প্রেম- বিয়ে প্রতারণায় টাকা হাতানোর ঘটনায় আদালতে মামলা আদালতে মামলা ও পত্রিকায় খবর প্রকাশ হওয়ায় সুমাইয়া আক্তার রিয়াসহ তার মা বোনের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে । এমন অভিযোগ করেছেন প্রতারিত মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়াউর রহমান জিয়া। তিনি দাবি করেছেন, ঘটনাটি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য প্রতারক রিয়া মোবাইলে তাকে একাধিকবার হুমকি দিয়েছে। এমনকি মা বোনের সহযোগিতায় তাকে উল্টো ফাঁসিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছেন।
যশোরের মণিরামপুরের খালিয়া গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, ২০১৯ সালে কাজের উদ্দেশ্যে তিনি মালয়েশিয়া যান। ওই বছর তার এক বন্ধুর মাধ্যমে যশোর সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের কাদের মোল্যার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার রিয়ার সাথে মোবাইলে পরিচয় হয়। দীর্ঘদিন কথা বলতে বলতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় রিয়া। পরে রিয়া একটি ভুয়া বিয়ের সনদপত্র তৈরি করে জিয়ার কাছে পাঠায়। প্রেম- বিয়ের নাটক সাজিয়ে জিয়ার কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংক বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রতারণায় রিয়াকে সহযোগিতা করে তার মা ফরিদা বেগম ও বড় বোন যশোর শহরের রেলগেট আদর্শপাড়ার শাওনের স্ত্রী রুবিনা।
জিয়া আরও জানান, স্বার্থ হাসিলের পর রিয়া তার সাথে ফোনে কথাবার্তা কমিয়ে দেয়। একপর্যায়ে রিয়া অন্যত্র বিয়ে করেছে বলে জানতে পারেন। এরপর তিনি বিষয়টি তার আত্মীয়-স্বজনদের জানায়। জিয়ার স্বজনরা রিয়ার সন্ধান পেয়ে তাকে দেয়া ১৫ লাখ টাকা ফেরত চাইলে না দিয়ে ঘোরাতে থাকে। টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে জিয়ার নিকটাত্মীয় চৌগাছা উপজেলার সলুয়া গ্রামের মশিয়ার রহমানের ছেলে আজিজুর রহমান গত ২৭ মে যশোরের বিজ্ঞ সিনিঃ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলী আদালতে রিয়াসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে
প্রতারণা মামলা করেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন রিয়ার মা যশোর সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের আব্দুল কাদের মোল্যার স্ত্রী ফরিদা বেগম ও ঢাকা তুরাগ উত্তরের হরিরামপুর ইউনিয়নের বিবাহ ও তালাক রেজিস্টার খালেদুর রহমান। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম কিবরিয়া অভিযোগের তদন্ত করে সিআইডিকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন।
জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, প্রতারনা করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় মামলা ও বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রকাশ হওয়ায় তেলে বেগুনে
জ্বলে উঠেছে প্রতারক রিয়া, তার মা ফরিদা ও বড় বোন রুবিনা। ইতিমধ্যে রিয়া তাকে কয়েকবার ফোনে হুমকি দিয়ে গালিগালাজও করেছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে উল্টো তাকে (জিয়া) মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়েছে রিয়া। তারা এখন ঘটনা ভিন্নখাতে নিতেও মরিয়া হয়ে উঠেছে।
জিয়ার অভিযোগ, রিয়া একজন চিহ্নিত প্রতারক। সে মা-বোনের সহযোগিতায় প্রতারণার জন্য চক্র গড়ে তুলেছে। প্রেমের নাটক করে তার মতো আরও একাধিক প্রবাসীর কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে
সর্বশান্ত করেছে রিয়া। প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী জিয়া।





















