০৩:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পীরগাছায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষকের অভাব, ধর্মীয় শিক্ষায় সংকট

রংপুরের পীরগাছায় ছোট ঝিনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষকের সংকটে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষকের মধ্যে তিনজনই সনাতন ধর্মাবলম্বী। অথচ বিদ্যালয়ে একটি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক স্তরের (প্রে-৫ম শ্রেণি) ১৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী সনাতন ধর্মাবলম্বী। বিদ্যালয়ের অনুমোদিত শিক্ষক সংখ্যা পাঁচজন হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন চারজন।

এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা সালামের পরিবর্তে ‘আদাব’ ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে স্থানীয় মুসলিমদের অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। অভিভাবকরা বলছেন, শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত এ সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন, “আমাদের স্কুলে তিনজন হিন্দু স্যার থাকায় প্রতিদিন আদাব দিতে দিতে অভ্যাস হয়ে গেছে। তাই যেই আসুক আমরা আদাব দিয়ে থাকি।” একই শ্রেণির শিক্ষার্থী রেশমা বলেন, “আমাদের ম্যাডাম বলেছেন সালাম দিতে, তবে অভ্যাসবশত আদাব চলে আসে।” চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রুহান মিয়া ও পারভীন আক্তারও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান।

তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানা আক্তার শানু মনে করেন, “এতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, “সমস্যাটি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল জানান, “আসন্ন শিক্ষা কমিটির মিটিংয়ে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে এবং মহাপরিচালক বরাবর আবেদন পাঠানো হবে।”

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

পীরগাছায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষকের অভাব, ধর্মীয় শিক্ষায় সংকট

আপডেট সময় : ০৯:৪৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রংপুরের পীরগাছায় ছোট ঝিনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষকের সংকটে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষকের মধ্যে তিনজনই সনাতন ধর্মাবলম্বী। অথচ বিদ্যালয়ে একটি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক স্তরের (প্রে-৫ম শ্রেণি) ১৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী সনাতন ধর্মাবলম্বী। বিদ্যালয়ের অনুমোদিত শিক্ষক সংখ্যা পাঁচজন হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন চারজন।

এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা সালামের পরিবর্তে ‘আদাব’ ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে স্থানীয় মুসলিমদের অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। অভিভাবকরা বলছেন, শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত এ সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন, “আমাদের স্কুলে তিনজন হিন্দু স্যার থাকায় প্রতিদিন আদাব দিতে দিতে অভ্যাস হয়ে গেছে। তাই যেই আসুক আমরা আদাব দিয়ে থাকি।” একই শ্রেণির শিক্ষার্থী রেশমা বলেন, “আমাদের ম্যাডাম বলেছেন সালাম দিতে, তবে অভ্যাসবশত আদাব চলে আসে।” চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রুহান মিয়া ও পারভীন আক্তারও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান।

তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানা আক্তার শানু মনে করেন, “এতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, “সমস্যাটি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল জানান, “আসন্ন শিক্ষা কমিটির মিটিংয়ে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে এবং মহাপরিচালক বরাবর আবেদন পাঠানো হবে।”

এমআর/সবা