বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের চরখিজিরপুরে এক কলেজছাত্রী উম্মে হাবিবা ইসমা (১৭) আত্মহত্যা করেছে। গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ইসমা নিজ ঘরে সিলিংয়ে ওড়না প্যাঁচিয়ে ফাঁস দেয়।
স্থানীয়রা জানান, ইসমা সম্প্রতি একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল এবং পড়ালেখা চালিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে চেয়েছিল। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিয়ে দিতে চাওয়া, মেয়েটির ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে এবং সেই চাপেই সে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নেয়।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, “আমরা খবর পেয়ে মেয়েটির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পরিবারে বিয়ে দেয়ার চাপ ও মেয়েটির পড়ালেখার আগ্রহই এই দুঃখজনক ঘটনার জন্ম দিয়েছে।”
প্রতিবেশীরা বলছেন, ইসমা একজন শান্ত-স্বভাবের মেয়ে ছিল। পরিবার ও সমাজে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকায় অনেক সময় তাদের ওপর প্রথাগত বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দেওয়া হয়। এই দুঃখজনক ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থা ও পরিবারে মেয়েদের শিক্ষা ও অধিকার বিষয়ক সচেতনতার প্রয়োজনকে সামনে এনেছে।
স্থানীয় বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা বলেন, “ইসমা পড়ালেখায় বেশ ভালো ছিল। তার এমন আত্মহত্যা পুরো কমিউনিটির জন্য শোকের। আমরা চাই যেন ভবিষ্যতে মেয়েদের পড়ালেখার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।”
উল্লেখ্য, দেশে অনেকে সামাজিক ও পারিবারিক চাপের কারণে শিক্ষিত মেয়েরা শিক্ষা শেষ করার আগেই বিয়েতে বাধ্য হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক সিদ্ধান্ত ও শিক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রাখা না গেলে এই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।
এমআর/সবা






















