১১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
জনমনে ক্ষোভ, উঠছে ‘সাবোটাজের’ অভিযোগ

নীলফামারীতে আযানের সময় নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট

নীলফামারী শহরের একাংশের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে আসর ও মাগরিবের আযানের সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এখন এক প্রকার ‘নিয়মে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

শাহীপাড়া, থানাপাড়া, উকিলপাড়া, মাষ্টারপাড়া, কলেজপাড়া, ধনিপাড়া, জুম্মাপাড়া, ফুড অফিসপাড়া, ছিট ইটাখোলা, নতুনবাজার, স্টাফ কোয়ার্টারসহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে একই চিত্র দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, আযান শুরু হতেই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়, ফলে অন্তত ৩০টির বেশি মসজিদে একসাথে বন্ধ হয়ে যায় আযান। নামাজ শেষে ১০–১৫ মিনিটের মধ্যেই আবার বিদ্যুৎ চলে আসে। এ পরিস্থিতি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—এটা কি নিছক কাকতালীয়, নাকি পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে?

অভিযোগ রয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে সাধারণ মানুষের এলাকায় বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলেও ভিআইপি ফিডার, সার্কিট হাউস ও আমলাদের আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ থাকে নিরবচ্ছিন্ন। এতে করে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে বৈষম্য ও ক্ষোভ বাড়ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, লোডশেডিং এনএলডিসি (ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার) থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। তবে প্রতিদিন আযানের সময় লাইন কেন বন্ধ করা হয়, তার স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি কেউ। এনএলডিসির নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া মেলেনি।

বিদ্যুৎ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, হাসপাতাল ফিডার সাধারণত লোডশেডিংয়ের আওতার বাইরে থাকার কথা থাকলেও নীলফামারীতে উল্টো ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এখানে হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসংবলিত এলাকাকে লোডশেডিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে, অথচ আমলাদের আবাসিক এলাকা রাখা হয়েছে মুক্ত।

বর্তমানে নীলফামারী শহরে নিউ ওয়াপদা সাবস্টেশন থেকে ৭টি ফিডার এবং সবুজপাড়া সাবস্টেশন থেকে ৬টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এনএলডিসি নিয়ন্ত্রিত নিউ ওয়াপদা ফিডারের আওতায় পড়েছে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শিশু মঙ্গল মাতৃসদন, সরকারি কলেজ, মহিলা কলেজ, বিজ্ঞান কলেজ, টিটিসিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

এলাকার সাধারণ মানুষ বলছেন, প্রতিদিন আযানের সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়া নিছক কাকতাল নয়। এ ঘটনায় তারা পরিকল্পিত ‘সাবোটাজের’ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান দাবি করেছেন।

এমআর/সবা

জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

জনমনে ক্ষোভ, উঠছে ‘সাবোটাজের’ অভিযোগ

নীলফামারীতে আযানের সময় নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট

আপডেট সময় : ০৪:৩৮:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নীলফামারী শহরের একাংশের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে আসর ও মাগরিবের আযানের সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এখন এক প্রকার ‘নিয়মে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

শাহীপাড়া, থানাপাড়া, উকিলপাড়া, মাষ্টারপাড়া, কলেজপাড়া, ধনিপাড়া, জুম্মাপাড়া, ফুড অফিসপাড়া, ছিট ইটাখোলা, নতুনবাজার, স্টাফ কোয়ার্টারসহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে একই চিত্র দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, আযান শুরু হতেই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়, ফলে অন্তত ৩০টির বেশি মসজিদে একসাথে বন্ধ হয়ে যায় আযান। নামাজ শেষে ১০–১৫ মিনিটের মধ্যেই আবার বিদ্যুৎ চলে আসে। এ পরিস্থিতি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—এটা কি নিছক কাকতালীয়, নাকি পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে?

অভিযোগ রয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে সাধারণ মানুষের এলাকায় বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলেও ভিআইপি ফিডার, সার্কিট হাউস ও আমলাদের আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ থাকে নিরবচ্ছিন্ন। এতে করে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে বৈষম্য ও ক্ষোভ বাড়ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, লোডশেডিং এনএলডিসি (ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার) থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। তবে প্রতিদিন আযানের সময় লাইন কেন বন্ধ করা হয়, তার স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি কেউ। এনএলডিসির নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া মেলেনি।

বিদ্যুৎ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, হাসপাতাল ফিডার সাধারণত লোডশেডিংয়ের আওতার বাইরে থাকার কথা থাকলেও নীলফামারীতে উল্টো ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এখানে হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসংবলিত এলাকাকে লোডশেডিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে, অথচ আমলাদের আবাসিক এলাকা রাখা হয়েছে মুক্ত।

বর্তমানে নীলফামারী শহরে নিউ ওয়াপদা সাবস্টেশন থেকে ৭টি ফিডার এবং সবুজপাড়া সাবস্টেশন থেকে ৬টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এনএলডিসি নিয়ন্ত্রিত নিউ ওয়াপদা ফিডারের আওতায় পড়েছে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শিশু মঙ্গল মাতৃসদন, সরকারি কলেজ, মহিলা কলেজ, বিজ্ঞান কলেজ, টিটিসিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

এলাকার সাধারণ মানুষ বলছেন, প্রতিদিন আযানের সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়া নিছক কাকতাল নয়। এ ঘটনায় তারা পরিকল্পিত ‘সাবোটাজের’ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান দাবি করেছেন।

এমআর/সবা