০৬:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রংপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে

অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্নে জিম্মি যেন হয়েছে পড়েছে সাধরণ মানুষ। বালু উত্তোলনের ফলে ধ্বংস হচ্ছে রাস্তাঘাট ও বিলীন হচ্ছে কৃষি জমি। অবৈধ বালু ব্যবসায়ীগণ না কি প্রশাসনের মৌখিক অনুমতি নিয়েই বালু উত্তোলনের মহাযজ্ঞ চালাচ্ছে। মৌখিক অনুমতি বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে মনে করেন সচেতন মহল। তারা বলেন, অবৈধ বালু ব্যবসায়ীগণ অদৃশ্য শক্তির বলে বলিয়ান হয়ে প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছে বালু উত্তোলনের মহাযজ্ঞ। জানা যায়, রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখাল ফেডারেশন বাজার সংলগ্ন এলাকায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় মানুষ বলেন, বালু ব্যবসায়ীগণ প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করলেও প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে। মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও বন্ধ হচ্ছে অবৈধ বালু উত্তোলন। ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রভাবশালী বালু খেকোদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। একই ইউনিয়নের কোমরগঞ্জের উঁচা মসজিদের পূর্ব পাশে রাস্তা সংলগ্ন মহাদিপুর সরকারটারি এলাকায় যাদবপুরের পুকুর থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙ্গনের মুখে পাশ্ববর্তী কৃষি জমি। কাফ্রিখাল ইউনিয়নের পাশ্ববর্তী ভাংনী ইউনিয়নের চাঁদপুরে দেখা যায়, ঘাঘট নদী থেকে বালু উত্তোলন করে ট্রাকটর (কাকড়া) দিয়ে পরিবহন করায় ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাংনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,অবৈধ বালু উত্তোলন শুরু করার কিছুদিন পরেই আমি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেছিলাম। রাস্তা নষ্ট না করার জন্য তাদের উপর চাপ প্রয়োগ করেছি। বালু ব্যবসায়ীরা রাস্তায় রাবিস দিয়ে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়াও উপজেলার বৈরাতী নানকর রসুলপুরে নারায়ন মাস্টারের কৃষি জমি থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। রানীপুকুর ইউনিয়নের বলদিপুকুর সিংগিরডোগায় পুকুর থেকে বালু উত্তোলন করছে। ইতিমধ্যে একই স্থানে বালু উত্তোলনের কারণে মামলাও হয়েছিলো। মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ চন্দ্র বর্মণ বলেন, উপজেলায় বালু উত্তোলনের জন্য কাউকে অনুমতি দেয়া হয়নি। অপরদিকে গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘন্টা ইউনিয়নের গাউছিয়া এলাকায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে।

প্রতিদিন ১৫-২০টি ট্রাক দিয়ে নদী থেকে বালু পরিবহণ করছে একটি চক্র। বালু উত্তোলনের ফলে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। একই সাথে নদী- তীরবর্তী বসবাসকারী মানুষের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদী ভাঙনের সম্মুখিন হয়ে পড়বে। উপজেলার গাউছিয়া এলাকায় দেখা যায়, একটি চক্র নিজের ইচ্ছা মতো বালু উত্তোলন করছে। কারও  যেন কিছু বলার নেই। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে একটি মহল কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এভাবে বালু উত্তোলন করলে নদীর গতি পরিবর্তিত হয়ে নদীর পাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে। এলকাবাসী বলেন, গুটিকয়েক মানুষের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এভাবে সর্বনাশ মেনে নেওয়া যায় না। এ ক্ষতি প্রতিরোধ করতে হবে। অবিলম্বে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হবে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বাড়িঘর ও ফসসি জমি তিস্তা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। প্রতিদিন ট্রাকে অবৈধভাবে বালু পরিবহনের কারণে রাস্তার মারাত্নক ক্ষতি হচ্ছে। নদী তীরবর্তী এলাকার জমি দিয়ে ট্রাক চলাচলের অভিযোগ রয়েছে। বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সকলেই প্রভাবশালী বলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় জমির মালিক বলেন, কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না বালু উত্তোলন। তিস্তা নদীতে বালু উত্তোলনের ফলে প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে খেসারত দিতে হয় নদীর তীরবর্তী জমির মালিকদের। ক্ষতি হয় ফসলি জমির। গাছপালা যায় নদীগর্ভে। গঙ্গাচড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার
(ভূমি) নয়ন কুমার সাহা বলেন, বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে

