০৭:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

উখিয়ায় থেমে নেই অবৈধ স’মিল ব্যবসা, সাবাড় হচ্ছে বন

সরকারী অনুমোদন ছাড়াই যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অবৈধ স-মিল (করাত কল)। কোন নিয়মনীতি না মেনে এসব অবৈধ করাত কল চলছে আর প্রতিদিন সাবাড় হচ্ছে বনজ, ফলদসহ নানা প্রজাতির গাছ। আর সেইসাথে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। রাতে দিনে সব সময় সচল থাকে এসব সমিল। বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। এমন ঘটনা কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায়।
সূত্রে জানা গেছে- উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০ টি অবৈধ সমিল রয়েছে। তারমধ্যে রাজাপালং ইউনিয়নে ৫ টি, রত্না পালং ইউনিয়ন ৪ টি, জালিয়াপালং ইউনিয়নে ৩ টি, হলদিয়াপালং ইউনিয়নে ২ টি ও পালংখালী ইউনিয়নের ৬ টির মত সমিল বসানো হয়েছে।
স-মিল চালানোর ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ম নীতি থাকলেও উপজেলা জুড়ে এ চিত্র ভিন্ন। বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়ে সতর্ক করা হলেও চোখের সামনে প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করেই চলছে এসব স-মিল।
স্থানীয়রা জানিয়েছে- বন ও পরিবেশ বিভাগের তদারকির অভাবে রাস্তার পাশ, আবাসিক স্থান, বাণিজ্যিক এলাকায় স্থাপিত হয়েছে এসব স’মিল।
তাদের অভিযোগ- উপজেলা জুড়ে সর্বত্র গজিয়ে উঠেছে এসব স-মিল। স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণে এসব অবৈধ স-মিল ব্যবসা করে আসছে। ফলে সরকার হারাচ্ছে প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের রাজস্ব।
সূত্র মতে, সমিল স্থাপনের জন্য বন বিভাগের লাইসেন্স প্রাপ্তির পর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হয়। সমিল লাইসেন্স বিধিমালা ২০১২-এর আইনে সুস্পষ্টভাবে বলা রয়েছে, করাতকল স্থাপন বা পরিচালনার জন্য লাইসেন্স ফি বাবদ ২ হাজার টাকা ‘১/৪৫৩১/০০০০/২৬৮১ (বিবিধ রাজস্ব ও প্রাপ্তি)’ খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা যেকোনো সরকারি ট্রেজারিতে জমাপূর্বক তার ট্রেজারি চালান আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত না করলে আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।
এছাড়াও সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিনোদন পার্ক, উদ্যান ও জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থানের ২০০ মিটারের মধ্যে সমিল স্থাপন করা যাবে না। বিধিমালায় আরো বলা আছে, এ আইন কার্যকর হওয়ার আগে কোনো নিষিদ্ধ স্থানে সমিল স্থাপন করা হয়ে থাকলে আইন কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে সেগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। যদি তা না করা হয় তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তা বন্ধের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। কিন্তু আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই।
লাইসেন্স না থাকার ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স-মিল মালিক জানান, তারা লাইসেন্স ছাড়াই চলতে পারছেন। তাই লাইসেন্স করার দরকার কী। লাইসেন্স পেতেও অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় তাই এভাবেই চলছেন তারা।
এদিকে গত ৪ অক্টোবর বিকেলে উখিয়া বনবিভাগ ও উপজেলা প্রসাশনের যৌথ অভিযানে ২টি স’মিল উচ্ছেদ করেছে। এ নিয়ে গত তিনমাসে স’মিল উচ্ছেদ ৮টি, ১৫ একর বনবিভাগের জায়গায় উদ্ধার ও সিআর মামলা ১০, ড্রেজার মিসিং উদ্ধার ৫টি। এতকিছুর পরও বন্ধ হচ্ছে না এসব অপরাধ।
উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী শফিউল আলম জানান, অবৈধ স’মিল স্থাপন করে বনের কাঠ চিরাই কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে তথ্য উপাত্ত নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিছুদিন আগেও আমরা অবৈধ সমিলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছিলাম। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র গড়ে ওঠা স-মিলের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন সজীব জানান, উখিয়া উপজেলায় স’মিল উচ্ছেদের বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। রাজাপালং এলাকায় দুটি সমিল উচ্ছেদ সহ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আবার অবৈধ সমিল গুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবো।###

মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দেখাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

