১২:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়িতে অসহায় ৫০ নারী পেলেন ছাগল, হাঁস ও মুরগি

“অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়” এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবার সরাসরি দরিদ্র নারীদের জীবিকা উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছে।
বিকেলে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার শব্দমিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক ব্যতিক্রমী আয়োজনে ৫০ জন অসচ্ছল ও দরিদ্র নারীর হাতে তুলে দেওয়া হয় ছাগল, হাঁস ও মুরগি।
উদ্দেশ্য একটাই — নারীরা যেন নিজেদের পায়ে নিজেরা দাঁড়াতে পারেন, পরিবারকে দিতে পারেন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং সমাজে গড়ে উঠবে সম্মানজনক অবস্থান।
এই সহায়তা কর্মসূচির পেছনে রয়েছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রত্যক্ষ অর্থায়ন ও মানবিক চিন্তা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা তিনি বলেন, “আজ আমরা শুধু প্রাণী বিতরণ করছি না, বরং নারীদের হাতে তুলে দিচ্ছি স্বনির্ভরতার চাবিকাঠি। একজন নারী যখন স্বাবলম্বী হন, তখন তার সন্তান শিক্ষিত হয়, পরিবার এগিয়ে যায়, সমাজ বদলে যায়। এটা একটি পরিবর্তনের সূচনা।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, ক্লাব প্রতিনিধি ও উপকারভোগী নারীরা।
স্থানীয়রা শব্দমিয়া পাড়ার শিক্ষা, অবকাঠামো ও অন্যান্য সামাজিক উন্নয়নে জেলা পরিষদের চলমান ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও আরও সহায়তার আহ্বান জানান।
উপকারভোগীদের অনেকেই আবেগঘন কণ্ঠে জানান, এর আগে তারা কখনো সরকারি সহায়তায় এমন সুযোগ পাননি। এখন তারা বাড়িতে প্রাণিসম্পদ লালনপালন করে নিজে উপার্জন করতে পারবেন, এটাই তাদের জীবনে নতুন আশার আলো।
প্রসঙ্গত, পাহাড়ি অঞ্চলে পশুপালন শুধু একটি আয়ের উৎস নয়, এটি নারীর ক্ষমতায়নের একটি কার্যকর পথও বটে। ছাগল, হাঁস ও মুরগির মাধ্যমে সহজে ঘরে বসে আয় করা সম্ভব হওয়ায় এই কার্যক্রম স্থানীয় নারীদের জন্য একটি আর্নিং পয়েন্ট হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা পরিষদের এমন উদ্যোগ যেন আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়ে তৃণমূল জনপদে, এই প্রত্যাশাই এখন শব্দমিয়া পাড়ার নারীদের চোখে-মুখে।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

মা নিজেই নদীতে ফেলার ঘটনা স্বীকার, শিশু জীবিত উদ্ধার

খাগড়াছড়িতে অসহায় ৫০ নারী পেলেন ছাগল, হাঁস ও মুরগি

আপডেট সময় : ০৫:০০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

“অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়” এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবার সরাসরি দরিদ্র নারীদের জীবিকা উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছে।
বিকেলে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার শব্দমিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক ব্যতিক্রমী আয়োজনে ৫০ জন অসচ্ছল ও দরিদ্র নারীর হাতে তুলে দেওয়া হয় ছাগল, হাঁস ও মুরগি।
উদ্দেশ্য একটাই — নারীরা যেন নিজেদের পায়ে নিজেরা দাঁড়াতে পারেন, পরিবারকে দিতে পারেন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং সমাজে গড়ে উঠবে সম্মানজনক অবস্থান।
এই সহায়তা কর্মসূচির পেছনে রয়েছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রত্যক্ষ অর্থায়ন ও মানবিক চিন্তা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা তিনি বলেন, “আজ আমরা শুধু প্রাণী বিতরণ করছি না, বরং নারীদের হাতে তুলে দিচ্ছি স্বনির্ভরতার চাবিকাঠি। একজন নারী যখন স্বাবলম্বী হন, তখন তার সন্তান শিক্ষিত হয়, পরিবার এগিয়ে যায়, সমাজ বদলে যায়। এটা একটি পরিবর্তনের সূচনা।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, ক্লাব প্রতিনিধি ও উপকারভোগী নারীরা।
স্থানীয়রা শব্দমিয়া পাড়ার শিক্ষা, অবকাঠামো ও অন্যান্য সামাজিক উন্নয়নে জেলা পরিষদের চলমান ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও আরও সহায়তার আহ্বান জানান।
উপকারভোগীদের অনেকেই আবেগঘন কণ্ঠে জানান, এর আগে তারা কখনো সরকারি সহায়তায় এমন সুযোগ পাননি। এখন তারা বাড়িতে প্রাণিসম্পদ লালনপালন করে নিজে উপার্জন করতে পারবেন, এটাই তাদের জীবনে নতুন আশার আলো।
প্রসঙ্গত, পাহাড়ি অঞ্চলে পশুপালন শুধু একটি আয়ের উৎস নয়, এটি নারীর ক্ষমতায়নের একটি কার্যকর পথও বটে। ছাগল, হাঁস ও মুরগির মাধ্যমে সহজে ঘরে বসে আয় করা সম্ভব হওয়ায় এই কার্যক্রম স্থানীয় নারীদের জন্য একটি আর্নিং পয়েন্ট হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা পরিষদের এমন উদ্যোগ যেন আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়ে তৃণমূল জনপদে, এই প্রত্যাশাই এখন শব্দমিয়া পাড়ার নারীদের চোখে-মুখে।

এমআর/সবা