পার্বত্য রাঙামাটির সবুজ পাহাড়ের বুকে জুম চাষীরা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে পরিশ্রমের ফল ঘরে তুলছেন। সম্প্রতি বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা সীমান্ত থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, কৃষকরা তাদের সোনালী ফসল সংগ্রহে ব্যস্ত।
জুম চাষ ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি, যা পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই চাষ পদ্ধতিতে পাহাড়ের উঁচু অংশে পলিথিন বা পাহাড়ের খোলা জমিতে ধানের বীজ রোপণ করা হয় এবং সময়মতো আগাছা, জলবৃদ্ধি ও আগুনের মাধ্যমে ফসল রক্ষা করা হয়।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, সঠিক সময় এবং কঠোর পরিশ্রম না করলে জুম চাষের ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে সফল সংগ্রহের পর স্থানীয় বাজার ও পরিবারে এ ফসল বিক্রি করে তারা গুরুত্বপূর্ণ আয় নিশ্চিত করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুম চাষে পাহাড়ের মাটির উর্বরতা বজায় থাকে এবং স্থানীয় বাস্তুসংস্থানকে সাহায্য করে। তবে পাহাড়ে অনিয়ন্ত্রিত চাষ এবং পাহাড় কেটে নতুন জমিতে চাষের ফলে মাটির ক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের জন্য হুমকি।

জুম চাষের এই উৎসব কেবল কৃষকদের জীবননির্বাহ নয়, বরং পার্বত্য অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। স্থানীয় প্রশাসনও কৃষকদের সহায়তা ও নিরাপদ চাষাবাদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা প্রদান করছে।
সম্পাদনা: এম. রহমান






















