০৪:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হালদা নদীতে ডিম ছাড়ার মৌসুম শুরু, অপেক্ষায় ডিম সংগ্রহকারীরা

প্রাকৃতিকভাবে কার্পজাতীয় মাছের প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে খ্যাত হালদা নদীতে শুরু হয়েছে ডিম ছাড়ার মৌসুম। ইতোমধ্যে নদীতে মা মাছের চলাচল লক্ষ্য করা গেলেও, এখনও ডিম ছাড়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক পরিবেশ পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তবে সম্ভাব্য ডিম ছাড়ার সময়কে ঘিরে প্রস্তুত হয়ে উঠেছেন ডিম সংগ্রহকারীরা।

গত এপ্রিল মাসে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার দুটি গুরুত্বপূর্ণ জো অতিবাহিত হয়েছে। বর্তমানে মে মাসে ৯ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত পূর্ণিমার এবং ২০ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত অমাবস্যার জো রয়েছে। পাশাপাশি জুন মাসেও রয়েছে দুটি বড় জো। এসব সময়েই ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন হালদা গবেষক ও স্থানীয় মৎস্য বিশেষজ্ঞরা।

চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, “চলতি পূর্ণিমার জোঁ’তে বজ্রপাতসহ বৃষ্টির প্রতীক্ষায় রয়েছে হালদার মা মাছগুলো।” তিনি আরও বলেন, কার্পজাতীয় মাছ সাধারণত এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে বজ্রপাত ও বৃষ্টির প্রভাবে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে তীব্র স্রোতের কারণে ডিম ছাড়ে। এ সময় পানির তাপমাত্রা কমে ২৫-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে এবং অন্যান্য ভৌত ও রাসায়নিক উপাদান যেমন দ্রবীভূত অক্সিজেন, পিএইচ, স্রোত, টারবিডিটি ইত্যাদি অনুকূল থাকলে ডিম ছাড়ার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

চলতি মে মাসের ১ তারিখ হালদা নদীর স্পনিং গ্রাউন্ডে পানি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির গুণগত মান ভালো এবং লবণাক্ততা ও দূষণের প্রভাব নেই। তবে পানির তাপমাত্রা আদর্শ মানের তুলনায় কিছুটা বেশি রয়েছে। ডিম সংগ্রহের জন্য স্থানীয় সংগ্রহকারীরা নৌকা, জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম প্রস্তুত রেখেছেন। কেউ কেউ নদীপাড়ে অবস্থান করে রাতদিন পাহারা দিচ্ছেন, যাতে হঠাৎ ডিম ছাড়ার ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করা যায়।

সরকারি হ্যাচারিগুলোও প্রস্তুত রয়েছে রেণু সংরক্ষণের জন্য। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বড় ধরনের ডিম ছাড়ার ঘটনা ঘটলে দ্রুত রেণু সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় মৎস্যজীবীরা আশা করছেন, মে ও জুন মাসে একাধিকবার বড় পরিসরে ডিম ছাড়তে পারে মা মাছ। প্রকৃতি সহায় হলে এবারের মৌসুমে ভালো পরিমাণে রেণু সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হালদা নদীতে ডিম ছাড়ার মৌসুম শুরু, অপেক্ষায় ডিম সংগ্রহকারীরা

আপডেট সময় : ১০:০৫:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫

প্রাকৃতিকভাবে কার্পজাতীয় মাছের প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে খ্যাত হালদা নদীতে শুরু হয়েছে ডিম ছাড়ার মৌসুম। ইতোমধ্যে নদীতে মা মাছের চলাচল লক্ষ্য করা গেলেও, এখনও ডিম ছাড়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক পরিবেশ পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তবে সম্ভাব্য ডিম ছাড়ার সময়কে ঘিরে প্রস্তুত হয়ে উঠেছেন ডিম সংগ্রহকারীরা।

গত এপ্রিল মাসে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার দুটি গুরুত্বপূর্ণ জো অতিবাহিত হয়েছে। বর্তমানে মে মাসে ৯ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত পূর্ণিমার এবং ২০ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত অমাবস্যার জো রয়েছে। পাশাপাশি জুন মাসেও রয়েছে দুটি বড় জো। এসব সময়েই ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন হালদা গবেষক ও স্থানীয় মৎস্য বিশেষজ্ঞরা।

চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, “চলতি পূর্ণিমার জোঁ’তে বজ্রপাতসহ বৃষ্টির প্রতীক্ষায় রয়েছে হালদার মা মাছগুলো।” তিনি আরও বলেন, কার্পজাতীয় মাছ সাধারণত এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে বজ্রপাত ও বৃষ্টির প্রভাবে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে তীব্র স্রোতের কারণে ডিম ছাড়ে। এ সময় পানির তাপমাত্রা কমে ২৫-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে এবং অন্যান্য ভৌত ও রাসায়নিক উপাদান যেমন দ্রবীভূত অক্সিজেন, পিএইচ, স্রোত, টারবিডিটি ইত্যাদি অনুকূল থাকলে ডিম ছাড়ার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

চলতি মে মাসের ১ তারিখ হালদা নদীর স্পনিং গ্রাউন্ডে পানি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির গুণগত মান ভালো এবং লবণাক্ততা ও দূষণের প্রভাব নেই। তবে পানির তাপমাত্রা আদর্শ মানের তুলনায় কিছুটা বেশি রয়েছে। ডিম সংগ্রহের জন্য স্থানীয় সংগ্রহকারীরা নৌকা, জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম প্রস্তুত রেখেছেন। কেউ কেউ নদীপাড়ে অবস্থান করে রাতদিন পাহারা দিচ্ছেন, যাতে হঠাৎ ডিম ছাড়ার ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করা যায়।

সরকারি হ্যাচারিগুলোও প্রস্তুত রয়েছে রেণু সংরক্ষণের জন্য। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বড় ধরনের ডিম ছাড়ার ঘটনা ঘটলে দ্রুত রেণু সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় মৎস্যজীবীরা আশা করছেন, মে ও জুন মাসে একাধিকবার বড় পরিসরে ডিম ছাড়তে পারে মা মাছ। প্রকৃতি সহায় হলে এবারের মৌসুমে ভালো পরিমাণে রেণু সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে।