০২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোলায় ৫ দিনে ৬টি রাসেল ভাইপার হত্যা

ভোলায় ৫ দিনে ৪ উপজেলা, লালমোহনে-১,তজুমদ্দিন-২,দৌলতখানে-১ ও ভোলা সদরে-২টিসহ মোট ৫টি রাসেলস ভাইপার সাপ হত্যা করেছেন স্থানীয় জনতা। বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বিকালে ভোলা সদরের শিবপুর ইউনিয়নের মেঘনার পাড়ে বালুর মাঠে সর্বশেষ সাপটি হত্যা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৫ দিন আগে (১৭জুন) লালমোহনের লর্ডহাডিন্স ধান ক্ষেতের মধ্য-১টি,তজুমদ্দিনে-চাঁদপুর ইউনিয়নের চৌমুহনী ও সোনাপুর ইউনিয়নের চাঁপড়ী গ্রামে বাগানের মধ্যে-২টি, দৌলতখানে খালি জমির মধ্যে-১, ভোলা সদরের পূর্ব ইলিশা রাস্তার পাশে-১টি ও শিবপুর ইউনিয়নের মেঘনার পাড়ে বালুর মাঠে-১টি সাপ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পিটিয়ে মেরে ফেলে। এতে পাশ্ববর্তী এলাকাগুলোর মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের কাচারী বাড়ির জসিম (৩৪) বাড়ির পেছনে কলা বাগানে যায়। এসময় বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপ দেখে চিৎকার করলে লোকজন জড়ো হয়। পরে এলাকাবাসী দলবেঁধে লাঠি, টেটা, বর্শা হাতে সাপটিকে খুঁজে পিটিয়ে মেরে ফেলে।

বুধবার (১৯ জুন) বিকেলে চাঁদপুর ইউনিয়নের চৌমুহনী ঘাট সংলগ্ন একটি ফসলি জমিতে ফুটবল খেলতে গেলে কয়েক কিশোর আরেকটি বিষধর সাপ দেখতে পায়। একপর্যায়ে সাপটি তাদের আক্রমণ করতে আসলে রাসেলস ভাইপার সন্দেহে কিশোররা মিলে পিটিয়ে সাপটিকে মেরে ফেলে। পরে পলিথিন পেঁচিয়ে সাপটিকে মাটির নিচে পুঁতে রাখে তারা। লালমোহনের লর্ডহান্সি এক কৃষক জমিতে গেলে সাপটি দেখতে পেয়ে মানুষজন ডেকে পিটিয়ে মারে। দৌলতখানের মেদুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঞ্জুর জানান, মেঘনার পাড়ে জেলে পল্লীতে সাপ দেখে জেলেরা পিটিয়ে মেরে ফেলে, পরে সেটি রাসেলস ভাইপার সাপ বলে চিহিৃত করে স্থানীয় অভিজ্ঞরা। ভোলা সদরের পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের বেড়ী বাধের ধারে এবং শিবপুর ইউনিয়নের শান্তির হাটের বালুর মাঠে(২০জুন) বিকালে পর্যটকেরা বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপ দেখে পিটিয়ে মারে। বিশেষজ্ঞরা জানান, ভাইপার সবচেয়ে বিষাক্ত। এই সাপের কামড়ে শরীরের দংশিত অংশে বিষ ছড়িয়ে অঙ্গহানি, ক্রমাগত রক্তপাত, রক্ত জমাট বাঁধা, স্নায়ু বৈকল্য, চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়া, পক্ষাঘাত ও কিডনির ক্ষতিসহ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়।

এ বিষয়ে দৌলতখান বনবিভাগের রেঞ্জ অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, তীব্র বর্ষায় নির্মা ল প্লাবিত হওয়ায় রাসেল ভাইপার সাপ লোকালয়ে চলে এসেছে। রাসেলস ভাইপার সাপ লোকালয়ে সাধারণত খুব কমই দেখা যায়। বাচ্চা দেওয়ার কারণে হয়তো ওই সাপটি লোকালয়ে চলে আসতে পারে। পানি কমে গেলে এগুলো আবার তাদের আবাসস্থলে চলে যাবে। সাপ দেখলেই আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, অনেক স্থানে সাপ দেখলেই মানুষ তা পিটিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। সাপ প্রকৃতিতে অনেক অবদান রাখছে। তারা আক্রান্ত না হলে কাউকে আঘাত করে না। সেজন্য সাপ দেখলে প্রথমে তাকে চলে যাওয়ার সুযোগ দেয়া উচিৎ। তবে সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোলায় ৫ দিনে ৬টি রাসেল ভাইপার হত্যা

