০২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুখ খুললেন মেসি

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে চীন সফরে হংকং একাদশের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলে ইন্টার মায়ামি। ৪-১ ব্যবধানে জয়ের ওই ম্যাচে পুরোটা সময় বেঞ্চে বসে কাটান লিওনেল মেসি। হংকং একাদশের বিপক্ষে মেসির মাঠে না নামা নিয়ে চর্চা চলছে এখনও। মেজর সকার লিগের ক্লাব ও আর্জেন্টাইন মহাতারকার ব্যাখ্যায়ও দর্শকদের অসন্তোষ কমেনি। প্রায় দুই সপ্তাহ পর মেসি আবার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে এক ভিডিও বার্তায় বললেন, ‘অনেক চেষ্টার পরও সেদিন চোটের কারণেই খেলতে পারেননি তিনি।’

৪০ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়ামে সেদিন তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। ৫ হাজার হংকং ডলারে (৬৪০ মার্কিন ডলার) টিকেট কেটেও খেলা দেখেন অনেকে। মেসি মাঠে না নামায় খেলা চলার সময় স্লোগান দিতে থাকেন দর্শকরা। ম্যাচের শেষ দিকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় অনেককে। টিকেটের অর্থ ফেরত চেয়ে অনেকে বলতে থাকেন, ‘রিফান্ড-রিফান্ড।’

খেলেননি বলেই দর্শকদের পাশাপাশি হংকংয়ের রাজনীতিবিদরা এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সমালোচনায় সরব হয় চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম। আগামী মাসে চীনের হাংঝুতে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল আর্জেন্টিনার। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ম্যাচটি ইতোমধ্যে বাতিল করে দিয়েছে দেশটির ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ। সবকিছু শান্ত করার উদ্দেশ্যে সোমবার মেসি চীনের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ‘উইবো’-তে সেদিনের ঘটনা তুলে ধরেছেন, ‘হংকং ম্যাচের পর অনেক কথা বলা হয়েছে, সেসব শুনেছি ও পড়েছি। সত্যিকারের কারণ জানাতে, কারো যেন ভুল কোনো তথ্য পড়তে না হয়, সেজন্যই ভিডিও বার্তা দিচ্ছি। অনেককে বলতে শুনেছি যে, রাজনৈতিক কারণে ওই ম্যাচে খেলিনি। আরও অনেক কথা বলা হয়েছে, যার কোনোটিই সত্যি নয়।’

প্রবল চাপের মুখে দর্শকদের টিকেটের অর্ধেক অর্থ ফেরত দেওয়ার কথাও জানায় আয়োজকরা। তখন তাদের পক্ষ থেকেও মেসিকে না খেলানোর যথার্থ কারণ জানতে চাওয়া হয়েছিল। ওই ম্যাচের তিন দিন পর জাপান সফরে দেশটির ক্লাব ভিসেল কোবের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে বদলি হিসেবে ৩০ মিনিটের বেশি সময় খেলেন আটবারের ব্যালন দ’র জয়ী, তাতে হংকংয়ের দর্শকদের ক্ষোভ বাড়ে আরও। এই বিষয়টিও খোলাসা করলেন মেসি। পরিষ্কার করে বললেন, রাজনৈতিক কোনো কারণ ছিল না, ‘এটাই যদি কারণ হতো, তাহলে আমি জাপানে যেতাম না, চীনেও সফর করতাম না, যা আগেও অনেকবার আমি করেছি। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে চীনের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ট ও বিশেষ একটা সম্পর্ক আছে। আগে সংবাদ সম্মেলনে যেমনটা বলেছিলাম, আমার পেশিতে চোট ছিল এবং সৌদি আরবে প্রথম ম্যাচেও খেলতে পারিনি আমি। দ্বিতীয় ম্যাচে কিছুটা সময় খেলার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু সমস্যা আরও বাড়ে। হংকং ম্যাচের আগের দিন আমি অনুশীলনের চেষ্টা করি এবং যারা অনুশীলন দেখতে এসেছিলেন তাদের জন্য চেষ্টা করেছিলাম।’

পরে চোটের অবস্থা কিছুটা ভালো হওয়ার কারণেই জাপানে খেলতে পেরেছিলেন বলে জানালেন মেসি। বললেন, ফিটনেস ফিরে পেতে সেটা দরকার ছিল। আগামী মাসে চীনের বেইজিংয়ে আরেক প্রীতি ম্যাচে আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে আর্জেন্টিনার। এই ম্যাচ মাঠে গড়ানো নিয়েও শঙ্কার যথেষ্ট কারণ আছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

 

 

