০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে জমকালো আয়োজনে প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব শুরু

বিস্কুট, চকলেট ও মিষ্টি ফল দিয়ে পসাদ পূজার মাধ্যমে শুরু হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা। রোববার (৫ অক্টোবর) কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ মন্দির মাহা সিন্দোগ্রীর মাঠে বুদ্ধ পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী এই উৎসব।

 

দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে (৬ অক্টোবর) দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় আচার, ধর্মোপদেশ, বুদ্ধ পূজা এবং ফানুস উত্তোলনের মাধ্যমে উৎসব সমাপ্ত হবে। প্রবারণা পূর্ণিমা মূলত বরণ ও বারণের শিক্ষায় সমুজ্জ্বল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। কক্সবাজারের বিহারগুলো বাহারি সাজ-সজ্জায় আচ্ছাদিত হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হয়েছে।

 

বিশ্বের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মীয় বিধানে বিনয়ভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রতকর্ম। কক্সবাজার সিটি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক অধ্যক্ষ ক্যাথিং অং রাখাইন বলেন, “প্রবারণ বৌদ্ধ ভিক্ষু জীবনে বিশেষ গুরুত্ব রাখলেও নর-নারী, উপাসক-উপাসিকাদের জীবনেও এর তাৎপর্য কম নয়। এটি ধ্যান, আত্মশুদ্ধিতা, রিপু সংযম ও আত্মোপলব্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।”

 

উৎসবকে জাঁকজমকপূর্ণ করতে বৌদ্ধরা আগেই নিজগৃহ ও বিহার পরিমার্জনপূর্বক সাজিয়ে রাখেন। পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে বিহার এবং আশেপাশের এলাকা বর্ণাঢ্যভাবে সজ্জিত করা হয়। বালক-বালিকা, কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী এবং বৃদ্ধ-প্রৌঢ় সব বয়সের মানুষ মন্দির প্রাঙ্গন মুখরিত করেছেন।

 

প্রবারণা পূর্ণিমায় বৌদ্ধ নর-নারীরা নতুন ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। পূজার অর্ঘ্য ও দানীয় সামগ্রী হাতে নিয়ে বিহারে উপস্থিত হয়ে পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ, পূজা ও ধর্ম শ্রবণে অংশ নেন।

 

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

বিসিবি পরিচালক পদত্যাগ না করলে ক্রিকেট বর্জনের আলটিমেটাম

কক্সবাজারে জমকালো আয়োজনে প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব শুরু

আপডেট সময় : ০৭:১২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

বিস্কুট, চকলেট ও মিষ্টি ফল দিয়ে পসাদ পূজার মাধ্যমে শুরু হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা। রোববার (৫ অক্টোবর) কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ মন্দির মাহা সিন্দোগ্রীর মাঠে বুদ্ধ পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী এই উৎসব।

 

দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে (৬ অক্টোবর) দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় আচার, ধর্মোপদেশ, বুদ্ধ পূজা এবং ফানুস উত্তোলনের মাধ্যমে উৎসব সমাপ্ত হবে। প্রবারণা পূর্ণিমা মূলত বরণ ও বারণের শিক্ষায় সমুজ্জ্বল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। কক্সবাজারের বিহারগুলো বাহারি সাজ-সজ্জায় আচ্ছাদিত হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হয়েছে।

 

বিশ্বের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মীয় বিধানে বিনয়ভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রতকর্ম। কক্সবাজার সিটি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক অধ্যক্ষ ক্যাথিং অং রাখাইন বলেন, “প্রবারণ বৌদ্ধ ভিক্ষু জীবনে বিশেষ গুরুত্ব রাখলেও নর-নারী, উপাসক-উপাসিকাদের জীবনেও এর তাৎপর্য কম নয়। এটি ধ্যান, আত্মশুদ্ধিতা, রিপু সংযম ও আত্মোপলব্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।”

 

উৎসবকে জাঁকজমকপূর্ণ করতে বৌদ্ধরা আগেই নিজগৃহ ও বিহার পরিমার্জনপূর্বক সাজিয়ে রাখেন। পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে বিহার এবং আশেপাশের এলাকা বর্ণাঢ্যভাবে সজ্জিত করা হয়। বালক-বালিকা, কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী এবং বৃদ্ধ-প্রৌঢ় সব বয়সের মানুষ মন্দির প্রাঙ্গন মুখরিত করেছেন।

 

প্রবারণা পূর্ণিমায় বৌদ্ধ নর-নারীরা নতুন ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। পূজার অর্ঘ্য ও দানীয় সামগ্রী হাতে নিয়ে বিহারে উপস্থিত হয়ে পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ, পূজা ও ধর্ম শ্রবণে অংশ নেন।

 

এমআর/সবা