আপডেট সময় : ১১:১৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৪

অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্নে জিম্মি যেন হয়েছে পড়েছে সাধরণ মানুষ। বালু উত্তোলনের ফলে ধ্বংস হচ্ছে রাস্তাঘাট ও বিলীন হচ্ছে কৃষি জমি। অবৈধ বালু ব্যবসায়ীগণ না কি প্রশাসনের মৌখিক অনুমতি নিয়েই বালু উত্তোলনের মহাযজ্ঞ চালাচ্ছে। মৌখিক অনুমতি বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে মনে করেন সচেতন মহল। তারা বলেন, অবৈধ বালু ব্যবসায়ীগণ অদৃশ্য শক্তির বলে বলিয়ান হয়ে প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছে বালু উত্তোলনের মহাযজ্ঞ। জানা যায়, রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখাল ফেডারেশন বাজার সংলগ্ন এলাকায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় মানুষ বলেন, বালু ব্যবসায়ীগণ প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করলেও প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে। মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও বন্ধ হচ্ছে অবৈধ বালু উত্তোলন। ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রভাবশালী বালু খেকোদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। একই ইউনিয়নের কোমরগঞ্জের উঁচা মসজিদের পূর্ব পাশে রাস্তা সংলগ্ন মহাদিপুর সরকারটারি এলাকায় যাদবপুরের পুকুর থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙ্গনের মুখে পাশ্ববর্তী কৃষি জমি। কাফ্রিখাল ইউনিয়নের পাশ্ববর্তী ভাংনী ইউনিয়নের চাঁদপুরে দেখা যায়, ঘাঘট নদী থেকে বালু উত্তোলন করে ট্রাকটর (কাকড়া) দিয়ে পরিবহন করায় ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাংনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,অবৈধ বালু উত্তোলন শুরু করার কিছুদিন পরেই আমি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেছিলাম। রাস্তা নষ্ট না করার জন্য তাদের উপর চাপ প্রয়োগ করেছি। বালু ব্যবসায়ীরা রাস্তায় রাবিস দিয়ে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়াও উপজেলার বৈরাতী নানকর রসুলপুরে নারায়ন মাস্টারের কৃষি জমি থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। রানীপুকুর ইউনিয়নের বলদিপুকুর সিংগিরডোগায় পুকুর থেকে বালু উত্তোলন করছে। ইতিমধ্যে একই স্থানে বালু উত্তোলনের কারণে মামলাও হয়েছিলো। মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ চন্দ্র বর্মণ বলেন, উপজেলায় বালু উত্তোলনের জন্য কাউকে অনুমতি দেয়া হয়নি। অপরদিকে গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘন্টা ইউনিয়নের গাউছিয়া এলাকায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে।

প্রতিদিন ১৫-২০টি ট্রাক দিয়ে নদী থেকে বালু পরিবহণ করছে একটি চক্র। বালু উত্তোলনের ফলে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। একই সাথে নদী- তীরবর্তী বসবাসকারী মানুষের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদী ভাঙনের সম্মুখিন হয়ে পড়বে। উপজেলার গাউছিয়া এলাকায় দেখা যায়, একটি চক্র নিজের ইচ্ছা মতো বালু উত্তোলন করছে। কারও  যেন কিছু বলার নেই। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে একটি মহল কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এভাবে বালু উত্তোলন করলে নদীর গতি পরিবর্তিত হয়ে নদীর পাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে প্রকৃতির ক্ষতি হচ্ছে। এলকাবাসী বলেন, গুটিকয়েক মানুষের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এভাবে সর্বনাশ মেনে নেওয়া যায় না। এ ক্ষতি প্রতিরোধ করতে হবে। অবিলম্বে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হবে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বাড়িঘর ও ফসসি জমি তিস্তা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। প্রতিদিন ট্রাকে অবৈধভাবে বালু পরিবহনের কারণে রাস্তার মারাত্নক ক্ষতি হচ্ছে। নদী তীরবর্তী এলাকার জমি দিয়ে ট্রাক চলাচলের অভিযোগ রয়েছে। বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সকলেই প্রভাবশালী বলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় জমির মালিক বলেন, কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না বালু উত্তোলন। তিস্তা নদীতে বালু উত্তোলনের ফলে প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে খেসারত দিতে হয় নদীর তীরবর্তী জমির মালিকদের। ক্ষতি হয় ফসলি জমির। গাছপালা যায় নদীগর্ভে। গঙ্গাচড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার
(ভূমি) নয়ন কুমার সাহা বলেন, বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।