করা হয়। শহরের
অসহনীয় যানজট নিরসনে এ উদ্যোগ যাত্রীদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়। তখন
প্রতিটি বাসেই উপচেপড়া ভিড় ছিল লক্ষণীয়। ২২টি বাস দিয়ে এ সার্ভিস শুরু
হলেও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পর্যায়ক্রমে শহরতলীর বিসিক শিল্পনগরী ও ফেনী-
নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের তেমুহনী, অপরপ্রান্তে রানীরহাট পর্যন্ত রুট
বাড়ানো হয়। একইসঙ্গে বাড়ানো হয় বাসের সংখ্যাও। এ দুটি রুটে
অধশর্তাধিক বাস চলতো। প্রথমে সর্বনিম্ন ভাড়া দুই টাকা নির্ধারণ করা
হলেও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরে পাঁচ টাকা করা হয়।
মোবারক হোসেন নামে এক লাইনম্যান বলেন, ‘একটি রুট বন্ধ হওয়ায় এখন ১৫
দিন ডিউটি করি, বাকি ১৫ দিন বেকার বসে থাকতে হয়। এ রুটে আমরা দুজন
লাইনম্যান মাসে ১৫ দিন করে কাজ করি।’
গ্রীনটাউন সার্ভিস বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিনের
বলেন, এ সার্ভিসের সঙ্গে সম্পৃক্তরা কোনোরকম জীবনযাপন করছেন। মহিপাল
রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অনেকেই গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন। অনেকে এ পেশা
ছেড়ে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী বলেন, টাউন
সার্ভিস বাস পৌর নাগরিকদের চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বিশেষ
করে শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষ এ পরিবহনটি বেশি ব্যবহার করেন। তাদের কথা
চিন্তা করেই আমরা এটি আরও আধুনিকায়ন করবো। যে রুটে টাউন সার্ভিস
বন্ধ রয়েছে সে রুট সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।