১০:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাভারে মাদক ব্যাবসায়ীকে ধরিয়ে দেওয়ায় ডিবি পুলিশের নারী সোর্সকে হত্যা করে মাটি চাপায় গ্রেপ্তার -১

 ঢাকা জেলা সাভারের বিরুলিয়ায় মাদক ব্যবসায়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও অপর মাদক ব্যবসায়ী স্বপনের স্ত্রী পপি আক্তারের গ্রেপ্তারের জেরে গোয়েন্দা পুলিশের সোর্স সীমা বেগম (৪২) নামের এক নারীকে হত্যা করে লাশ মাটি চাপা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি।
বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বিকেল ৩ টার দিকে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের খনিজনগর এলাকার মাদক ব্যবসায়ী স্বপনের বাড়ির পাশ থেকে ডিবি পুলিশের নারী সোর্স সিমা বেগমের মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ২ জুন নিখোঁজ হন সীমা বেগম। নিহত সীমা বেগম মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার মুন্সীকাদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামীর নাম জাহাঙ্গীর খান। তিনি ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা হামিদ মিয়াকে মাদকসহ গ্রেপ্তারে ডিবি পুলিশকে সহযোগিতা করেছিলেন। গ্রেপ্তারকৃতর নাম সাইফুল ইসলাম। তিনি সাভারের ইমান্দিপুরের মাদক ব্যবসায়ী। সাইফুলের দেওয়া তথ্যমতে ঘটনাস্থল থেকে নিহত সীমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসাবে মাদক কারবারি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্য মতে বিরুলিয়ার ওই এলাকা থেকে সীমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের মেয়ে তানিয়া আক্তার বলেন, গত ১৩ মে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি টিম স্বপনের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় মাদকসহ স্বপনের স্ত্রী ও যুবলীগ নেতা হামিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসময় স্বপন পালিয়ে যায়। এর কিছু দিন পর ‘মা আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, স্বপন লোকজন ঠিক করেছে তাকে মারার জন্য। এর দুইদিন পর থেকেই আমার মা নিখোঁজ। আজ স্বপনের বাড়ির পাশ থেকে আমার মায়ের মরদেহ উদ্ধার করলো পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, ডিবির অভিযানে আমার মা নাকি সহযোগিতা করেছিলেন। ডিবি নাকি আমার মায়ের কাছে স্বপনের বাড়ি কোথায় জানতে চেয়েছিল। আমার মা স্বপনের বাড়ি পুলিশকে দেখিয়ে দিয়েছিল। স্বপন, রেজাউল ও সাইফুলসহ আরও কয়েকজন মিলে আমারে মাকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়েছেন।
ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব বলেন, আমরা জেনেছি নিহত সীমা বেগম র‌্যাব, পুলিশ ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স হিসাবে কাজ করতো। আমরাও মাদক উদ্ধারে তার সহযোগিতা নিয়েছি। সীমা বেগমের নিখোঁজের খবর পেয়ে আমরা ছায়াতদন্ত শুরু করি। এ ঘটনায় হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান পরিচালনা করছি।
উল্লেখ্য: গত ১৩ মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের খনিজনগর এলাকা থেকে বিরুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আবদুল হামিদ ও স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী স্বপনের স্ত্রী পপি আক্তারকে (২০) গ্রেফতার করে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরই জেরে তাকে হত্যা করে লাশ মাটি চাপা দিয়ে রাখে।
জনপ্রিয় সংবাদ

সাভারে মাদক ব্যাবসায়ীকে ধরিয়ে দেওয়ায় ডিবি পুলিশের নারী সোর্সকে হত্যা করে মাটি চাপায় গ্রেপ্তার -১

আপডেট সময় : ০৮:০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুন ২০২৪
 ঢাকা জেলা সাভারের বিরুলিয়ায় মাদক ব্যবসায়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও অপর মাদক ব্যবসায়ী স্বপনের স্ত্রী পপি আক্তারের গ্রেপ্তারের জেরে গোয়েন্দা পুলিশের সোর্স সীমা বেগম (৪২) নামের এক নারীকে হত্যা করে লাশ মাটি চাপা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি।
বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বিকেল ৩ টার দিকে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের খনিজনগর এলাকার মাদক ব্যবসায়ী স্বপনের বাড়ির পাশ থেকে ডিবি পুলিশের নারী সোর্স সিমা বেগমের মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ২ জুন নিখোঁজ হন সীমা বেগম। নিহত সীমা বেগম মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার মুন্সীকাদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামীর নাম জাহাঙ্গীর খান। তিনি ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা হামিদ মিয়াকে মাদকসহ গ্রেপ্তারে ডিবি পুলিশকে সহযোগিতা করেছিলেন। গ্রেপ্তারকৃতর নাম সাইফুল ইসলাম। তিনি সাভারের ইমান্দিপুরের মাদক ব্যবসায়ী। সাইফুলের দেওয়া তথ্যমতে ঘটনাস্থল থেকে নিহত সীমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসাবে মাদক কারবারি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্য মতে বিরুলিয়ার ওই এলাকা থেকে সীমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের মেয়ে তানিয়া আক্তার বলেন, গত ১৩ মে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি টিম স্বপনের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় মাদকসহ স্বপনের স্ত্রী ও যুবলীগ নেতা হামিদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসময় স্বপন পালিয়ে যায়। এর কিছু দিন পর ‘মা আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, স্বপন লোকজন ঠিক করেছে তাকে মারার জন্য। এর দুইদিন পর থেকেই আমার মা নিখোঁজ। আজ স্বপনের বাড়ির পাশ থেকে আমার মায়ের মরদেহ উদ্ধার করলো পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, ডিবির অভিযানে আমার মা নাকি সহযোগিতা করেছিলেন। ডিবি নাকি আমার মায়ের কাছে স্বপনের বাড়ি কোথায় জানতে চেয়েছিল। আমার মা স্বপনের বাড়ি পুলিশকে দেখিয়ে দিয়েছিল। স্বপন, রেজাউল ও সাইফুলসহ আরও কয়েকজন মিলে আমারে মাকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়েছেন।
ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব বলেন, আমরা জেনেছি নিহত সীমা বেগম র‌্যাব, পুলিশ ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স হিসাবে কাজ করতো। আমরাও মাদক উদ্ধারে তার সহযোগিতা নিয়েছি। সীমা বেগমের নিখোঁজের খবর পেয়ে আমরা ছায়াতদন্ত শুরু করি। এ ঘটনায় হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান পরিচালনা করছি।
উল্লেখ্য: গত ১৩ মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের খনিজনগর এলাকা থেকে বিরুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আবদুল হামিদ ও স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী স্বপনের স্ত্রী পপি আক্তারকে (২০) গ্রেফতার করে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরই জেরে তাকে হত্যা করে লাশ মাটি চাপা দিয়ে রাখে।