❖ ৭০০ মিলিয়ন ডলারের বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের অর্ডার ন্যাটোর
❖ পুতিনকে ইউক্রেনই থামাতে পারবে : বাইডেন
❖ রাশিয়ায় সামরিক প্রতিনিধিদল পাঠাল উত্তর কোরিয়া
❖ উত্তর কোরিয়া-রাশিয়ার অস্ত্র ব্যবসা বিশ্বের জন্য হুমকি : দক্ষিণ কোরিয়া
❖ রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় বাঙ্কার নির্মাণ করছে ৩ দেশ
ইউক্রেনকে অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। দেশটিকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাটারি এবং প্যাট্রিয়টের উপাদানসহ পাঁচটি অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ করবে তারা। দ্য নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো) সম্মেলনের সময় একটি যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছেন দেশগুলোর নেতারা। ন্যাটো সম্মেলনে এই সহায়তার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। পরে যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, রোমানিয়া, ইতালি, জার্মানি এবং ইউক্রেনের নেতারা একটি যৌথ বিবৃতি জারি করেন। আগামী মাসগুলোতে ইউক্রেনকে কয়েক ডজন কৌশলগত বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ করতে চায় তারা। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা ইউক্রেনকে অতিরিক্ত কৌশলগত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিতে যাচ্ছি। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও রোমানিয়ার অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি; প্যাট্রিয়ট ব্যাটারিকে অপারেশনে সক্ষম করার জন্য নেদারল্যান্ডস ও অন্যান্য অংশীদারদের দেওয়া প্যাট্রিয়ট উপাদান এবং ইতালির দেওয়া একটি অতিরিক্ত এসএএমপি সিস্টেম রয়েছে।
৭০০ মিলিয়ন ডলারের স্টিংগার বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের অর্ডার ন্যাটোর
৭০০ মিলিয়ন ডলারের স্টিংগার বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের অর্ডার দিয়েছে ন্যাটো। বেশ কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্রের নামে এই অর্ডার দিয়েছে জোটটি। গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রতিরক্ষা শিল্পের নেতাদের সঙ্গে এক সমাবেশে ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ বলেছেন, আজই ন্যাটো প্রকিউরমেন্ট এজেন্সি (এনএসপিএ) প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের স্টিংগার ক্ষেপণাস্ত্রের একটি নতুন বহুজাতিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর আগে ২০২২ সালের মে মাসে সর্বশেষ স্টিংগার ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য একটি চুক্তি করেছিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদনকারী আরটিএক্স করপোরেশনের রেথিয়ন ডিভিশন। তখন ইউক্রেনের জন্য ৬২৫ মিলিয়ন ডলারের বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের চুক্তি করে মার্কিন সেনাবাহিনী। কাঁধে বহন করে চালাতে হয় এই স্টিংগার ক্ষেপণাস্ত্র। ইউক্রেনে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এটি ব্যবহার করে যুদ্ধক্ষেত্রে সেনারা সফলভাবে আকাশপথে রাশিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করেছে। প্রতিবেশী ইউরোপীয় দেশগুলোও আশঙ্কা করছে, তাদের রুশ বাহিনীকে পরাজিত করতে এটির প্রয়োজন হতে পারে। আরটিএক্সের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানান, স্টিংগারের জন্য ন্যাটোর এই অর্ডার সরবরাহ করতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত এর উৎপাদন অব্যাহত থাকবে।
পুতিনকে ইউক্রেনই থামাতে পারবে : বাইডেন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, পুতিন ইউক্রেনকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করতে, ইউক্রেনের গণতন্ত্রকে শেষ করতে ও ইউক্রেনের সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে চান। তিনি দেশটিকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলতে চান। আপনারা জানেন, পুতিন কিন্তু ইউক্রেনে থামবেন না। কাজেই কোনো ভুল করা যাবে না। ইউক্রেনই পুতিনকে থামাতে পারে এবং দেশটি তা করবেই। গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসির রোনাল্ড রিগ্যান ইনস্টিটিউটে ন্যাটোর ৭৫তম শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় বাইডেন এসব কথা বলেন। ন্যাটো বর্তমানে আগের চেয়ে শক্তিশালী উল্লেখ করে বাইডেন বলেন, আমেরিকার উভয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতা ও সিনেটর মনে করেন, ন্যাটো আমাদের আগের চেয়ে নিরাপদে রেখেছে। ন্যাটো না থাকলে কী হতে পারে তা আমেরিকার জনগণ জানে। ন্যাটোর ৩২ সদস্যের মধ্যে ২৩ দেশ নিজেদের মোট জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করছে। ন্যাটোর গুরুত্ব ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়ে বক্তৃতা শেষ করেন তিনি।
রাশিয়ায় সামরিক প্রতিনিধিদল পাঠাল উত্তর কোরিয়া
পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্কের উত্তেজনাকর অবস্থার মধ্যে উত্তর কোরিয়া তার অভিজাত সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ ডেলিগেশন দলকে পাঠিয়েছে রাশিয়ায়। ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে এশিয়ার এই দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা গভীর করার মধ্যদিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পশ্চিমারা। গত মাসে পিয়ংইয়ং সফর করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন। তারপর দুই দেশের মধ্যে এটাই প্রথম ঘোষিত সামরিক বিনিময়। পুতিনের ওই সফরের সময় একটি কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ স্বাক্ষর করেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে। কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) বলেছে, গত সোমবার উত্তর কোরিয়ার পিপলস আর্মির সামরিক প্রশিক্ষণ দল রাশিয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিম ইল-সাং মিলিটারি ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট কিম কুম-চোল। তবে কি উদ্দেশ্যে এবং কতদিনের জন্য তারা এই সফরে থাকবেন তা প্রকাশ করা হয়নি।
উত্তর কোরিয়া-রাশিয়ার অস্ত্র ব্যবসা বিশ্বের জন্য হুমকি : দক্ষিণ কোরিয়া
রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র ব্যবসা বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। গত মঙ্গলবার হাওয়াইতে মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাহিনীর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা অবস্থানের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনার সময় এ কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এই তথ্য জানিয়েছে। একটি ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ওয়াশিংটন যাওয়ার পথে হাওয়াইয়ে থামেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। ন্যাটোর চারটি এশিয়া-প্যাসিফিক অংশীদারদের একটির প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল পাপারোর সঙ্গে আলোচনা করেন ইউন। এ সময় মার্কিন সামরিক নেতা ও সেনাদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, শুধু কোরীয় উপদ্বীপেই নয়, রাশিয়ার সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র-বাণিজ্যে জড়িত হয়ে বিশ্বব্যাপী শান্তিকে হুমকির মুখে ফেলেছে উত্তর কোরিয়া। গত মাসে রাশিয়ার সঙ্গে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে উত্তর কোরিয়া অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দেশটির সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে। এই বেপরোয়া সিদ্ধান্তের হুমকি থেকে আমাদের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি রক্ষার জন্য একই মূল্যবোধসহ সামরিক সম্পর্ক রয়েছে এমন দেশগুলোর মধ্যে সংহতি অপরিহার্য।
রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় বাঙ্কার নির্মাণ করছে ৩ দেশ
ইউক্রেনে রুশ হামলার পর ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এই উদ্বেগের কারণে এবার তিনটি বাল্টিক দেশ লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং এস্তোনিয়া- রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় কয়েকশ বাঙ্কার নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। কয়েক মাস আগেই তারা একটি কমন বাল্টিক ডিফেন্স জোন গঠনের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। এই অঞ্চলে যুদ্ধ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ফলে সাপ্লাই চেইন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইউরোপের ছোট দেশগুলো বড় ধরনের হামলার আতঙ্কে ভুগছে। সামরিক শক্তিতে দুর্বল হওয়ায় এসব দেশ নিজেদের সুরক্ষার জন্য নতুন পথ খুঁজছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও এস্তোনিয়া রাশিয়া ও বেলারুশের সীমান্তে একটি কমন ডিফেন্স জোন গঠনের ব্যাপারে একমত হয়েছে। এই অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়। এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হানো পেভকার বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ আমাদের দেখিয়েছে যে, যন্ত্রপাতি, গোলাবারুদ ও জনশক্তির পাশাপাশি আমাদের প্রতিরক্ষা অবকাঠামোও দরকার। এস্তোনিয়া ইতিমধ্যে ২৯৪ কিলোমিটারজুড়ে সুরক্ষা লাইন তৈরি করতে প্রটোটাইপ বাঙ্কারের পরীক্ষা শুরু করেছে। প্রকল্পের আওতায় ৬০০ বাঙ্কার নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা ৬৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হবে। প্রতিটি বাঙ্কারে ১০ জন করে সেনাসদস্য থাকতে পারবে।
লিথুয়ানিয়া ও লাটভিয়া এই কমন ডিফেন্স জোনে কীভাবে অবদান রাখবে তা এখনো নির্দিষ্ট হয়নি। তবে লিথুয়ানিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরভিডাস আনুসসকাস যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে হাইমারস রকেট ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা উল্লেখ করেছেন, যা তাদের প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদিও রাশিয়া জোর দিয়ে বলছে, তাদের কোনো আক্রমণের পরিকল্পনা নেই, তবে ইউরোপের দেশগুলো তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হচ্ছে।
























