০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একই মামলায় ভিন্ন সিদ্ধান্ত: বেরোবিতে কারো ছুটি আটকে, কারো পদোন্নতি

জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র জনতার উপর হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ মাজেদুল হকের পি এইচ ডি ছুটি আটকে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে একই মামলার আসামী ইইই বিভাগের আরেক শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মো.মনিরুল ইসলামকে নতুন করে সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

একই মামলা নিয়ে প্রশাসনের এ দ্বীমুখী আচরনে ক্যাম্পাসে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। জানা যায়, মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক শেখ মাজেদুল হক উচ্চ শিক্ষার জন্য মালয়েশিয়া পি এইচ ডি ডিগ্রীর জন্য সকল নিয়ম অনুসরন করে শিক্ষা ছুটির আবেদন করেন। কিন্তু সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া সিন্ডিকেট সভায় তার এই শিক্ষা ছুটি আটকে দেয়া হয়।

সূত্র জানায়, এ শিক্ষকের বিরুদ্ধে জুলায় অভ্যুত্থানে হামলা ও হত্যার চেষ্টার মামলা থাকায় তার এই ছুটি মঞ্জুর করা হয়নি।

তবে একই মামলায় ইইই বিভাগের শিক্ষক মনিরুল ইসলামের নাম আসামীর তালিকায় থাকা সত্ত্বেও তাকে নতুন করে সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব দেয়ায় ক্যাম্পাসে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

জানা যায়, বর্তমান প্রক্টর এবং ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড.ফেরদৌস রহমানের আস্থাভাজন ও একই বিভাগের হওয়ায় প্রক্টরের বিশেষ সুপারিশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জুলাই মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও মো.মনিরুল ইসলামকে সহকারী প্রক্টরে দায়িত্ব প্রদান করে।

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জুলাই আন্দোলনে রংপুর শহরে আহত মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীসহ ১৪০ জনের নাম উল্লেখ করে রংপুর শহরের কোতায়ালী থানায় এই মামলা দায়ের করেন।

মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায় ১৩৩ নাম্বার আসামি হিসেবে নতুন নিয়োগ পাওয়া সহকারী প্রক্টর ও ইইই বিভাগের শিক্ষক মনিরুল ইসলামের নাম রয়েছে এবং ৭৩ নাম্বারে আসামী হিসেবে শিক্ষা ছুটি আটকে দেয়া আরেক শিক্ষক শেখ মাজেদুল হকের নাম ও আছে।

তবে একই মামলায় নাম থাকায় একজনের ছুটি আটকে দিয়ে অন্য শিক্ষককে নতুন প্রশাসনিক দায়িত্ব দেয়ায় এ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের উপর দাড়িয়ে বর্তমান প্রশাসন কিভাবে জুলাইয়ের ছাত্র জনতার উপর হামলার মামলায় একজন আসামীকে সহকারী প্রক্টরের মতো এতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করতে পারে?

আবার একই মামলা অন্য একজন শিক্ষকের শিক্ষা ছুটি আটকে দেয়, এটা প্রশাসনের দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিছুই না।

মামলার এজহারে শহিদুল উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রংপুর শহরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে ৮০০ থেকে ১০০০ ছাত্র-জনতা বেলা ৩ টার দিকে রংপুর শহরের টাউন হলের মোড়ে পৌঁছালে সেখানে উল্লেখিত আসামিরা ছাত্র জনতার উপর হামলা চালালে শহিদুল মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজে দশ দিন চিকিৎসা দেওয়ার পর তিনি সুস্থ হন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মার্কেটিংয়ের শিক্ষক অধ্যাপক শেখ মাজেদুল হককে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

জুলাই মামলার আসামিকে কেন সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব দেয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে প্রক্টর ফেরদৌস রহমান বলেন, মামলা টা তো ভুয়া। মামলার বাদি বলেছে এরা জড়িত না। বাদি এপিট ওপিট করে দিয়েছে। এইজন্য আমরা তাকে রেখেছি।

রেজিস্ট্রার বলেন, জুলাই মামলার আসামিকে কেন সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব দেয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে রেজিস্ট্রার ড.হারুন অর রশিদ বলেন, প্রক্টর তার সহকারী প্রক্টর পছন্দ করেন। তিনি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মা নিজেই নদীতে ফেলার ঘটনা স্বীকার, শিশু জীবিত উদ্ধার

