বাংলা বর্ষপঞ্জিতে পৌষ ও মাঘ মাসকে শীতকাল হিসেবে ধরা হয়। অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতেই ভোরের হিমেল হাওয়া শহর ও গ্রামে শীতের আগমনী সংকেত দিচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামের ভোরে ঠাণ্ডার অনুভূতি শহরের তুলনায় আরও বেশি। শহরাঞ্চলেও ভোরের দিকে কম্বলের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে গেছে, যা শীতের প্রারম্ভিক সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
শীতকে সামনে রেখে নগরের বিভিন্ন মার্কেটে শীতবস্ত্র বিক্রি শুরু হয়েছে। নিউমার্কেট, টেরিবাজার, জহুর হকার্স মার্কেট, তামাকুমন্ডি লেইন, রিয়াজুদ্দিন বাজারসহ অন্যান্য মার্কেটে দোকান ও শো-রুমের কর্মীরা থরে থরে শীতের কাপড় সাজাচ্ছেন। ক্রেতারা পছন্দমতো কাপড় বাছাই করে কিনে বাড়ি ফিরছেন।

রিয়াজুদ্দিন বাজারের বিক্রেতা সেলিম উদ্দিন জানান, “শীত এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি, তাই পাইকারি বিক্রি বেশি। খুচরায় ক্রেতার আগ্রহ ধীরে ধীরে বাড়ছে।” এক ক্রেতা আবির হোসেন বলেন, “শীতের সুয়েটার কিনতে এসেছি। এখানে ভালো মানের কালেকশন সহজে পাওয়া যাচ্ছে।” জহুর হকার্স মার্কেটে কম্বল কিনেছেন ব্যাংক কর্মকর্তা ইমতিয়াজ জাবেদ। তিনি বলেন, “কম দামে ভালো মানের কম্বল পাওয়া যাচ্ছে। তবে বিক্রেতারা কিছুটা দাম বেশি ধরছেন।”
মার্কেটে দাম ও পণ্যের বৈচিত্র্য
-
চীনা তৈরি ব্লেজার: ১,৫০০ – ৪,০০০ টাকা
-
চামড়ার জ্যাকেট: ৩,০০০ – ৬,০০০ টাকা
-
চীনা কম্বল: ১,৫০০ – ৭,০০০ টাকা
-
দেশীয় শাল-চাদর: ৫০০ – ৭০০ টাকা
-
বিদেশি শাল: ৮০০ – ২,৫০০ টাকা
-
সুয়েটার: ৭৫০ – ৩,০০০ টাকা
-
উলের সুয়েটার: ৩০০ – ১,৫০০ টাকা
তামাকুমন্ডি লেইনের বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক জানান, “এ বছর ব্যবসায়ীরা শীতের নতুন সংগ্রহ নিয়ে এসেছে। পাইকারি এবং খুচরা উভয় বিক্রি চলছে। তবে পূর্ণ বিক্রি শুরু হতে দুই-তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।”
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অগ্রহায়ণের শুরুতেই শীতের হিমেল হাওয়ায় শরীর ধীরে ধীরে শীতের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়। তাই এখন থেকেই শীতের প্রস্তুতি নিলে ঠাণ্ডায় অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ক্রেতারা শুধু সুয়েটার ও জ্যাকেট নয়, বরং কম্বল, শাল, মোজা ও হ্যান্ড গ্লাভসের মতো শীতের আনুষঙ্গিক সামগ্রীও কিনছেন। ব্যবসায়ীরা আশাবাদী, নভেম্বরের শেষ ও ডিসেম্বরের শুরুতে শীতবস্ত্রের বিক্রি আরও বেড়ে যাবে।
চট্টগ্রামে শীতের আগমন ও মার্কেটে শীতবস্ত্রের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যাপ্ত পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীরা এখন থেকে মার্কেট সাজাচ্ছেন এবং ক্রেতার সুবিধার্থে অফার ও ডিসকাউন্টের পরিকল্পনা করছেন।
এমআর/সবা

























