০২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসন পুনরুদ্ধারের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় পার্টি

জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন
মুহাম্মদ এরশাদ ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। জাতীয় পার্টির দুর্গ
হিসেবে খ্যাত রংপুর বিভাগ। গাইবান্ধা, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও
পঞ্চগড় ও দিনাজপুর জেলা নিয়ে রংপুর বিভাগ গঠিত হয়েছে। রংপুর বিভাগের আট জেলায় ৩৩টি
সংসদীয় আসন রয়েছে। ৩৩টি আসনের মধ্যে ৩২টি আসনে জয় লাভ করার রেকর্ড রয়েছে জাতীয়
পার্টির। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেই এ অঞ্চলের মানুষ তাকে ভোট নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত
করতেন। এক সময় রংপুর অঞ্চল মানেই ছিল জাতীয় পার্টি আর লাঙ্গল প্রতীক মানেই রংপুর অঞ্চলের ভোট
ব্যাংক। কিন্তু কালের প্রবাহে একটি রাজনৈতিক দলের ফাঁদে পড়ে জাতীয় পার্টির দুর্গ তছনছ
হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের দুর্গ উদ্ধারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। একটি
নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বাচনে
জাতীয় পার্টি অংশ নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতীয় পার্টির দুর্গ বলে পরিচিত
রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে শক্তিশালী প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে অভাবনীয় ফল পাওয়ার
আশা করছে দলটি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫টি আসনে জাতীয়
পার্টির প্রার্থীরা জয়ী হবেন বলে আশা করছেন দলের শীর্ষ নেতাগণ। সেই লক্ষ্যে দলের হাইকমান্ডের
নির্দেশে জাতীয় পার্টির রংপুর বিভাগীয় সভা করা হয়েছে বলে বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা
জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় পার্টির নেতা বলেন, অন্তর্বর্তীকালিন সরকার
আগামী ফ্রেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। দেশের বর্তমান
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াত ও এনসিপিপিআর পদ্ধতি দাবি করে সংসদ নির্বাচন বয়কট
করার কথা বলে বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি অবস্থা তৈরি করার জন্য চেষ্টা করছে। সেই
সঙ্গে আওয়ামী লীগকে নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না বলে ইতিমধ্যে একটা অবস্থা ও দলের কার্যক্রম
নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখন জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি করে নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
ইতিমধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে একাধিকবার হামলা আগুন
দেওয়াসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে। রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আব্দুর
রাজ্জাক বলেন, ঢাকাসহ সারা দেশে আমাদের দলের কার্যালয়ে হামলা অগ্নিসংযোগ আর মব করে
হচ্ছে, জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি করা হচ্ছে। এতে জাতীয় পার্টির পিঠ দেয়ালে ঠেকলেও
দলের নেতাকর্মীরা এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চেষ্টা করছে। দলের নেতাকর্মীরা আবারও চাঙা
হচ্ছে, ঢাকায় দলের নেতাকর্মীরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত। একই অবস্থা সারা
দেশে বিরাজ করছে। জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। সুষ্ঠু ও
নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জাতীয় পার্টি অভাবনীয় আসনে জয়ী হবে। জাতীয় পার্টির
প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক আজমল হোসেন লেবু বলেন, জাতীয় পার্টির
প্রতি মানুষের আস্থা আবারও ফিরে এসেছে। যতই অন্যায় অত্যাচার করা হবে জাতীয় পার্টি ততই
সংগঠিত হবে। রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে আবারও জাতীয় পার্টি হারানো আসন গুলো
পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে। আগামী নির্বাচনে অনেক বেশি আসনে জয়ী হবে। জাপার
প্রসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ স¤পাদক এস এম ইয়াসির বলেন, জাতীয়
পার্টি আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে। রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে শক্তিশালী প্রার্থী
দেবে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টিকে যারা নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন তাদের পায়ের তলার মাটি
সরে যাচ্ছে। আর একটি দল তো একটি আসনেও জয়ী হওয়ার ক্ষমতা নেই। তাদের বড় বড় কথা। গত এক
বছরে যারা মববাজি সন্ত্রাস, চাাঁদাবাজি, দখলবাজি করেছে- জনগণ তাদের এবার লালকার্ড
দেখাবে। জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান ও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র
মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, আমাদের দুর্গ রংপুর বিভাগের আট জেলায় দলকে আরও
সুসংগঠিত করার পদক্ষেপ নিয়েছি। রংপুর বিভাগের সকল সভাপতি ও স¤পাদকদের সঙ্গে সভা করা
হয়েছে। রংপুর জাতীয় পার্টির দুর্গ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমাদের ওপর চোখ তুলে
