০১:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাণীনগরে শিক্ষার্থীদের সাইকেল গ্যারেজ ভেঙে দোকান ঘর নির্মাণ

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার পারইল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সাইকেল রাখার গ্যারেজ ভেঙে দোকান ঘর নির্মাণের উদ্যোগকে ঘিরে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং সংবাদ সম্মেলন চলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রবেশপথে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাহন রাখার স্থান ছিল। সম্প্রতি বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে ওই গ্যারেজ ভেঙে বহিরাগতদের ভাড়া দেওয়ার জন্য দোকান ঘর নির্মাণ শুরু করেন। শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের বাধা উপেক্ষা করে কাজ চললেও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নির্মাণ বন্ধ হয়।

এরপর ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহিদুর ইসলাম ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা দোকান ঘরের কিছু অংশ ভেঙে দেয়। এর জেরে প্রধান শিক্ষককে হুমকি দেওয়া ও দোকান ঘর ভাঙার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে তিনি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, গ্যারেজ ভেঙে দেওয়ায় তারা সাইকেল আনতে পারছে না। ফলে প্রতিদিন ভ্যান ভাড়া করে স্কুলে আসতে হচ্ছে। দূরবর্তী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে। তাদের অভিযোগ, শিক্ষকদের মোটরসাইকেল রাখার স্থান অক্ষত রাখা হলেও শিক্ষার্থীদের সাইকেল রাখার জায়গা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় বিশ বছর আগে স্কুলের জমির একাংশে দোকান ঘর নির্মাণ হয়েছিল। এবার হঠাৎ শিক্ষার্থীদের গ্যারেজ ভেঙে নতুন দোকান ঘর নির্মাণ করায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবান্ধব না হওয়ার অভিযোগও করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুর ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের জায়গায় অবৈধভাবে দোকান ঘর নির্মাণের প্রতিবাদ করায় আমাকে মিথ্যা অভিযোগে জড়ানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার্থীরাই ক্ষুব্ধ হয়ে দোকান ভেঙেছে।”

অন্যদিকে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র সাহা বলেন, “বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তে কাজ শুরু হলেও ইউএনও স্যার নিষেধ করার পর তা বন্ধ রাখা হয়েছে। চেয়ারম্যান উল্টো এসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে নানা হুমকি দিচ্ছেন।”

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, “কমিটির সিদ্ধান্তে কাজ শুরু হলেও পরে বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই কার্যকর হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসান জানান, দোকান ঘর নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় গ্যারেজ নির্মাণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

রাণীনগরে শিক্ষার্থীদের সাইকেল গ্যারেজ ভেঙে দোকান ঘর নির্মাণ

আপডেট সময় : ০৫:২৮:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার পারইল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সাইকেল রাখার গ্যারেজ ভেঙে দোকান ঘর নির্মাণের উদ্যোগকে ঘিরে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং সংবাদ সম্মেলন চলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রবেশপথে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাহন রাখার স্থান ছিল। সম্প্রতি বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে ওই গ্যারেজ ভেঙে বহিরাগতদের ভাড়া দেওয়ার জন্য দোকান ঘর নির্মাণ শুরু করেন। শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের বাধা উপেক্ষা করে কাজ চললেও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নির্মাণ বন্ধ হয়।

এরপর ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহিদুর ইসলাম ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা দোকান ঘরের কিছু অংশ ভেঙে দেয়। এর জেরে প্রধান শিক্ষককে হুমকি দেওয়া ও দোকান ঘর ভাঙার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে তিনি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, গ্যারেজ ভেঙে দেওয়ায় তারা সাইকেল আনতে পারছে না। ফলে প্রতিদিন ভ্যান ভাড়া করে স্কুলে আসতে হচ্ছে। দূরবর্তী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে। তাদের অভিযোগ, শিক্ষকদের মোটরসাইকেল রাখার স্থান অক্ষত রাখা হলেও শিক্ষার্থীদের সাইকেল রাখার জায়গা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় বিশ বছর আগে স্কুলের জমির একাংশে দোকান ঘর নির্মাণ হয়েছিল। এবার হঠাৎ শিক্ষার্থীদের গ্যারেজ ভেঙে নতুন দোকান ঘর নির্মাণ করায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবান্ধব না হওয়ার অভিযোগও করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুর ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের জায়গায় অবৈধভাবে দোকান ঘর নির্মাণের প্রতিবাদ করায় আমাকে মিথ্যা অভিযোগে জড়ানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার্থীরাই ক্ষুব্ধ হয়ে দোকান ভেঙেছে।”

অন্যদিকে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র সাহা বলেন, “বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তে কাজ শুরু হলেও ইউএনও স্যার নিষেধ করার পর তা বন্ধ রাখা হয়েছে। চেয়ারম্যান উল্টো এসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে নানা হুমকি দিচ্ছেন।”

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, “কমিটির সিদ্ধান্তে কাজ শুরু হলেও পরে বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই কার্যকর হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসান জানান, দোকান ঘর নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় গ্যারেজ নির্মাণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমআর/সবা