একই মামলায় ভিন্ন সিদ্ধান্ত: বেরোবিতে কারো ছুটি আটকে, কারো পদোন্নতি

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র জনতার উপর হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ মাজেদুল হকের পি এইচ ডি ছুটি আটকে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে একই মামলার আসামী ইইই বিভাগের আরেক শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মো.মনিরুল ইসলামকে নতুন করে সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

একই মামলা নিয়ে প্রশাসনের এ দ্বীমুখী আচরনে ক্যাম্পাসে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। জানা যায়, মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক শেখ মাজেদুল হক উচ্চ শিক্ষার জন্য মালয়েশিয়া পি এইচ ডি ডিগ্রীর জন্য সকল নিয়ম অনুসরন করে শিক্ষা ছুটির আবেদন করেন। কিন্তু সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া সিন্ডিকেট সভায় তার এই শিক্ষা ছুটি আটকে দেয়া হয়।

সূত্র জানায়, এ শিক্ষকের বিরুদ্ধে জুলায় অভ্যুত্থানে হামলা ও হত্যার চেষ্টার মামলা থাকায় তার এই ছুটি মঞ্জুর করা হয়নি।

তবে একই মামলায় ইইই বিভাগের শিক্ষক মনিরুল ইসলামের নাম আসামীর তালিকায় থাকা সত্ত্বেও তাকে নতুন করে সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব দেয়ায় ক্যাম্পাসে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

জানা যায়, বর্তমান প্রক্টর এবং ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড.ফেরদৌস রহমানের আস্থাভাজন ও একই বিভাগের হওয়ায় প্রক্টরের বিশেষ সুপারিশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জুলাই মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও মো.মনিরুল ইসলামকে সহকারী প্রক্টরে দায়িত্ব প্রদান করে।

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জুলাই আন্দোলনে রংপুর শহরে আহত মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীসহ ১৪০ জনের নাম উল্লেখ করে রংপুর শহরের কোতায়ালী থানায় এই মামলা দায়ের করেন।

মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায় ১৩৩ নাম্বার আসামি হিসেবে নতুন নিয়োগ পাওয়া সহকারী প্রক্টর ও ইইই বিভাগের শিক্ষক মনিরুল ইসলামের নাম রয়েছে এবং ৭৩ নাম্বারে আসামী হিসেবে শিক্ষা ছুটি আটকে দেয়া আরেক শিক্ষক শেখ মাজেদুল হকের নাম ও আছে।

তবে একই মামলায় নাম থাকায় একজনের ছুটি আটকে দিয়ে অন্য শিক্ষককে নতুন প্রশাসনিক দায়িত্ব দেয়ায় এ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের উপর দাড়িয়ে বর্তমান প্রশাসন কিভাবে জুলাইয়ের ছাত্র জনতার উপর হামলার মামলায় একজন আসামীকে সহকারী প্রক্টরের মতো এতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করতে পারে?

আবার একই মামলা অন্য একজন শিক্ষকের শিক্ষা ছুটি আটকে দেয়, এটা প্রশাসনের দ্বিচারিতা ছাড়া আর কিছুই না।

মামলার এজহারে শহিদুল উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রংপুর শহরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে ৮০০ থেকে ১০০০ ছাত্র-জনতা বেলা ৩ টার দিকে রংপুর শহরের টাউন হলের মোড়ে পৌঁছালে সেখানে উল্লেখিত আসামিরা ছাত্র জনতার উপর হামলা চালালে শহিদুল মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজে দশ দিন চিকিৎসা দেওয়ার পর তিনি সুস্থ হন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মার্কেটিংয়ের শিক্ষক অধ্যাপক শেখ মাজেদুল হককে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

জুলাই মামলার আসামিকে কেন সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব দেয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে প্রক্টর ফেরদৌস রহমান বলেন, মামলা টা তো ভুয়া। মামলার বাদি বলেছে এরা জড়িত না। বাদি এপিট ওপিট করে দিয়েছে। এইজন্য আমরা তাকে রেখেছি।

রেজিস্ট্রার বলেন, জুলাই মামলার আসামিকে কেন সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব দেয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে রেজিস্ট্রার ড.হারুন অর রশিদ বলেন, প্রক্টর তার সহকারী প্রক্টর পছন্দ করেন। তিনি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।