জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক কৃষকের ২ বিঘা জমির ধান ক্ষতিকর আগাছানাশক প্রয়োগ করে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
আসামিরা হলো, উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকার জিয়াউর হকের ছেলে আল আমিন (২৫), শওকত আলীর ছেলে নাছিম (২২), বিলাত আলীর ছেলে শওকত আলী (৫০), শওকত আলীর ছেলে নাজমুল (২৫), হাবিবুর রহমানের ছেলে হুমায়ুন (৩০), মৃত ইব্রাহীম মন্ডলের ছেলে নুর ইসলাম (৫৫) মৃত আয়ুব আলীর ছেলে আব্দুল সাত্তার (৫৫) মৃত ফরজ আলীর ছেলে আব্দুল জলিল(৬০)।
মামলা সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় শওকত আলীর ছেলে আল আমীন ও ইছাহাক ফকিরের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে আবাদি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধপূর্ণ ২ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপন করে জাহাঙ্গীর হোসেন। হঠাৎ ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরে আগাছা নাশক প্রয়োগ করে ধানের গোছালি পুড়িয়ে দিয়েছে আল আমিন ও তার লোকজন। এ ঘটনায় আল আমিনকে প্রধান আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন জাহাঙ্গীর আলম।
সরজমিন শুক্রবার বিকালে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় পুড়ে যাওয়া ধানের ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, আমণ ধানের গোছালীর ওপর পাতাগুলো হলুদ হয়ে গেছে। নিষ্প্রাণ ধানের পাতাগুলো মরে গেছে। আর ধান ক্ষেতের আইলে বসে পুড়ে যাওয়া গোছালীর দিকে তাকিয়ে চোখের পানি মুচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন অভিযোগ করে জানান, চলতি আমন মৌসুমে ২ বিঘা জমিতে ধান রোপন করেন। ধানের গোছালি গুলো দ্রুতই বাড়ছিল। শত্রুতার জেরে আগাছা নাশক প্রয়োগ করে ধানের গোছালি গুলো পুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা।এ ঘটনার বিচার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় এলাকাবাসীদের মধ্যে হানিফ মিয়া ও নান্নু মিয়া জানান, ঘটনাটি বড়ই দুঃখজনক। এটা তারা অন্যায় করেছে। জমির বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও অন্যায় ভাবে প্রতিপক্ষ এমন ক্ষতি করলো। তারা এ ঘটনার সাথে জড়িত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
এ ব্যাপারে আল আমিনের সাথে মুটোফোনে কথা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন এবং পরে কথা হবে বলে ফোন কেটে দেন।
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান রাশেদ বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এমআর/সবা

























