প্রেম, পারিবারিক সিদ্ধান্ত আর শুভলগ্নের প্রতি বিশ্বাস—এই তিনের সমন্বয়ে মানিকগঞ্জে এক ব্যতিক্রমধর্মী বিয়ের আয়োজন হয়ে গেল। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়েই জীবনসঙ্গীকে গ্রহণ করলেন আনন্দ সাহা নামের এক যুবক।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মানিকগঞ্জ শহরের আফরোজা বেগম জেনারেল হাসপাতালে সম্পন্ন হয় এই বিয়ে। ঘটনাটি শুধু উপস্থিত মানুষকেই নয়, খবর পেয়ে আশেপাশের এলাকাবাসীকেও চমকে দিয়েছে।
আনন্দ সাহা, মানিকগঞ্জ শহরের বাজার রোড এলাকার বাসিন্দা। দুই সপ্তাহ আগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। বর্তমানে তার হাত-পায়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা, চলাফেরাও সীমিত। তবু পেছায়নি বিয়ের দিন।
পঞ্জিকা অনুসারে শুভ লগ্ন আগেই নির্ধারিত ছিল। তাই দুই পরিবারের আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় বিয়ে পিছোবে না, বরং হাসপাতালেই সম্পন্ন হবে বিয়ে ।
বিয়ের দিন ঘনিয়ে আসায় বর ও কনের পরিবার বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে অনুমতি দেয়।
আনন্দ সাহার পরিবার জানায়, ‘ধর্মীয় রীতি ও সময় মেনে বিয়ের দিন পরিবর্তন না করে, চিকিৎসকের পরামর্শে এবং হাসপাতালের সহযোগিতায় বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।’
হাসপাতালের বেডে বসেই বিয়ের পর আনন্দ সাহা বলেন, ‘কিছুদিন আগে দুর্ঘটনায় আহত হই। এখন আগের তুলনায় অনেকটাই ভালো। আমার বিয়ে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞ।’
কনে অমৃতা সরকার, ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরি গ্রামের বাসিন্দা। বিয়ের মুহূর্তে তাঁর চোখেমুখে খুশির ছাপ স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিয়ে পারিবারিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমি খুব খুশি। আমার স্বামীর জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’
আফরোজা বেগম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট প্রধান ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘রোগী আনন্দ সাহা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ভর্তি হন। বিয়ের দিন ঘনিয়ে আসায় পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতালেই বিয়ের আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে কনসালট্যান্টদের পরামর্শে অনুমতি দেওয়া হয়।’
দুর্ঘটনা জীবনের গতি ব্যাহত করলেও প্রেম ও পারিবারিক সিদ্ধান্তের জোরে থামানো যায়নি শুভলগ্নকে। হাসপাতালের বেডে শুয়ে হলেও ধর্মীয় রীতি মেনে সম্পন্ন হওয়া এই বিয়ে মানিকগঞ্জে হয়ে উঠেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।




















