মৌসুমী নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে হু-হু করে বাড়ছে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি। এতে করে হ্রদ সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি ও ঘর-বাড়িগুলোর অনেকাংশই এখন পানিতে নিমজ্জিত। কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধিতে থৈথৈ করছে বিশাল এ হ্রদ। ফলে হ্রদ তীরবর্তী নিঁচু অঞ্চলের হাজারো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছে। হ্রদের পানি বৃদ্ধিতে ইতোমধ্যেই দেশের একমাত্র জল বিদ্যুৎকেন্দ্রে বেড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। হ্রদের পানি বৃদ্ধির ফলে তলিয়ে গেছে সিম্বল অব রাঙামাটি খ্যাত ঝুলন্ত সেতু। পর্যটক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে প্রশাসন।
একদিকে, টানা বর্ষণে পাহাড়ি এ জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে জেলা সদর, কাপ্তাই, লংগদু, বাঘাইছড়ি এবং সাজেকসহ বিভিন্ন এলাকার বসবাসরত জনগোষ্ঠী রয়েছে বিপদের মুখে।
অন্যদিকে, জেলার নদ-নদী ও ছড়া-খালের পানি দ্রুত বাড়ছে। চেঙ্গী, কাঁচালং ও মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ইতিমধ্যে কিছু নিচু এলাকায় প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ফলে কাপ্তাই হ্রদে বিপদসীমার কাছাকাছি দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
পাহাড়ের ঝুঁকিতে ও হ্রদ তীরবর্তী বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন। প্রয়োজনে প্রশাসনের খোলা আশ্রয় কেন্দ্রে উঠতে তাদের প্রতি আহ্বান করা হয়।
লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগ মোকাবেলায় বিভিন্ন প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ড্রেজিং না হওয়ায় কাপ্তাই হ্রদের তলদেশ পলি জমে ভরাট হয়ে নির্দিষ্ট স্তর উপরের দিকে উঠে গেছে। এতে করে পানি পরিমাপের চেয়ে বেশি হয়ে হ্রদ সংলগ্ন নিন্মাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে যায়। যার কারণে প্রতিবছরই নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী স্থানীয় জনসাধারণ ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে কৃষকসহ খেটে খাওয়া দিনমজুর ও সাধরণ মানুষজন পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেন।
























