০৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সোনারগাঁয়ে বিএনপি নেতা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে নদীর জায়গা দখলের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নদীর জায়গা ও সরকারী খাস জমিতে মেঘনা আল- মোস্তফা কোম্পানির পক্ষে বালু ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপির নেতা আপন দুই ভাই এ বালু ভরাটের কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় মেঘনা নদীর শাখা মারীখালি নদীতে রাতের আঁধারে শক্তিশালী ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ফেলে এ জমিগুলো দখল করা হচ্ছে। সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ ও তার ছোট ভাই পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে এ বালু ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

তবে বিএনপি নেতার দাবি, তারা নিজের ও আল-মোস্তফা কোম্পানির ক্রয়কৃত জমিতে বালু ভরাট করেছেন। সেখানে কোন নদীর জায়গা নেই।

জানা গেছে, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের আষাঢ়িয়ার চর ব্রীজ এলাকায় মেঘনা নদীর শাখা মারীখালি নদীর জায়গা ও সরকারী খাস জমি দখল করে আল-মোস্তফা কোম্পানি বালু ভরাট করে দেয়ার দায়িত্ব দেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ ও তার ভাই পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলকে। অবৈধ ভরাটের ফলে এ নদীতে বিভিন্ন নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের জমিতে বালু ভরাট করছেন তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ এ নদীতে গোসল করা থেকে শুরু করে রান্নাবান্নার পানি নেয়ার জন্য এই স্থানটি ব্যবহার করতো। বর্তমানে বালু ভরাট করে ফেলার কারনে তা আর সম্ভব হচ্ছে না। মানুষের মাছ ধরার জীবিকাও নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। নদীর জমির পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানা জায়গাও দখল নিয়েছেন তারা। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এলাকায় দখলের রাজত্ব কায়েম করেছেন তারা দুই ভাই। সড়ক ও জনপথের জায়গা দখল করে দোকানপাট নির্মাণ, কোম্পানির ট্রাক আটকে চাঁদাবাজি, অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করে কারখানা পরিচালনা, জমি দখল, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে লুটপাটের মতো অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন এই দুই ভাই। সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় থাকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বিভিন্ন কোম্পানিতে গিয়ে আব্দুর রউফ ও তার ভাই আব্দুল জলিল উৎপাত শুরু করেন। একসময় বিরোধিতা করলেও এখন ওই কোম্পানির পক্ষেই অবস্থান নিয়ে নদীর জায়গা দখল করেছেন তারা।

পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমার বড় ভাই আবদুর রউফ আল-মোস্তফা কোম্পানি থেকে ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে বালু ভরাটের কাজ পেয়েছেন। সেই সূত্রে আমি এ কাজে জড়িত। তবে এ জায়গা সরকারি কি না তা আমাদের জানা নেই।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আষাঢ়িয়ার চর ব্রীজের পূর্ব পাশে বির্স্তৃণ এলাকা জুড়ে শাখা নদীতে বালু ভরাট করে রাখা হয়েছে। মারীখালি নদীর মধ্যভাগে বাঁশের খুটি ও বেড়া দিয়ে বালু ভরাট করা হচ্ছে। সেখানে গেলে তাদের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পান না।

তবে বালু ভরাটের কাজ করতে আসা এক শ্রমিক জানান, বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ ও তার ভাই আব্দুল জলিল আল-মোস্তফা নামে এক কোম্পানির বালু ভরাট করছেন।

আষাঢ়িয়ার চর গ্রামের মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, এ নদী ভরাট প্রতিদিন রাতের বেলায় করা হচ্ছে। দিনের বেলায় কোন কাজ করা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ জানান, এখানে কোন নদীর জায়গা নেই। আমার জায়গা ও কোম্পানির ক্রয়কৃত জমিতে বালু ভরাট করা হয়েছে। নদী আরো এক প্লট পরে রয়েছে।

অপরদিকে কোম্পানির চেয়ারম্যান আল-মোস্তফা জানান, এলাকাবাসী জায়গা ভরাট করছে। এখানে আমাদের কোম্পানিরও কিছু জমি রয়েছে। আমাদের জমিও ভরাট করা হচ্ছে। আমাদের জমি থেকে আড়াইশ’ ফুট দুরে হচ্ছে খাল। বিআইডব্লিউটিএ লোকও মেপেছে। এখন যেহেতু বর্ষাকাল, সব জায়গায় খাল দেখা যায়। তাই তারা ভরাট কাজ বন্ধ রাখতে বলেছেন। বর্তমানে আমরা ভরাট কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।

হোসেনপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু ভরাটের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দখলদারদের তাদের স্ব-পক্ষের কাগজপত্র নিয়ে এসিল্যান্ড কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিকুর রহমান বলেন, সরকারি খাস সম্পত্তি ও নদীর জায়গা কাউকে দখল করতে দেয়া হবে না। ঘটনাস্থলে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। দখলের প্রমাণ পাওয়া গেলে দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিআইডব্লিউটিএ’র মেঘনা ঘাট নদী বন্দরের উপ-পরিচালক মো. রেজাউল করিম জানান, শাখা নদীগুলোর বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেখভাল করবেন। তবে কেউ নদীর জায়গা দখল করলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।

