১১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফটিকছড়ির সেই শিক্ষা কর্মকর্তা বদলি

ফটিকছড়িতে ঘুষ ও দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আলোচনায় আসা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিমেল কদর অবশেষে বদলি হয়েছেন নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলায়।
এর আগে তিনি সমালোচনার মুখে পড়ে স্বেচ্ছায় পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন। তাঁর এ সিদ্ধান্তের কিছুদিন পরেই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন–১) স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বদলির নির্দেশ জারি করা হয়।
সম্প্রতি তাঁকে পুনরায় ফটিকছড়ি উপজেলায় দায়িত্ব দেওয়ায় স্থানীয় শিক্ষক সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। শিক্ষকরা প্রকাশ্যে তাঁর উপস্থিতিতে অফিস কার্যক্রম বর্জনের হুঁশিয়ারি দেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
এই প্রেক্ষাপটে ২৬ অক্টোবর বিকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আজিমেল কদর বলেন, শিক্ষকরাই আমার কাজের অংশীদার। তারা যদি না চান, তাহলে আমি এখানে থাকব না। আজই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এখান থেকে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি আরও জানান, আমার চাকরির শেষ সময়ে চেয়েছিলাম এখানেই থাকতে। কিন্তু যাদের সঙ্গে কাজ করতে হবে, তারা যদি আমাকে না চান তাহলে আমি স্বেচ্ছায় চলে যাচ্ছি।
এদিকে আজিমেল কদরের স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা এবং বদলির সরকারি আদেশে শিক্ষক সমাজে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা শিক্ষক নেত্রী রহিমা বেগম বলেন, আমরা কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নই, কিন্তু শিক্ষা অফিসকে আস্থার জায়গা রাখতে হলে বিতর্কিত ব্যক্তিদের দায়িত্বে না রাখাই ভালো। তাঁর চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তে শিক্ষক সমাজে স্বস্তি ফিরেছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, যেহেতু শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় করেই তাঁর কাজ করতে হয়, তাই তোপের মুখে থেকে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁর অন্যত্র বদলি যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ফটিকছড়ির বেড়াজালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাসলিমা আক্তারের কাছ থেকে বদলির বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণের সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন আজিমেল কদর। তদন্ত শেষে দুদক তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বিচার শেষে ২০২৫ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত তাঁকে ২ বছর ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তাকে পুনরায় ফটিকছড়িতে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর তাঁকে ফটিকছড়ি থেকে সরিয়ে খালিয়াজুরীতে বদলি করে।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র সংসদে ভোটের ফল জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল

ফটিকছড়ির সেই শিক্ষা কর্মকর্তা বদলি

আপডেট সময় : ০৫:১৬:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

ফটিকছড়িতে ঘুষ ও দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আলোচনায় আসা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিমেল কদর অবশেষে বদলি হয়েছেন নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলায়।
এর আগে তিনি সমালোচনার মুখে পড়ে স্বেচ্ছায় পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন। তাঁর এ সিদ্ধান্তের কিছুদিন পরেই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন–১) স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বদলির নির্দেশ জারি করা হয়।
সম্প্রতি তাঁকে পুনরায় ফটিকছড়ি উপজেলায় দায়িত্ব দেওয়ায় স্থানীয় শিক্ষক সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। শিক্ষকরা প্রকাশ্যে তাঁর উপস্থিতিতে অফিস কার্যক্রম বর্জনের হুঁশিয়ারি দেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
এই প্রেক্ষাপটে ২৬ অক্টোবর বিকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আজিমেল কদর বলেন, শিক্ষকরাই আমার কাজের অংশীদার। তারা যদি না চান, তাহলে আমি এখানে থাকব না। আজই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এখান থেকে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি আরও জানান, আমার চাকরির শেষ সময়ে চেয়েছিলাম এখানেই থাকতে। কিন্তু যাদের সঙ্গে কাজ করতে হবে, তারা যদি আমাকে না চান তাহলে আমি স্বেচ্ছায় চলে যাচ্ছি।
এদিকে আজিমেল কদরের স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা এবং বদলির সরকারি আদেশে শিক্ষক সমাজে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা শিক্ষক নেত্রী রহিমা বেগম বলেন, আমরা কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নই, কিন্তু শিক্ষা অফিসকে আস্থার জায়গা রাখতে হলে বিতর্কিত ব্যক্তিদের দায়িত্বে না রাখাই ভালো। তাঁর চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তে শিক্ষক সমাজে স্বস্তি ফিরেছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, যেহেতু শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় করেই তাঁর কাজ করতে হয়, তাই তোপের মুখে থেকে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁর অন্যত্র বদলি যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ফটিকছড়ির বেড়াজালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাসলিমা আক্তারের কাছ থেকে বদলির বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণের সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন আজিমেল কদর। তদন্ত শেষে দুদক তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বিচার শেষে ২০২৫ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত তাঁকে ২ বছর ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তাকে পুনরায় ফটিকছড়িতে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর তাঁকে ফটিকছড়ি থেকে সরিয়ে খালিয়াজুরীতে বদলি করে।

এমআর/সবা