যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের অংশ হিসেবে তারা ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী তরুণদের জাতীয় নির্বাচনসহ সকল নির্বাচনে ভোটাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
আজ বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় ব্রিটিশ সরকার জানায়, প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনগুলো এখনো সংসদীয় অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। তবে এগুলো কার্যকর হলে স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের সঙ্গে সারা যুক্তরাজ্যে ভোটাধিকার সমতা প্রতিষ্ঠিত হবে। স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে ইতিমধ্যে স্থানীয় নির্বাচনে ১৬ বছর বয়সীরাও ভোট দিয়ে থাকেন।
উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের পথে যে বাধাগুলো রয়েছে তা ভাঙার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছি, যাতে আরও বেশি মানুষ যুক্তরাজ্যের গণতন্ত্রে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে।’
সিএনএন জানিয়েছে, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে যুক্তরাজ্যে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ৫৯.৭ শতাংশ, যা ২০০১ সালের পর সর্বনিম্ন।
যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্স লাইব্রেরির তথ্যমতে, যেসব দেশে ভোটাধিকার বয়স ১৬ করা হয়েছে, সেখানে নির্বাচনের ফলাফলে কোনো বড় প্রভাব পড়েনি। তবে দেখা গেছে, ১৬ বছর বয়সীরা সাধারণত ১৮ বছর বয়সীদের চেয়ে বেশি হারে ভোট দেয়।বর্তমানে সরকারে থাকা লেবার পার্টি, যারা এক বছর আগে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, তারা আগে থেকেই ভোটারদের বয়সসীমা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দলটির জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের পতন ঘটেছে।
এই সংস্কারের আওতায় ভোটার পরিচয়পত্র (ভোটার আইডি) হিসেবে যুক্তরাজ্যে ইস্যু করা ব্যাংক কার্ড এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ভেটেরান কার্ডের ডিজিটাল সংস্করণও গ্রহণযোগ্য হবে।
বিদেশি হস্তক্ষেপ ঠেকাতে সরকার আরও জানিয়েছে, রাজনৈতিক দান-অনুদানের ওপর নজরদারি জোরদার করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—৫০০ পাউন্ডের বেশি দানের ক্ষেত্রে উৎস যাচাই, অনিয়মিত অ্যাসোসিয়েশন থেকে আসা অনুদানের নিয়ম কঠোর করা এবং শেল কোম্পানিগুলো ব্যবহার করে অনুদান প্রদানের ফাঁকফোকর বন্ধ করা।
এমআর/সবা
