তাকানোর চেষ্টা করা রংপুরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসন পুনরুদ্ধারের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় পার্টি

আপডেট সময় : ১২:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন
মুহাম্মদ এরশাদ ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। জাতীয় পার্টির দুর্গ
হিসেবে খ্যাত রংপুর বিভাগ। গাইবান্ধা, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও
পঞ্চগড় ও দিনাজপুর জেলা নিয়ে রংপুর বিভাগ গঠিত হয়েছে। রংপুর বিভাগের আট জেলায় ৩৩টি
সংসদীয় আসন রয়েছে। ৩৩টি আসনের মধ্যে ৩২টি আসনে জয় লাভ করার রেকর্ড রয়েছে জাতীয়
পার্টির। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেই এ অঞ্চলের মানুষ তাকে ভোট নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত
করতেন। এক সময় রংপুর অঞ্চল মানেই ছিল জাতীয় পার্টি আর লাঙ্গল প্রতীক মানেই রংপুর অঞ্চলের ভোট
ব্যাংক। কিন্তু কালের প্রবাহে একটি রাজনৈতিক দলের ফাঁদে পড়ে জাতীয় পার্টির দুর্গ তছনছ
হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের দুর্গ উদ্ধারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। একটি
নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বাচনে
জাতীয় পার্টি অংশ নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতীয় পার্টির দুর্গ বলে পরিচিত
রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে শক্তিশালী প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে অভাবনীয় ফল পাওয়ার
আশা করছে দলটি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫টি আসনে জাতীয়
পার্টির প্রার্থীরা জয়ী হবেন বলে আশা করছেন দলের শীর্ষ নেতাগণ। সেই লক্ষ্যে দলের হাইকমান্ডের
নির্দেশে জাতীয় পার্টির রংপুর বিভাগীয় সভা করা হয়েছে বলে বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা
জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় পার্টির নেতা বলেন, অন্তর্বর্তীকালিন সরকার
আগামী ফ্রেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। দেশের বর্তমান
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াত ও এনসিপিপিআর পদ্ধতি দাবি করে সংসদ নির্বাচন বয়কট
করার কথা বলে বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি অবস্থা তৈরি করার জন্য চেষ্টা করছে। সেই
সঙ্গে আওয়ামী লীগকে নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না বলে ইতিমধ্যে একটা অবস্থা ও দলের কার্যক্রম
নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখন জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি করে নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
ইতিমধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে একাধিকবার হামলা আগুন
দেওয়াসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে। রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আব্দুর
রাজ্জাক বলেন, ঢাকাসহ সারা দেশে আমাদের দলের কার্যালয়ে হামলা অগ্নিসংযোগ আর মব করে
হচ্ছে, জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি করা হচ্ছে। এতে জাতীয় পার্টির পিঠ দেয়ালে ঠেকলেও
দলের নেতাকর্মীরা এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চেষ্টা করছে। দলের নেতাকর্মীরা আবারও চাঙা
হচ্ছে, ঢাকায় দলের নেতাকর্মীরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত। একই অবস্থা সারা
দেশে বিরাজ করছে। জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। সুষ্ঠু ও
নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জাতীয় পার্টি অভাবনীয় আসনে জয়ী হবে। জাতীয় পার্টির
প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক আজমল হোসেন লেবু বলেন, জাতীয় পার্টির
প্রতি মানুষের আস্থা আবারও ফিরে এসেছে। যতই অন্যায় অত্যাচার করা হবে জাতীয় পার্টি ততই
সংগঠিত হবে। রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে আবারও জাতীয় পার্টি হারানো আসন গুলো
পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে। আগামী নির্বাচনে অনেক বেশি আসনে জয়ী হবে। জাপার
প্রসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ স¤পাদক এস এম ইয়াসির বলেন, জাতীয়
পার্টি আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে। রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে শক্তিশালী প্রার্থী
দেবে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টিকে যারা নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন তাদের পায়ের তলার মাটি
সরে যাচ্ছে। আর একটি দল তো একটি আসনেও জয়ী হওয়ার ক্ষমতা নেই। তাদের বড় বড় কথা। গত এক
বছরে যারা মববাজি সন্ত্রাস, চাাঁদাবাজি, দখলবাজি করেছে- জনগণ তাদের এবার লালকার্ড
দেখাবে। জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান ও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র
মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, আমাদের দুর্গ রংপুর বিভাগের আট জেলায় দলকে আরও
সুসংগঠিত করার পদক্ষেপ নিয়েছি। রংপুর বিভাগের সকল সভাপতি ও স¤পাদকদের সঙ্গে সভা করা
হয়েছে। রংপুর জাতীয় পার্টির দুর্গ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমাদের ওপর চোখ তুলে
তাকানোর চেষ্টা করা রংপুরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করা হবে।