কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা, তিস্তাসহ ১৬ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে নিম্নাঞ্চলের প্রায়২০ হাজার পরিবার।
শুক্রবার (২১ জুন) সকালে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে শিমুলবাড়ী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ও কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বেড়ে ৫০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নদ-নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেঙে পড়েছে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। নিমজ্জিত রয়েছে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক। নিম্নাঞ্চলের বসতভিটায় পানি প্রবেশ করায় দুর্ভোগে পড়েছে মানুষজন। এছাড়াও তলিয়ে গেছে মৌসুমী ফসলের ক্ষেত।
তবে ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তা এখনো বিপৎসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নকে নদী ভাঙ্গন রোধ থেকে ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গাছের বান্ডাল দেন এলাকাবাসী। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও টানা প্রবল বর্ষণও ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ৩০ লক্ষধিক টাকার গাছের বান্ডালটি গত কয়েক দিনে নদী গর্ভে চলে যায। এতে চিলমারী ইউনিয়নটি নদী গর্ভে চলে যাওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের ভেলুর বাজার এলাকার কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ ধরলা নদীর পানি বাড়ার কারণে আমার এলাকার সব ক্ষেত তলিয়ে গেছে। দুই বিঘা জমির পটল তলিয়ে গেছে। পানিটা আর কয়েকদিন পরে আসলে আরও কিছু টাকার পটল বিক্রি করতে পারতাম। এখন গাছগুলো সব মরে যাবে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানাযায়, নদ নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলায় ৪৫৩ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল নিমজ্জিত হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টা কুড়িগ্রামের নদ নদীর পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।





















