চলতি মৌসুমে ঘরোয়া শীর্ষ দুই আসর জেতার পর ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগও জেতে পিএসজি। দুরন্ত ছন্দে থাকা ফরাসী জায়ান্টরা হট ফেভারিটের মতন পা রেখেছে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে। রিয়াল মাদ্রিদকে উড়িয়ে ফাইনালে আসা পিএসজির তুলনায় যে কারো বিচারে পিছিয়ে থাকবে ইংলিশ ক্লাব চেলসি। তবে খাতা-কলমের হিসাব ফাইনাল ম্যাচে বদলে দেয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চেলসি অধিনায়ক রিস জেমস। প্রতিপক্ষকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আমরাই জিততে যাচ্ছি!’ ব্রাজিলের ফ্লুমিনেন্সকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে চেলসি। এর আগে টুর্নামেন্টের পথচলায় তারা খেলে কার্যকরী ফুটবল। প্রতিশ্রুতিশীল দলটি শিরোপার মঞ্চেও বাজিমাত করতে চায়। অধিনায়ক জেমস তার সতীর্থদের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, ব্লুজরা পিএসজির মুখোমুখি হতে বিন্দুমাত্র ভীত নয়। নতুন চুক্তিবদ্ধ ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রো এবং লিয়াম ডেলাপের অন্তর্ভুক্তিতে চেলসির আক্রমণভাগ আরও শক্তিশালী হয়েছে। জেমস বিশ্বাস করেন, এই নতুন সংযুক্তি দলের সক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তারা পিএসজিকে হারানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। পিএসজিকে নিয়ে জেমসের মন্তব্য ছিল বেশ সোজাসাপ্টা, ‘এই ম্যাচটি একটি উচ্চ-মানের খেলা হবে। এই মুহূর্তে তারা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল, তবে এটি একটি ফাইনাল। এটি একটি ওয়ান-অফ ম্যাচ।’
প্রতিপক্ষকে ফেভারিট মানতে নারাজ ইংলিশ ডিফেন্ডার জেমস আরও যোগ করেন, ‘সবাই তাদেরকেই শক্তিশালী ফেভারিট হিসেবে ধরছে, কিন্তু আমি এর আগেও অনেক ফাইনালে খেলেছি যেখানে আমরা ফেভারিট ছিলাম কিন্তু জিততে পারিনি। তাই এটি আমার কাছে খুব বেশি কিছু বোঝায় না। এবং সত্যি বলতে, আমি পরোয়াও করি না। সবাই আমাদের প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বলছে, কিন্তু আমরা তাদের জন্য ঠিকঠাক প্রস্তুতি নেব এবং আমরাই জিততে যাচ্ছি।’
‘মাথা ঘুরছিল, মাঠে শুয়ে পড়তে হয়েছিল’, যুক্তরাষ্ট্রের অত্যধিক গরমে ফুটবল খেলা কতটা কঠিন, তুলে ধরতে এমনটা বলেছেন এনজো ফার্নান্দেস।
চেলসির এই মিডফিল্ডারের মতে, এই গরমে খেলা খুবই বিপজ্জনক। এবারের ক্লাব বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্রাতিরিক্ত গরম নিয়ে। যা চলছে এখনও। ফাইনালের আগে যেমন তাপমাত্রা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন চেলসির বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন ফুটবলার ফার্নান্দেস।
টুর্নামেন্ট জুড়েই কয়েকটি ভেন্যু-শহরের প্রচণ্ড গরম নিয়ে আলোচনা হয়েছে অনেক। আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। তাই যুক্তরাষ্ট্রের গরম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তাদের সুরে সুর মেলালেন ফার্নান্দেস। ‘সত্যি বলতে, এখানে গরম অবিশ্বাস্য। ওই দিন আমাকে মাঠে শুয়ে যেতে হয়েছিল, কারণ মাথা ঘুরছিল। এই তাপমাত্রায় খেলা খুবই বিপজ্জনক। দর্শকদের জন্য, যারা মাঠে এসে খেলা উপভোগ করে তাদের জন্য, যারা ঘরে বসে তাদের জন্যও। এখানে খেলার গতি একই থাকে না। সবকিছুই মন্থর হয়ে যায়। আশা করি, আগামী বছর সূচিতে বদল আনা হবে। অন্তত যাতে একটি সুন্দর ও আকর্ষণীয় ফুটবল প্রদর্শনী দেখা যায়, তাই না?’
অন্যদিকে জেমসের চেয়েও আত্মবিশ্বাসী কোলউইল বললেন, ‘পিএসজি ভেবে রেখেছে, আমরা রিয়াল মাদ্রিদের মতো খেলব? ভুল ভাবছে! ওরা আমাদের থেকে ভিন্ন এক ম্যাচ পাবে। আমরা আক্রমণাত্মক প্রেসিং করি, আর আমাদের মানসিকতাও অন্যরকম। আমরা প্রথম দিন থেকেই বলেছি- আমরা জয়ী মানসিকতা নিয়ে এসেছি। আর আমরা ফাইনালে পৌঁছে প্রমাণ করছি যে আমরা মিথ্যে বলিনি।’
অন্যদিকে পিএসজি কোচ লুইস এনরিক চেলসিকে হালকা করে দেখছেন না। তার ভাষায়, ‘চেলসি অনেকটা আমাদের মতো। শারীরিকভাবে তারা খুবই শক্তিশালী। কঠিন লড়াই হবে নিশ্চিত।’
পিএসজিকে পূর্ণ সম্মান দিলেও নিজেদের নিয়ে আত্মবিশ্বাসী চেলসির কোচ এনজো মারেসকা। তিনি বলেন, ‘পিএসজি ইন্টার মিলান ও রিয়াল মাদ্রিদের মতো দলকে হারিয়েছে। তারা যে কোনো দলের জন্যই হুমকি। প্যারিস সেন্ট-জার্মেইন নিয়ে যা আমার চিন্তা, সেটাই আমি প্রতিটি দলের জন্য ভাবি। আমরা দলকে সেরা প্রস্তুতি দেওয়ার চেষ্টা করছি, যতটা সম্ভব তথ্য দিয়ে খেলোয়াড়দের সহায়তা করছি যাতে তারা মাঠে সেরা পারফর্ম করতে পারে। আমি প্রতিটি দলকে সম্মান করি, তবে ফাইনাল ম্যাচের প্রস্তুতি আমি ঠিক সেইভাবেই নিচ্ছি যেভাবে ব্রাজিলিয়ান দলগুলোর বিরুদ্ধে নিয়েছিলাম। আমার কাছে ব্যাপারটা হলো, কোথায় আমরা তাদের আঘাত করতে পারি এবং কোথায় আমি তাদের থেকে নিজ দলকে রক্ষা করতে পারি সেটা খুঁজে বের করা। সেখান থেকেই আমরা ম্যাচের প্রস্তুতি নিই।’
মুখোমুখি লড়াইয়েও এগিয়ে পিএসজি। দু’দলের ১০ দেখায় ৫টি ম্যাচ ড্র। ৩টি পিএসজি জিতেছে ও ২টি চেলসি জিতেছে।
আজ বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শুরু হবে ক্লাব বিশ্বকাপের এই ফাইনাল।


























