০৩:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডেপুটেশন বাতিল হলেও মূল কর্মস্থলে যোগদান করছেন না শিক্ষক বেলাল ও আনোয়ার

ছয় মাস আগে ডেপুটেশন বাতিল হলেও নিজ কর্মস্থলে যোগদান করছেন না দুই শিক্ষক। তারা নিজেদের কর্মস্থল স্কুলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থেকেও বেতনভাতা উত্তোলন করেছেন নিয়মিত। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের পক্ষ থেকে একাধিকবার শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণে প্রতিষ্ঠানে যোগদানের তাগিদ দিলেও অভিযুক্ত দুই শিক্ষক তাদের কথায় কর্ণপাত করছেননা। এ দুই শিক্ষক মূল কর্মস্থলে যোগদান না করায় দুটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাগ্রহণ থেকে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একাংশের ভুমিকা রহস্যজনক। তারাও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না তাদের বিরুদ্ধে।
২০২০ সালের মার্চ মাসের ৩ তারিখে শিক্ষক আনোয়ার হোসাইন ৭২ নং দক্ষিণ চর মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মো: বিল্লাল হোসেন ১২ নং বাবুরহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ২০২৩ সালের ১ মে তাদেরকে কচুখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়। ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ডেপুটেশন বাতিল করে মূল কর্মস্থল দক্ষিণ চর মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাবুরহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯ জানুয়ারির মধ্য যোগদান করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নির্দেশনার ৬ মাস অতিবাহিত হলেও শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ও বেলাল কর্মস্থলে যোগদান করেননি। কিন্তু উপরিউক্ত দু’টি প্রতিষ্ঠানের নামে দু’জন নিয়মিত বেতনভাতা উত্তোলন করছেন তারা। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক আনোয়ার ও বেল্লাল চরফ্যাশন পৌরসভায় বাসা ভাড়া নিয়ে কোচিং বাণিজ্য করছেন এবং প্রাইভেট টিউশনি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। জানা গেছে, শিক্ষক আনোয়ার ও বেল্লাল রাজনৈতিক একটি পক্ষকে মেনেজ করে বহাল তবিয়তে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে তাদের কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
শিক্ষক আনোয়ার ও বেলাল একই ব্যাচের ছাত্র, একজন ইংরেজি ডিপার্টমেন্ট ও অন্যজন গণিত বিভাগের। এজন্য দুজন শিক্ষকই টিউশনি ও কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন দেদারসে। ২০২০ সালে শিক্ষক আনোয়ার ও বেলালসহ ১১১জনকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকার পদায়ন করে। তখনই এ ১১১জন শিক্ষক একটি সংগঠন তৈরি করে। এবং নিজেদের আওয়ামীপন্থি হিসেবে পরিচয় প্রদান করে এলাকায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার শুরু করে এবং তখন থেকেই নিয়মিত স্কুলে না গিয়ে প্রতিনিয়ত বেতন ভাতা উত্তোলন করত।
জানা গেছে, বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের দোসর হওয়ায় কেউ তাদেরকে তাদের অপকর্মের ব্যাপারে কিছু বলতেন না। স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক একটি গোষ্ঠীকে ম্যানেজ করে তারা চলছে। তাদের দোহাই দিয়ে অনিয়মকে নিয়ম বানাতে চায় শিক্ষক আনোয়ার ও বেলাল। এ প্রতিবেদক অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে তারা রাজনৈতিক নেতা- প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও প্রতিবেদকের আত্মীয়-স্বজনের সাথে তাদের সম্পর্কের দোহাই দিয়ে নিউজ না করার জন্য অনুরোধ করে।
এ ব্যাপারে চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। দু’একদিনের মধ্যে তাদেরকে মূল প্রতিষ্ঠানে ফেরত পাঠানো হবে।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