স/মিফা

জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

মুখ খুললেন মেসি

আপডেট সময় : ১১:৫০:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে চীন সফরে হংকং একাদশের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলে ইন্টার মায়ামি। ৪-১ ব্যবধানে জয়ের ওই ম্যাচে পুরোটা সময় বেঞ্চে বসে কাটান লিওনেল মেসি। হংকং একাদশের বিপক্ষে মেসির মাঠে না নামা নিয়ে চর্চা চলছে এখনও। মেজর সকার লিগের ক্লাব ও আর্জেন্টাইন মহাতারকার ব্যাখ্যায়ও দর্শকদের অসন্তোষ কমেনি। প্রায় দুই সপ্তাহ পর মেসি আবার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে এক ভিডিও বার্তায় বললেন, ‘অনেক চেষ্টার পরও সেদিন চোটের কারণেই খেলতে পারেননি তিনি।’

৪০ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়ামে সেদিন তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। ৫ হাজার হংকং ডলারে (৬৪০ মার্কিন ডলার) টিকেট কেটেও খেলা দেখেন অনেকে। মেসি মাঠে না নামায় খেলা চলার সময় স্লোগান দিতে থাকেন দর্শকরা। ম্যাচের শেষ দিকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় অনেককে। টিকেটের অর্থ ফেরত চেয়ে অনেকে বলতে থাকেন, ‘রিফান্ড-রিফান্ড।’

খেলেননি বলেই দর্শকদের পাশাপাশি হংকংয়ের রাজনীতিবিদরা এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সমালোচনায় সরব হয় চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম। আগামী মাসে চীনের হাংঝুতে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল আর্জেন্টিনার। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ম্যাচটি ইতোমধ্যে বাতিল করে দিয়েছে দেশটির ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ। সবকিছু শান্ত করার উদ্দেশ্যে সোমবার মেসি চীনের সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ‘উইবো’-তে সেদিনের ঘটনা তুলে ধরেছেন, ‘হংকং ম্যাচের পর অনেক কথা বলা হয়েছে, সেসব শুনেছি ও পড়েছি। সত্যিকারের কারণ জানাতে, কারো যেন ভুল কোনো তথ্য পড়তে না হয়, সেজন্যই ভিডিও বার্তা দিচ্ছি। অনেককে বলতে শুনেছি যে, রাজনৈতিক কারণে ওই ম্যাচে খেলিনি। আরও অনেক কথা বলা হয়েছে, যার কোনোটিই সত্যি নয়।’

প্রবল চাপের মুখে দর্শকদের টিকেটের অর্ধেক অর্থ ফেরত দেওয়ার কথাও জানায় আয়োজকরা। তখন তাদের পক্ষ থেকেও মেসিকে না খেলানোর যথার্থ কারণ জানতে চাওয়া হয়েছিল। ওই ম্যাচের তিন দিন পর জাপান সফরে দেশটির ক্লাব ভিসেল কোবের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে বদলি হিসেবে ৩০ মিনিটের বেশি সময় খেলেন আটবারের ব্যালন দ’র জয়ী, তাতে হংকংয়ের দর্শকদের ক্ষোভ বাড়ে আরও। এই বিষয়টিও খোলাসা করলেন মেসি। পরিষ্কার করে বললেন, রাজনৈতিক কোনো কারণ ছিল না, ‘এটাই যদি কারণ হতো, তাহলে আমি জাপানে যেতাম না, চীনেও সফর করতাম না, যা আগেও অনেকবার আমি করেছি। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে চীনের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ট ও বিশেষ একটা সম্পর্ক আছে। আগে সংবাদ সম্মেলনে যেমনটা বলেছিলাম, আমার পেশিতে চোট ছিল এবং সৌদি আরবে প্রথম ম্যাচেও খেলতে পারিনি আমি। দ্বিতীয় ম্যাচে কিছুটা সময় খেলার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু সমস্যা আরও বাড়ে। হংকং ম্যাচের আগের দিন আমি অনুশীলনের চেষ্টা করি এবং যারা অনুশীলন দেখতে এসেছিলেন তাদের জন্য চেষ্টা করেছিলাম।’

পরে চোটের অবস্থা কিছুটা ভালো হওয়ার কারণেই জাপানে খেলতে পেরেছিলেন বলে জানালেন মেসি। বললেন, ফিটনেস ফিরে পেতে সেটা দরকার ছিল। আগামী মাসে চীনের বেইজিংয়ে আরেক প্রীতি ম্যাচে আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে আর্জেন্টিনার। এই ম্যাচ মাঠে গড়ানো নিয়েও শঙ্কার যথেষ্ট কারণ আছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

 

 

স/মিফা