০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পাহাড়ের বুকে স্বপ্নের আলো

সেনাবাহিনীর সহায়তায় নতুন ঘর পেলেন অসহায় ফুলেশ্বর চাকমা পরিবার

পাহাড়ের বুকেই কাটছিল এক অসহায় জীবনের গল্প। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া ফুলেশ্বর চাকমা ও তার পরিবার বছরের পর বছর কাটিয়েছেন ভাঙা ঝুপড়ি ঘরে। বৃষ্টির রাতে ঘরে পানি ঢুকে যেত, শীতে ঠান্ডায় কাঁপতে হতো, গ্রীষ্মে গরমে হাঁসফাঁস করতে হতো। দারিদ্র্যের দুঃসহ চক্র আর সরকারি সহায়তার অভাবে কোনোদিনই পূরণ হয়নি একটি নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্ন। তবে অবশেষে স্থানীয়দের উদ্যোগ এবং সেনাবাহিনীর মানবিক সহযোগিতায় বদলে গেল সেই দুঃখের কাহিনি।

স্থানীয়দের আবেদনে ফুলেশ্বর চাকমার অসহায় জীবনের খবর পৌঁছে যায় সেনাবাহিনীর জোন কমান্ডারের কাছে। পরে কর্মকর্তারা সরেজমিনে এসে পরিবারের দুর্দশা দেখে দ্রুত উদ্যোগ নেন। সেনাবাহিনীর নিজস্ব অর্থায়নে শুরু হয় নতুন ঘর নির্মাণের কাজ।

আজ বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫) রাঙামাটি রিজিয়নের কাপ্তাই ১০ আরই ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে সেই স্বপ্নের ঘরের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম সাদিক শাহরিয়ার। এ সময় অন্যান্য সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাদিক শাহরিয়ার বলেন— “আমরা এলাকার জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এই অসহায় পরিবারের দুর্দশার কথা জানতে পারি। সেনাবাহিনী প্রধানের নির্দেশে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নেই। আজ তাদের হাতে নতুন ঘর তুলে দিতে পেরে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত।”

নতুন ঘর পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন ফুলেশ্বর চাকমা। আবেগমথিত কণ্ঠে তিনি বলেন— “আগে ভাঙা ঘরে থাকতাম, মাথার উপর ছাদ ছিল না। এখন সেনাবাহিনী আমাকে ঘর দিয়েছে। এই ঘর আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। এখন সুখে-শান্তিতে থাকতে পারবো।”

স্থানীয় বাসিন্দারাও সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্বাগত জানান। তারা বলেন,
“সেনাবাহিনী না থাকলে এত দ্রুত সমাধান আসত না। এই ঘর শুধু একটি আশ্রয় নয়, বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন পূরণের গল্প।”

রাঙামাটি রিজিয়নের পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল—“এই অঞ্চলে কেউ গৃহহীন থাকবে না, কেউ অনাহারে থাকবে না।” আজকের এই কার্যক্রম সেই অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন।

এখন ফুলেশ্বর চাকমার পরিবারের মুখে ফুটে উঠেছে হাসি। বহু বছরের কষ্টের অবসান ঘটিয়ে একটি নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। সেনাবাহিনীর এই মহৎ পদক্ষেপ শুধু একটি পরিবারকেই নয়, বরং পুরো সমাজকে দিয়েছে আশার আলো ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

পাহাড়ের বুকে স্বপ্নের আলো

সেনাবাহিনীর সহায়তায় নতুন ঘর পেলেন অসহায় ফুলেশ্বর চাকমা পরিবার

আপডেট সময় : ০৪:৫০:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

পাহাড়ের বুকেই কাটছিল এক অসহায় জীবনের গল্প। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া ফুলেশ্বর চাকমা ও তার পরিবার বছরের পর বছর কাটিয়েছেন ভাঙা ঝুপড়ি ঘরে। বৃষ্টির রাতে ঘরে পানি ঢুকে যেত, শীতে ঠান্ডায় কাঁপতে হতো, গ্রীষ্মে গরমে হাঁসফাঁস করতে হতো। দারিদ্র্যের দুঃসহ চক্র আর সরকারি সহায়তার অভাবে কোনোদিনই পূরণ হয়নি একটি নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্ন। তবে অবশেষে স্থানীয়দের উদ্যোগ এবং সেনাবাহিনীর মানবিক সহযোগিতায় বদলে গেল সেই দুঃখের কাহিনি।

স্থানীয়দের আবেদনে ফুলেশ্বর চাকমার অসহায় জীবনের খবর পৌঁছে যায় সেনাবাহিনীর জোন কমান্ডারের কাছে। পরে কর্মকর্তারা সরেজমিনে এসে পরিবারের দুর্দশা দেখে দ্রুত উদ্যোগ নেন। সেনাবাহিনীর নিজস্ব অর্থায়নে শুরু হয় নতুন ঘর নির্মাণের কাজ।

আজ বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫) রাঙামাটি রিজিয়নের কাপ্তাই ১০ আরই ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে সেই স্বপ্নের ঘরের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম সাদিক শাহরিয়ার। এ সময় অন্যান্য সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাদিক শাহরিয়ার বলেন— “আমরা এলাকার জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এই অসহায় পরিবারের দুর্দশার কথা জানতে পারি। সেনাবাহিনী প্রধানের নির্দেশে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নেই। আজ তাদের হাতে নতুন ঘর তুলে দিতে পেরে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত।”

নতুন ঘর পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন ফুলেশ্বর চাকমা। আবেগমথিত কণ্ঠে তিনি বলেন— “আগে ভাঙা ঘরে থাকতাম, মাথার উপর ছাদ ছিল না। এখন সেনাবাহিনী আমাকে ঘর দিয়েছে। এই ঘর আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। এখন সুখে-শান্তিতে থাকতে পারবো।”

স্থানীয় বাসিন্দারাও সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্বাগত জানান। তারা বলেন,
“সেনাবাহিনী না থাকলে এত দ্রুত সমাধান আসত না। এই ঘর শুধু একটি আশ্রয় নয়, বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন পূরণের গল্প।”

রাঙামাটি রিজিয়নের পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল—“এই অঞ্চলে কেউ গৃহহীন থাকবে না, কেউ অনাহারে থাকবে না।” আজকের এই কার্যক্রম সেই অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন।

এখন ফুলেশ্বর চাকমার পরিবারের মুখে ফুটে উঠেছে হাসি। বহু বছরের কষ্টের অবসান ঘটিয়ে একটি নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। সেনাবাহিনীর এই মহৎ পদক্ষেপ শুধু একটি পরিবারকেই নয়, বরং পুরো সমাজকে দিয়েছে আশার আলো ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত।

এমআর/সবা