ফেনীতে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয়ে বিয়ে করতে গিয়ে এক ভুয়া সেনা কর্মকর্তা ধরা পড়েছেন। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে এবং তার কাছ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তিন সেট ইউনিফর্মসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের তেরোবাড়িয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় ভুয়া সেনা কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন পিন্টু (৩৮), সে পরশুরাম পৌরসভার উত্তর গুথুমা গ্রামের আব্দুল ওয়াহাব মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে একই দিনে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, পিন্টু নিজেকে সেনা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নাছরিন আক্তার রিতু নামের এক নারীকে গত তিন মাস ধরে বিয়ের জন্য প্রলুব্ধ করছিলেন। রিতুর পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেন তিনি। তবে পরিবারের সন্দেহ হলে তারা ফেনীর বোগদাদিয়া তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সিরাজুল ইসলামকে অবহিত করেন। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে পিন্টুকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ভুয়া পরিচয়ে এই ধরনের অপকর্ম শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি স্বরূপ। সমাজে সচেতনতা বাড়ানো এবং ভুয়া পরিচয় চিহ্নিত করার মাধ্যমে এ ধরনের প্রতারণা রোধ করা যেতে পারে। তারা আরও বলেন, “যে কেউ নিজেকে অন্য পরিচয়ে উপস্থাপন করে অপরাধমূলক কাজে জড়ালে আইন তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করিয়ে দেন, সামাজিক সতর্কতা ও পরিবার-পরিজনের সংলাপ এ ধরনের ঘটনায় বড় ভুমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে অনলাইন পরিচয় যাচাই, প্রস্তাবের সত্যতা নিশ্চিতকরণ এবং ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্কতা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় কেউ বাধ্য বা প্রলুব্ধ হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ ঘটনাটি শুধু এক ব্যক্তির প্রতারণা নয়, বরং সমাজে সচেতনতা ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক শিক্ষার মাধ্যমে যুবক-যুবতীদের নিরাপদ পরিচয় ও সম্পর্কের মূল্যবোধ বোঝানো গেলে এ ধরনের অপকর্ম অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
এমআর/সবা
