শুভ/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা

সোনারগাঁয়ে বিএনপি নেতা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে নদীর জায়গা দখলের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নদীর জায়গা ও সরকারী খাস জমিতে মেঘনা আল- মোস্তফা কোম্পানির পক্ষে বালু ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপির নেতা আপন দুই ভাই এ বালু ভরাটের কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় মেঘনা নদীর শাখা মারীখালি নদীতে রাতের আঁধারে শক্তিশালী ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ফেলে এ জমিগুলো দখল করা হচ্ছে। সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ ও তার ছোট ভাই পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে এ বালু ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

তবে বিএনপি নেতার দাবি, তারা নিজের ও আল-মোস্তফা কোম্পানির ক্রয়কৃত জমিতে বালু ভরাট করেছেন। সেখানে কোন নদীর জায়গা নেই।

জানা গেছে, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের আষাঢ়িয়ার চর ব্রীজ এলাকায় মেঘনা নদীর শাখা মারীখালি নদীর জায়গা ও সরকারী খাস জমি দখল করে আল-মোস্তফা কোম্পানি বালু ভরাট করে দেয়ার দায়িত্ব দেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ ও তার ভাই পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলকে। অবৈধ ভরাটের ফলে এ নদীতে বিভিন্ন নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের জমিতে বালু ভরাট করছেন তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ এ নদীতে গোসল করা থেকে শুরু করে রান্নাবান্নার পানি নেয়ার জন্য এই স্থানটি ব্যবহার করতো। বর্তমানে বালু ভরাট করে ফেলার কারনে তা আর সম্ভব হচ্ছে না। মানুষের মাছ ধরার জীবিকাও নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। নদীর জমির পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানা জায়গাও দখল নিয়েছেন তারা। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এলাকায় দখলের রাজত্ব কায়েম করেছেন তারা দুই ভাই। সড়ক ও জনপথের জায়গা দখল করে দোকানপাট নির্মাণ, কোম্পানির ট্রাক আটকে চাঁদাবাজি, অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করে কারখানা পরিচালনা, জমি দখল, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে লুটপাটের মতো অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন এই দুই ভাই। সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় থাকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বিভিন্ন কোম্পানিতে গিয়ে আব্দুর রউফ ও তার ভাই আব্দুল জলিল উৎপাত শুরু করেন। একসময় বিরোধিতা করলেও এখন ওই কোম্পানির পক্ষেই অবস্থান নিয়ে নদীর জায়গা দখল করেছেন তারা।

পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমার বড় ভাই আবদুর রউফ আল-মোস্তফা কোম্পানি থেকে ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে বালু ভরাটের কাজ পেয়েছেন। সেই সূত্রে আমি এ কাজে জড়িত। তবে এ জায়গা সরকারি কি না তা আমাদের জানা নেই।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আষাঢ়িয়ার চর ব্রীজের পূর্ব পাশে বির্স্তৃণ এলাকা জুড়ে শাখা নদীতে বালু ভরাট করে রাখা হয়েছে। মারীখালি নদীর মধ্যভাগে বাঁশের খুটি ও বেড়া দিয়ে বালু ভরাট করা হচ্ছে। সেখানে গেলে তাদের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পান না।

তবে বালু ভরাটের কাজ করতে আসা এক শ্রমিক জানান, বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ ও তার ভাই আব্দুল জলিল আল-মোস্তফা নামে এক কোম্পানির বালু ভরাট করছেন।

আষাঢ়িয়ার চর গ্রামের মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, এ নদী ভরাট প্রতিদিন রাতের বেলায় করা হচ্ছে। দিনের বেলায় কোন কাজ করা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ জানান, এখানে কোন নদীর জায়গা নেই। আমার জায়গা ও কোম্পানির ক্রয়কৃত জমিতে বালু ভরাট করা হয়েছে। নদী আরো এক প্লট পরে রয়েছে।

অপরদিকে কোম্পানির চেয়ারম্যান আল-মোস্তফা জানান, এলাকাবাসী জায়গা ভরাট করছে। এখানে আমাদের কোম্পানিরও কিছু জমি রয়েছে। আমাদের জমিও ভরাট করা হচ্ছে। আমাদের জমি থেকে আড়াইশ’ ফুট দুরে হচ্ছে খাল। বিআইডব্লিউটিএ লোকও মেপেছে। এখন যেহেতু বর্ষাকাল, সব জায়গায় খাল দেখা যায়। তাই তারা ভরাট কাজ বন্ধ রাখতে বলেছেন। বর্তমানে আমরা ভরাট কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।

হোসেনপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু ভরাটের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দখলদারদের তাদের স্ব-পক্ষের কাগজপত্র নিয়ে এসিল্যান্ড কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিকুর রহমান বলেন, সরকারি খাস সম্পত্তি ও নদীর জায়গা কাউকে দখল করতে দেয়া হবে না। ঘটনাস্থলে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। দখলের প্রমাণ পাওয়া গেলে দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিআইডব্লিউটিএ’র মেঘনা ঘাট নদী বন্দরের উপ-পরিচালক মো. রেজাউল করিম জানান, শাখা নদীগুলোর বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেখভাল করবেন। তবে কেউ নদীর জায়গা দখল করলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।

শুভ/সবা