মা নিজেই নদীতে ফেলার ঘটনা স্বীকার, শিশু জীবিত উদ্ধার

ডেপুটেশন বাতিল হলেও মূল কর্মস্থলে যোগদান করছেন না শিক্ষক বেলাল ও আনোয়ার

আপডেট সময় : ০৪:৪৭:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

ছয় মাস আগে ডেপুটেশন বাতিল হলেও নিজ কর্মস্থলে যোগদান করছেন না দুই শিক্ষক। তারা নিজেদের কর্মস্থল স্কুলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থেকেও বেতনভাতা উত্তোলন করেছেন নিয়মিত। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের পক্ষ থেকে একাধিকবার শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণে প্রতিষ্ঠানে যোগদানের তাগিদ দিলেও অভিযুক্ত দুই শিক্ষক তাদের কথায় কর্ণপাত করছেননা। এ দুই শিক্ষক মূল কর্মস্থলে যোগদান না করায় দুটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাগ্রহণ থেকে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একাংশের ভুমিকা রহস্যজনক। তারাও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না তাদের বিরুদ্ধে।
২০২০ সালের মার্চ মাসের ৩ তারিখে শিক্ষক আনোয়ার হোসাইন ৭২ নং দক্ষিণ চর মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মো: বিল্লাল হোসেন ১২ নং বাবুরহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ২০২৩ সালের ১ মে তাদেরকে কচুখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়। ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ডেপুটেশন বাতিল করে মূল কর্মস্থল দক্ষিণ চর মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাবুরহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯ জানুয়ারির মধ্য যোগদান করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নির্দেশনার ৬ মাস অতিবাহিত হলেও শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ও বেলাল কর্মস্থলে যোগদান করেননি। কিন্তু উপরিউক্ত দু’টি প্রতিষ্ঠানের নামে দু’জন নিয়মিত বেতনভাতা উত্তোলন করছেন তারা। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক আনোয়ার ও বেল্লাল চরফ্যাশন পৌরসভায় বাসা ভাড়া নিয়ে কোচিং বাণিজ্য করছেন এবং প্রাইভেট টিউশনি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। জানা গেছে, শিক্ষক আনোয়ার ও বেল্লাল রাজনৈতিক একটি পক্ষকে মেনেজ করে বহাল তবিয়তে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে তাদের কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
শিক্ষক আনোয়ার ও বেলাল একই ব্যাচের ছাত্র, একজন ইংরেজি ডিপার্টমেন্ট ও অন্যজন গণিত বিভাগের। এজন্য দুজন শিক্ষকই টিউশনি ও কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন দেদারসে। ২০২০ সালে শিক্ষক আনোয়ার ও বেলালসহ ১১১জনকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকার পদায়ন করে। তখনই এ ১১১জন শিক্ষক একটি সংগঠন তৈরি করে। এবং নিজেদের আওয়ামীপন্থি হিসেবে পরিচয় প্রদান করে এলাকায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার শুরু করে এবং তখন থেকেই নিয়মিত স্কুলে না গিয়ে প্রতিনিয়ত বেতন ভাতা উত্তোলন করত।
জানা গেছে, বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের দোসর হওয়ায় কেউ তাদেরকে তাদের অপকর্মের ব্যাপারে কিছু বলতেন না। স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক একটি গোষ্ঠীকে ম্যানেজ করে তারা চলছে। তাদের দোহাই দিয়ে অনিয়মকে নিয়ম বানাতে চায় শিক্ষক আনোয়ার ও বেলাল। এ প্রতিবেদক অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে তারা রাজনৈতিক নেতা- প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও প্রতিবেদকের আত্মীয়-স্বজনের সাথে তাদের সম্পর্কের দোহাই দিয়ে নিউজ না করার জন্য অনুরোধ করে।
এ ব্যাপারে চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। দু’একদিনের মধ্যে তাদেরকে মূল প্রতিষ্ঠানে ফেরত পাঠানো হবে।

এমআর/সবা