০৬:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে শিপিং এজেন্টদের বিরোধ

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শিপিং এজেন্টদের মধ্যে কন্টেনার জাহাজের সংখ্যা কমানো নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে সক্ষমতার চেয়ে বেশি জাহাজ চলাচল করায় বহির্নোঙরে জট, জাহাজের অবস্থানকাল বৃদ্ধি এবং সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে তারা অনুমোদিত জাহাজের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০০টির মধ্যে সীমিত রাখতে চায়।

অন্যদিকে শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, প্রতিটি জাহাজ আলাদা কোম্পানির মালিকানাধীন হওয়ায় কোনো প্রতিষ্ঠান তার জাহাজ কমাতে রাজি নয়। বরং জাহাজ কমালে বন্দরের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে অনুমোদিত জাহাজের সংখ্যা ছিল ৯৬টি। পরে আন্তর্জাতিক বাজারে কন্টেনার সংকট মোকাবেলায় এডহক ভিত্তিতে তা বেড়ে ১১৮টিতে দাঁড়ায়। ফলে সক্ষমতার চেয়ে বাড়তি জাহাজ চলাচল করায় বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ সময় ও জাহাজজট বেড়েছে।

এ অবস্থায় গত ২০ জুলাইয়ের বৈঠকে বন্দর কর্তৃপক্ষ ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে অন্তত ১৫টি জাহাজ কমানোর নির্দেশ দেয়। কিন্তু শিপিং এজেন্টরা কোনো জাহাজ কমাতে পারেনি। পরবর্তীতে আবারো চিঠি দিয়ে আল্টিমেটাম দেয়া হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি তারা।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ এক চিঠিতে বলেন, “বন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি অনেক উন্নত হয়েছে। জাহাজজট নেই। এমন অবস্থায় জাহাজ কমানোর সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক এবং বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক শিপিং রুটে পরিবর্তন ও দেশে নানা কারণে সাময়িকভাবে বাড়তি জাহাজের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এগুলো অপারেশনাল সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারছে না এবং এখন বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত করছে। তাই আমদানি–রপ্তানির স্বার্থেই জাহাজের সংখ্যা কমানো ছাড়া বিকল্প নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র সংসদে ভোটের ফল জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল

বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে শিপিং এজেন্টদের বিরোধ

আপডেট সময় : ০৯:৪০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শিপিং এজেন্টদের মধ্যে কন্টেনার জাহাজের সংখ্যা কমানো নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে সক্ষমতার চেয়ে বেশি জাহাজ চলাচল করায় বহির্নোঙরে জট, জাহাজের অবস্থানকাল বৃদ্ধি এবং সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে তারা অনুমোদিত জাহাজের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০০টির মধ্যে সীমিত রাখতে চায়।

অন্যদিকে শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, প্রতিটি জাহাজ আলাদা কোম্পানির মালিকানাধীন হওয়ায় কোনো প্রতিষ্ঠান তার জাহাজ কমাতে রাজি নয়। বরং জাহাজ কমালে বন্দরের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে অনুমোদিত জাহাজের সংখ্যা ছিল ৯৬টি। পরে আন্তর্জাতিক বাজারে কন্টেনার সংকট মোকাবেলায় এডহক ভিত্তিতে তা বেড়ে ১১৮টিতে দাঁড়ায়। ফলে সক্ষমতার চেয়ে বাড়তি জাহাজ চলাচল করায় বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ সময় ও জাহাজজট বেড়েছে।

এ অবস্থায় গত ২০ জুলাইয়ের বৈঠকে বন্দর কর্তৃপক্ষ ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে অন্তত ১৫টি জাহাজ কমানোর নির্দেশ দেয়। কিন্তু শিপিং এজেন্টরা কোনো জাহাজ কমাতে পারেনি। পরবর্তীতে আবারো চিঠি দিয়ে আল্টিমেটাম দেয়া হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি তারা।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ এক চিঠিতে বলেন, “বন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি অনেক উন্নত হয়েছে। জাহাজজট নেই। এমন অবস্থায় জাহাজ কমানোর সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক এবং বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক শিপিং রুটে পরিবর্তন ও দেশে নানা কারণে সাময়িকভাবে বাড়তি জাহাজের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এগুলো অপারেশনাল সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারছে না এবং এখন বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত করছে। তাই আমদানি–রপ্তানির স্বার্থেই জাহাজের সংখ্যা কমানো ছাড়া বিকল্প নেই।