আপডেট সময় : ০৫:৫৬:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪

ভোলায় ৫ দিনে ৪ উপজেলা, লালমোহনে-১,তজুমদ্দিন-২,দৌলতখানে-১ ও ভোলা সদরে-২টিসহ মোট ৫টি রাসেলস ভাইপার সাপ হত্যা করেছেন স্থানীয় জনতা। বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বিকালে ভোলা সদরের শিবপুর ইউনিয়নের মেঘনার পাড়ে বালুর মাঠে সর্বশেষ সাপটি হত্যা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৫ দিন আগে (১৭জুন) লালমোহনের লর্ডহাডিন্স ধান ক্ষেতের মধ্য-১টি,তজুমদ্দিনে-চাঁদপুর ইউনিয়নের চৌমুহনী ও সোনাপুর ইউনিয়নের চাঁপড়ী গ্রামে বাগানের মধ্যে-২টি, দৌলতখানে খালি জমির মধ্যে-১, ভোলা সদরের পূর্ব ইলিশা রাস্তার পাশে-১টি ও শিবপুর ইউনিয়নের মেঘনার পাড়ে বালুর মাঠে-১টি সাপ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পিটিয়ে মেরে ফেলে। এতে পাশ্ববর্তী এলাকাগুলোর মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের কাচারী বাড়ির জসিম (৩৪) বাড়ির পেছনে কলা বাগানে যায়। এসময় বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপ দেখে চিৎকার করলে লোকজন জড়ো হয়। পরে এলাকাবাসী দলবেঁধে লাঠি, টেটা, বর্শা হাতে সাপটিকে খুঁজে পিটিয়ে মেরে ফেলে।

বুধবার (১৯ জুন) বিকেলে চাঁদপুর ইউনিয়নের চৌমুহনী ঘাট সংলগ্ন একটি ফসলি জমিতে ফুটবল খেলতে গেলে কয়েক কিশোর আরেকটি বিষধর সাপ দেখতে পায়। একপর্যায়ে সাপটি তাদের আক্রমণ করতে আসলে রাসেলস ভাইপার সন্দেহে কিশোররা মিলে পিটিয়ে সাপটিকে মেরে ফেলে। পরে পলিথিন পেঁচিয়ে সাপটিকে মাটির নিচে পুঁতে রাখে তারা। লালমোহনের লর্ডহান্সি এক কৃষক জমিতে গেলে সাপটি দেখতে পেয়ে মানুষজন ডেকে পিটিয়ে মারে। দৌলতখানের মেদুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঞ্জুর জানান, মেঘনার পাড়ে জেলে পল্লীতে সাপ দেখে জেলেরা পিটিয়ে মেরে ফেলে, পরে সেটি রাসেলস ভাইপার সাপ বলে চিহিৃত করে স্থানীয় অভিজ্ঞরা। ভোলা সদরের পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের বেড়ী বাধের ধারে এবং শিবপুর ইউনিয়নের শান্তির হাটের বালুর মাঠে(২০জুন) বিকালে পর্যটকেরা বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপ দেখে পিটিয়ে মারে। বিশেষজ্ঞরা জানান, ভাইপার সবচেয়ে বিষাক্ত। এই সাপের কামড়ে শরীরের দংশিত অংশে বিষ ছড়িয়ে অঙ্গহানি, ক্রমাগত রক্তপাত, রক্ত জমাট বাঁধা, স্নায়ু বৈকল্য, চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়া, পক্ষাঘাত ও কিডনির ক্ষতিসহ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়।

এ বিষয়ে দৌলতখান বনবিভাগের রেঞ্জ অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, তীব্র বর্ষায় নির্মা ল প্লাবিত হওয়ায় রাসেল ভাইপার সাপ লোকালয়ে চলে এসেছে। রাসেলস ভাইপার সাপ লোকালয়ে সাধারণত খুব কমই দেখা যায়। বাচ্চা দেওয়ার কারণে হয়তো ওই সাপটি লোকালয়ে চলে আসতে পারে। পানি কমে গেলে এগুলো আবার তাদের আবাসস্থলে চলে যাবে। সাপ দেখলেই আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, অনেক স্থানে সাপ দেখলেই মানুষ তা পিটিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। সাপ প্রকৃতিতে অনেক অবদান রাখছে। তারা আক্রান্ত না হলে কাউকে আঘাত করে না। সেজন্য সাপ দেখলে প্রথমে তাকে চলে যাওয়ার সুযোগ দেয়া উচিৎ। তবে সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।