রংপুরে চলছে পাট শুকানোর ধুম। পাট যাক (পচানো) দেয়া শেষে আঁশ ছাড়িয়ে শুকিয়ে ঘরে তোলার পালা। গ্রামাঞ্চলের চারিদিকে চোখে পড়ে পাট শুকানো ও পাটকাঠির দাঁড়িয়ে রাখার দৃশ্য। কেউ পাটের আঁশ শুকাচ্ছেন, কেউ ঘরে তুলছেন, আবার কেউবা গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খরা রোদের মাঠে। চারিদিকে বাতাসে ঢেউ খেলছে সোনালী আঁশ পাটের ঘ্রাণ। রংপুর জেলাসহ দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ,লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকার পাট শুকানোর এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে। সবুজ সমারোহ থেকে কেটে আনা পাট খোলা জায়গায় কৃষক ও শ্রমিকরা কেটে পানিতে যাক দেয়ার পর আঁশ আলাদা করে রোদে শুকাচ্ছেন স্বপ্ন পূরণের জন্য। রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার পাটের ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। তবে শুরুর দিক সঠিক সময়ে বৃষ্টির অভাবে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। ভালো দাম পাওয়া গেলে এটা পোশানো যাবে। আবাদ সুবাদ করি প্রতি মৌসুমে না পোশাইলেও ক্ষেত ফাঁকা রাখি না। আবাদ দেখিয়া চোখ জুড়াই। মাটি ফসল রক্তে মিশি গেছে। রংপুর সদর উপজেলার কৃষক আলাল উদ্দীন বলেন, বাপ দাদার আমল থাকি পাট আবাদ করি। আগোত লাভ আছিল মেলা এইজইনতে সোনালী আঁশ কইছে। এলা দাম নাই তাও আবাদ না করি পাওনা না। এবার পানি কম আছিল তাও আবাদ ভাল হইছে, আশাকরি পাটের দাম ভালো পামো। এলাতো ভালো দাম পাওয়ার কথা, পাট দিয়া বড় বড় কোম্পানিত নতুন নতুন মেলা জিনিস তৈরি করি বিদেশোত পাঠায়। হামার পাট তামরা লাভ করে কিন্তু হামরা দাম পাইনা। এই জইনতে হামার অনুরোধ এবার জানি দাম ভালো পাই। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার নগরবন এলাকার কৃষকরা বলেন, সময়মতো বৃষ্টির দেখা না পাইলেও আবাদের কষ্টের পাট প্রস্তুত করা হচ্ছে ভালো দামের আশায়৷ ফলন ভালো হইছে, কাঠফাটা রোইদে পুরিয়া, বউ বাচ্চা সবাই মিলিয়া পাট প্রস্তুত করতেছি লাভে বিক্রি করবো। ভালো দাম পাইলে আমাদের কষ্টটা গায়ে লাগেনা। আমরা পাটচাষিরা আশাবাদী পাটের দাম ভালো পাবো। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর আঞ্চলিক অফিস সূত্র জানা যায়, চলতি মৌসুমে রংপুরে ৯ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে ৪ থেকে ৪.৫০ মেট্রিক টন হিসেবে প্রায় ৪৩ হাজার মেট্রিক টন পাটকাঠি উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন তারা। এদিকে শুধু পাটের আঁশ নয়, পাটকাঠিতেও স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা। কেননা পাটের সঙ্গে কদর বেড়েছে পাটকাঠিরও। বাড়ির সামনে, পাকা সড়ক কিংবা মাঠ-ঘাট যেখানে চোখ যায় সেখানেই চোখে পড়েছে পাটকাঠি শুকানো ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। প্রাচীন কাল থেকে রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া, পানের বরজ, গৃহস্থালি সামগ্রীসহ বিভিন্ন সৌখিন পাটজাত পণ্য তৈরির কাজে পাটকাঠির জুড়ি নেই। বর্তমানে বিভিন্ন পার্টিকেল বোর্ড তৈরি ছাড়াও বিভিন্ন কলকারখানায় পাটকাঠির ব্যবহার বেড়েছে। এতে করে ভালো দামের আশায় কৃষকের স্বপ্ন রোদে শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক পরিবার।
এসএস/সবা
























