০৬:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খুলনায় উচ্ছেদ অভিযানে বাস্তুহারাদের সঙ্গে সংঘর্ষ, অর্ধশতাধিক আহত

খুলনা মহানগরীর মুজগুন্নি এলাকার বাস্তুহারা কলোনিতে উচ্ছেদ অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২১ আগস্ট) সকালে শুরু হওয়া অভিযানে পুলিশের পাশাপাশি যৌথবাহিনী, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ম্যাজিস্ট্রেট ও স্থানীয় প্রশাসন অংশ নেয়।

সকাল থেকেই বাসিন্দারা টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। বেলা ১০টার পর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে সংঘর্ষ বাঁধে। বাসিন্দাদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুলিশ পিছু হটে এবং পরে টিয়ার সেল ছোড়ে। এ সময় উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহৃত একটি বুলডোজার ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক আহত হন। গুরুতর আহত ২৫ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, আলোচনার আশ্বাস দিয়েও হঠাৎ ভোরে ‘ভূমিদস্যুদের মতো’ হামলা চালানো হয়েছে। তারা জানান, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ মেনে নেওয়া হবে না। কলোনির বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বাধা দিচ্ছিলাম, কিন্তু পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।”

গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ জানায়, খাতাপত্রে এলাকাটির নাম ‘বয়রা আবাসিক এলাকা’। ১৯৮৭ সালে এখানে ৫৫টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়, তবে ৪২টি প্লট বেদখল থাকায় বরাদ্দ পাওয়া লোকজনকে বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সে কারণেই উচ্ছেদ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

খালিশপুর থানার ওসি মীর আতাহার আলী জানান, সংঘর্ষে তিনিসহ ১৪ জন পুলিশ আহত হয়েছেন। আর খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) রাশিদুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের পর উচ্ছেদ অভিযান আপাতত স্থগিত করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সরে গেছে।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সৈয়দা নীলিমা দোলার পদত্যাগ

খুলনায় উচ্ছেদ অভিযানে বাস্তুহারাদের সঙ্গে সংঘর্ষ, অর্ধশতাধিক আহত

আপডেট সময় : ০৪:৫৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

খুলনা মহানগরীর মুজগুন্নি এলাকার বাস্তুহারা কলোনিতে উচ্ছেদ অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২১ আগস্ট) সকালে শুরু হওয়া অভিযানে পুলিশের পাশাপাশি যৌথবাহিনী, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ম্যাজিস্ট্রেট ও স্থানীয় প্রশাসন অংশ নেয়।

সকাল থেকেই বাসিন্দারা টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। বেলা ১০টার পর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে সংঘর্ষ বাঁধে। বাসিন্দাদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুলিশ পিছু হটে এবং পরে টিয়ার সেল ছোড়ে। এ সময় উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহৃত একটি বুলডোজার ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক আহত হন। গুরুতর আহত ২৫ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, আলোচনার আশ্বাস দিয়েও হঠাৎ ভোরে ‘ভূমিদস্যুদের মতো’ হামলা চালানো হয়েছে। তারা জানান, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ মেনে নেওয়া হবে না। কলোনির বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বাধা দিচ্ছিলাম, কিন্তু পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।”

গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ জানায়, খাতাপত্রে এলাকাটির নাম ‘বয়রা আবাসিক এলাকা’। ১৯৮৭ সালে এখানে ৫৫টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়, তবে ৪২টি প্লট বেদখল থাকায় বরাদ্দ পাওয়া লোকজনকে বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সে কারণেই উচ্ছেদ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

খালিশপুর থানার ওসি মীর আতাহার আলী জানান, সংঘর্ষে তিনিসহ ১৪ জন পুলিশ আহত হয়েছেন। আর খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) রাশিদুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের পর উচ্ছেদ অভিযান আপাতত স্থগিত করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সরে গেছে।

এমআর/সবা