০৫:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ২১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজ মহাষষ্ঠী, দেবীর বোধনে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব

আজ রবিবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব—শারদীয় দুর্গাপূজা। ভোরবেলা বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চিরকালীন চণ্ডীপাঠে বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হয় দেবী দুর্গার আগমনের উৎসব।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ষোড়শ উপচারে সারাদেশের মণ্ডপে দেবীর অধিষ্ঠানের পর আজ ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ, বিহিত পূজা এবং সন্ধ্যায় বেলতলায় দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে শুরু হলো পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী, আমন্ত্রণের পর ঘট পূজার মাধ্যমে দেবী দুর্গা মর্ত্যে আগমন করেন।

তন্ত্রাচার্য পুতুল দাশগুপ্ত জানান, “দেবীপতি মহাশক্তির প্রিয় বিল্ব বৃক্ষের তলায় দেবীর আবাহন হয়। এই দিন থেকেই পূজার সংকল্প শুরু হয় যা বিসর্জন পর্যন্ত চলবে।”

শাস্ত্র মতে, দুর্গাপূজার প্রকৃত সময় বসন্তকাল, যেটি ‘বাসন্তী পূজা’ নামে পরিচিত। তবে ত্রেতাযুগে রামচন্দ্র শরৎকালে ‘অকাল বোধন’ করে দেবী দুর্গার পূজা শুরু করেছিলেন রাবণবধের জন্য। সেই থেকে আশ্বিনের এই পূজাই বাঙালির প্রধান উৎসবে পরিণত হয়েছে।

পঞ্জিকা অনুযায়ী-২৮ সেপ্টেম্বর (সোমবার): নবপত্রিকা প্রবেশ ও মহাসপ্তমী, ২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার): মহাঅষ্টমী ও সন্ধিপূজা, ৩০ সেপ্টেম্বর (বুধবার): মহানবমী, ২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার): প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজার সমাপ্তি

চট্টগ্রাম পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কান্তি নাথ জানান, “এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। সাম্প্রদায়িকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যের বার্তা দেবে এই উৎসব।”

এবার সারাদেশে ৩৩ হাজার ৩৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৯০০টি বেশি।

বাংলা পঞ্জিকা মতে, এবার দেবীর আগমন গজে (হাতি)—যা শুভ লক্ষণ। এতে মর্ত্যে সমৃদ্ধি ও শান্তি আসে। তবে দেবীর গমন হবে পালকিতে, যা শাস্ত্র মতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অশান্তির ইঙ্গিত হতে পারে।

দেবীর আগমনে মর্ত্যভূমি আজ আলোকিত, মুখরিত—শুরু হলো বাঙালির প্রাণের উৎসব।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ মহাষষ্ঠী, দেবীর বোধনে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব

আপডেট সময় : ১২:৩২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আজ রবিবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব—শারদীয় দুর্গাপূজা। ভোরবেলা বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চিরকালীন চণ্ডীপাঠে বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হয় দেবী দুর্গার আগমনের উৎসব।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ষোড়শ উপচারে সারাদেশের মণ্ডপে দেবীর অধিষ্ঠানের পর আজ ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ, বিহিত পূজা এবং সন্ধ্যায় বেলতলায় দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে শুরু হলো পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী, আমন্ত্রণের পর ঘট পূজার মাধ্যমে দেবী দুর্গা মর্ত্যে আগমন করেন।

তন্ত্রাচার্য পুতুল দাশগুপ্ত জানান, “দেবীপতি মহাশক্তির প্রিয় বিল্ব বৃক্ষের তলায় দেবীর আবাহন হয়। এই দিন থেকেই পূজার সংকল্প শুরু হয় যা বিসর্জন পর্যন্ত চলবে।”

শাস্ত্র মতে, দুর্গাপূজার প্রকৃত সময় বসন্তকাল, যেটি ‘বাসন্তী পূজা’ নামে পরিচিত। তবে ত্রেতাযুগে রামচন্দ্র শরৎকালে ‘অকাল বোধন’ করে দেবী দুর্গার পূজা শুরু করেছিলেন রাবণবধের জন্য। সেই থেকে আশ্বিনের এই পূজাই বাঙালির প্রধান উৎসবে পরিণত হয়েছে।

পঞ্জিকা অনুযায়ী-২৮ সেপ্টেম্বর (সোমবার): নবপত্রিকা প্রবেশ ও মহাসপ্তমী, ২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার): মহাঅষ্টমী ও সন্ধিপূজা, ৩০ সেপ্টেম্বর (বুধবার): মহানবমী, ২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার): প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজার সমাপ্তি

চট্টগ্রাম পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কান্তি নাথ জানান, “এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। সাম্প্রদায়িকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যের বার্তা দেবে এই উৎসব।”

এবার সারাদেশে ৩৩ হাজার ৩৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৯০০টি বেশি।

বাংলা পঞ্জিকা মতে, এবার দেবীর আগমন গজে (হাতি)—যা শুভ লক্ষণ। এতে মর্ত্যে সমৃদ্ধি ও শান্তি আসে। তবে দেবীর গমন হবে পালকিতে, যা শাস্ত্র মতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অশান্তির ইঙ্গিত হতে পারে।

দেবীর আগমনে মর্ত্যভূমি আজ আলোকিত, মুখরিত—শুরু হলো বাঙালির প্রাণের উৎসব।

এমআর/সবা