স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের পতনের এক মাস পূর্তিতে এবং ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে নিহিত শহীদদের স্মরণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘শহীদি মার্চ’ কর্মসূচি পালন করেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২ টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি শুরু করেন।
এসময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠাল তলায় সমবেত হয়ে সেখান থেকে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি রায়সাহেব বাজার হয়ে দয়াগঞ্জ থেকে যাত্রাবাড়ীতে গিয়ে অবস্থান নিয়ে বক্তারা বক্তব্য রাখেন। মিছিলটি পরে যাত্রাবাড়ী হয়ে আবার ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়।
এসময় শিক্ষার্থীরা, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হলো, এক মাস যে হয়ে গেল’, ‘এক মাস যে হয়ে গেল, বাংলাদেশ স্বাধীন হলো’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘বৃথা যেতে দেব না জবিয়ানের রক্ত,’ ‘সাজিদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, মেহেদির রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘ফেরদৌসের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘দিয়েছি তো রক্ত আরো দিব রক্ত, রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’ ইত্যাদি স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করে তোলে।
মাসুদ রানা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, পলাশী পরাজয়ের মধ্য দিয়ে আমাদেরকে দু’শ বছর ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থাকতে হয়েছিল। এরপর ১৯৪৭ সালে দেশভাগ হওয়ার পরে আমাদেরকে পাকিস্তান নামক আরেক ঔপনিবেশিক শোষনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। শোষিত বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান নামক শোষণের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছে। যার মূল মন্ত্র ছিল সাম্য ও মানবিকতা।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলো, বাংলাদেশের সাম্য ও মানবিকতা ধ্বংস করতে চেয়েছিলো। কিন্তু প্রতিবারই বাংলাদেশের ছাত্র জনতা এ অপচেষ্টা কে রুখে দিয়েছে। একইভাবে, আশির দশকের এরশাদের স্বৈরাচারি শাসন যারা আবার বাংলাদেশে কায়েম করেছিলেন ছাত্র জনতা তাদের রুখে দিয়েছে। বলে দিতে চাই, এ বাংলাদেশে কোন বিশেষ দলের না, এ বাংলাদেশ জনগণের। ছাত্র জনতা সবাই মিলে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ব।
ফরহাদ হোসেন নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা যাদের রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, আমরা তাদেরকে যেন ভুলে না যাই। ছাত্র জনতার আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন তাদের দিকে যেন নজর দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, কোটা সংস্কারের নামে শুরু হওয়া ছাত্রদের এ আন্দোলন এক পর্যায়ে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিলে, ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের পতন হয়।


























