১০:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মনপুরা উপকূলে বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ টয়লেট সংকট চরমে

ভোলার বিচ্ছিন্ন উপকূল মনপুরা উপজেলায় গত তিন ধরে ভয়াবহ তান্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণীঝড় রিমাল। এর তান্ডবে পুরো উপজেলা সহ বিচ্ছিন্ন ছোট-বড় ১০ টি চরা লে ৫০ হাজারের অধিক বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষত চিহৃ রেখে গেছে। ওই সমস্ত এলাকায় মানুষের ঘর-বাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এর মধ্যে জোয়ারের নোনা পানি নলকূপে প্রবেশ করায় খাওয়ার বিশুদ্ধ পানির সংকট চরম আকার ধারন করেছে। এছাড়াও জোয়ারের ভাসিয়ে নিয়ে গেছে আধা পাকা-কাঁচা টয়লেট। এর সংকটও চরম আকার ধারন করেছে বাসিন্দাদের মধ্যে। যত্রতত্র দায়সারাভাবে মানুষ প্রাকৃতিক কাজ সারছেন। এতে পরিবেশ দূষিত হয়ে উঠছে।

উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন নবগঠিত বেড়ীবাঁধহীন কলাতলী ইউনিয়নের অবস্থা চরমে। সেখানে ২০ হাজারের ওপরে মানুষের বসবাস। এছাড়াও চরশামসুদ্দিন,সোনারচর,চরবদনা,কাজিরচর ও ঢালচরে অবস্থাও নাজুক। এই সমস্ত এলাকায় বেড়ীবাঁধ না থাকায় ৬-৭ ফুট জোয়ারের পানি উঠা-নামা করায় মানুষের জীবন অসহায়। জোয়ারের নোনা পানিতে প্রত্যেকটি নলকূল ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ টয়লেট নেই বললে চলে। বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদার, ঢালচরের কালাম, কাজির চরের ইউপি সদস্য শামসুদ্দিন চরের বাসিন্দা আবু কালাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এদিকে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৮টি পয়েন্টে বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। এর পাশাপাশি ৪নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৪টি পয়েন্টে বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। হাজিরহাট ইউনিয়নের সোনার চর গ্রামের বাসিন্দা সুর্বনা, দাসেরহাট গ্রামের বাসিন্দা কামাল, চরফৈজুদ্দিন গ্রামের বাসিন্দা মামুন সহ অনেকে জানান, নোনা পানিতে নলকূপ ব্যবহারে অযোগ্য হয়ে পড়ায় বিশুদ্ধ পানির চরম আকার ধারন করেছে। এছাড়াও আধা পাকা-কাঁচা টয়লেট ভেসে যাওয়ায় প্রাকৃতিক কাজ দিনের বেলায় না পেরে রাতে বেলায় করছেন। এই ব্যাপারে হাজিরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন হাওলাদার ও ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ কাজল জানান, ঘরবাড়ি ভেঙ্গে সবশেষ। এখন বিশুদ্ধ খাবার পানি ও নিরাপদ টয়লেট চরম আকার ধারন করেছে।

এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আশরাফ হোসেন জানান, নোনা পানিতে অযোগ্য হয়ে যাওয়া নলকূপের তালিকা করা হচ্ছে। এছাড়াও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। নিরাপদ টয়লেটে ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মনপুরা উপকূলে বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ টয়লেট সংকট চরমে

আপডেট সময় : ০৮:২৩:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুন ২০২৪

ভোলার বিচ্ছিন্ন উপকূল মনপুরা উপজেলায় গত তিন ধরে ভয়াবহ তান্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণীঝড় রিমাল। এর তান্ডবে পুরো উপজেলা সহ বিচ্ছিন্ন ছোট-বড় ১০ টি চরা লে ৫০ হাজারের অধিক বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষত চিহৃ রেখে গেছে। ওই সমস্ত এলাকায় মানুষের ঘর-বাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এর মধ্যে জোয়ারের নোনা পানি নলকূপে প্রবেশ করায় খাওয়ার বিশুদ্ধ পানির সংকট চরম আকার ধারন করেছে। এছাড়াও জোয়ারের ভাসিয়ে নিয়ে গেছে আধা পাকা-কাঁচা টয়লেট। এর সংকটও চরম আকার ধারন করেছে বাসিন্দাদের মধ্যে। যত্রতত্র দায়সারাভাবে মানুষ প্রাকৃতিক কাজ সারছেন। এতে পরিবেশ দূষিত হয়ে উঠছে।

উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন নবগঠিত বেড়ীবাঁধহীন কলাতলী ইউনিয়নের অবস্থা চরমে। সেখানে ২০ হাজারের ওপরে মানুষের বসবাস। এছাড়াও চরশামসুদ্দিন,সোনারচর,চরবদনা,কাজিরচর ও ঢালচরে অবস্থাও নাজুক। এই সমস্ত এলাকায় বেড়ীবাঁধ না থাকায় ৬-৭ ফুট জোয়ারের পানি উঠা-নামা করায় মানুষের জীবন অসহায়। জোয়ারের নোনা পানিতে প্রত্যেকটি নলকূল ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ টয়লেট নেই বললে চলে। বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদার, ঢালচরের কালাম, কাজির চরের ইউপি সদস্য শামসুদ্দিন চরের বাসিন্দা আবু কালাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এদিকে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৮টি পয়েন্টে বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। এর পাশাপাশি ৪নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৪টি পয়েন্টে বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। হাজিরহাট ইউনিয়নের সোনার চর গ্রামের বাসিন্দা সুর্বনা, দাসেরহাট গ্রামের বাসিন্দা কামাল, চরফৈজুদ্দিন গ্রামের বাসিন্দা মামুন সহ অনেকে জানান, নোনা পানিতে নলকূপ ব্যবহারে অযোগ্য হয়ে পড়ায় বিশুদ্ধ পানির চরম আকার ধারন করেছে। এছাড়াও আধা পাকা-কাঁচা টয়লেট ভেসে যাওয়ায় প্রাকৃতিক কাজ দিনের বেলায় না পেরে রাতে বেলায় করছেন। এই ব্যাপারে হাজিরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন হাওলাদার ও ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ কাজল জানান, ঘরবাড়ি ভেঙ্গে সবশেষ। এখন বিশুদ্ধ খাবার পানি ও নিরাপদ টয়লেট চরম আকার ধারন করেছে।

এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আশরাফ হোসেন জানান, নোনা পানিতে অযোগ্য হয়ে যাওয়া নলকূপের তালিকা করা হচ্ছে। এছাড়াও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। নিরাপদ টয়লেটে ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।