উখিয়ায় থেমে নেই অবৈধ স’মিল ব্যবসা, সাবাড় হচ্ছে বন

আপডেট সময় : ০৪:০৬:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৩
সরকারী অনুমোদন ছাড়াই যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অবৈধ স-মিল (করাত কল)। কোন নিয়মনীতি না মেনে এসব অবৈধ করাত কল চলছে আর প্রতিদিন সাবাড় হচ্ছে বনজ, ফলদসহ নানা প্রজাতির গাছ। আর সেইসাথে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। রাতে দিনে সব সময় সচল থাকে এসব সমিল। বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। এমন ঘটনা কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায়।
সূত্রে জানা গেছে- উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০ টি অবৈধ সমিল রয়েছে। তারমধ্যে রাজাপালং ইউনিয়নে ৫ টি, রত্না পালং ইউনিয়ন ৪ টি, জালিয়াপালং ইউনিয়নে ৩ টি, হলদিয়াপালং ইউনিয়নে ২ টি ও পালংখালী ইউনিয়নের ৬ টির মত সমিল বসানো হয়েছে।
স-মিল চালানোর ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ম নীতি থাকলেও উপজেলা জুড়ে এ চিত্র ভিন্ন। বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়ে সতর্ক করা হলেও চোখের সামনে প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করেই চলছে এসব স-মিল।
স্থানীয়রা জানিয়েছে- বন ও পরিবেশ বিভাগের তদারকির অভাবে রাস্তার পাশ, আবাসিক স্থান, বাণিজ্যিক এলাকায় স্থাপিত হয়েছে এসব স’মিল।
তাদের অভিযোগ- উপজেলা জুড়ে সর্বত্র গজিয়ে উঠেছে এসব স-মিল। স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণে এসব অবৈধ স-মিল ব্যবসা করে আসছে। ফলে সরকার হারাচ্ছে প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের রাজস্ব।
সূত্র মতে, সমিল স্থাপনের জন্য বন বিভাগের লাইসেন্স প্রাপ্তির পর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হয়। সমিল লাইসেন্স বিধিমালা ২০১২-এর আইনে সুস্পষ্টভাবে বলা রয়েছে, করাতকল স্থাপন বা পরিচালনার জন্য লাইসেন্স ফি বাবদ ২ হাজার টাকা ‘১/৪৫৩১/০০০০/২৬৮১ (বিবিধ রাজস্ব ও প্রাপ্তি)’ খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা যেকোনো সরকারি ট্রেজারিতে জমাপূর্বক তার ট্রেজারি চালান আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত না করলে আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।
এছাড়াও সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বিনোদন পার্ক, উদ্যান ও জনস্বাস্থ্য বা পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থানের ২০০ মিটারের মধ্যে সমিল স্থাপন করা যাবে না। বিধিমালায় আরো বলা আছে, এ আইন কার্যকর হওয়ার আগে কোনো নিষিদ্ধ স্থানে সমিল স্থাপন করা হয়ে থাকলে আইন কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে সেগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। যদি তা না করা হয় তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তা বন্ধের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। কিন্তু আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই।
লাইসেন্স না থাকার ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স-মিল মালিক জানান, তারা লাইসেন্স ছাড়াই চলতে পারছেন। তাই লাইসেন্স করার দরকার কী। লাইসেন্স পেতেও অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় তাই এভাবেই চলছেন তারা।
এদিকে গত ৪ অক্টোবর বিকেলে উখিয়া বনবিভাগ ও উপজেলা প্রসাশনের যৌথ অভিযানে ২টি স’মিল উচ্ছেদ করেছে। এ নিয়ে গত তিনমাসে স’মিল উচ্ছেদ ৮টি, ১৫ একর বনবিভাগের জায়গায় উদ্ধার ও সিআর মামলা ১০, ড্রেজার মিসিং উদ্ধার ৫টি। এতকিছুর পরও বন্ধ হচ্ছে না এসব অপরাধ।
উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী শফিউল আলম জানান, অবৈধ স’মিল স্থাপন করে বনের কাঠ চিরাই কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে তথ্য উপাত্ত নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিছুদিন আগেও আমরা অবৈধ সমিলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছিলাম। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র গড়ে ওঠা স-মিলের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন সজীব জানান, উখিয়া উপজেলায় স’মিল উচ্ছেদের বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। রাজাপালং এলাকায় দুটি সমিল উচ্ছেদ সহ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আবার অবৈধ সমিল গুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবো।###