2:26 pm, Tuesday, 16 June 2026

ইরানে বিক্ষোভের মধ্যে ইন্টারনেট বিভ্রাট, নিহত অন্তত ১০

দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই ইরানিরা আবারও ইন্টারনেট–বিভ্রাটের মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে দেশটির কর্তৃপক্ষ ‘বিদেশি নাশকতা’র সতর্কবার্তা দিয়ে পাল্টা সমাবেশের আয়োজন করছে।

গত বৃহস্পতিবার থেকে বাসাবাড়ির সংযোগ ও মোবাইল ইন্টারনেটে মাঝেমধ্যে বিঘ্ন লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার জানিয়েছে, আগের দিনের তুলনায় ইরানে গড় ইন্টারনেট ট্রাফিক কমেছে প্রায় ৩৫ শতাংশ।

এর আগে চলমান বিক্ষোভের সময়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট বন্ধ বা ধীরগতির করেছিল। চলতি বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে সরকারিভাবে ধীরগতির কারণ জানানো হয়নি। তথ্যমন্ত্রী সাত্তার হাশেমি বলেন, “গত রোববার ইরান সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সাইবার হামলা প্রতিহত করেছে,” যার ফলে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ সীমিত থাকতে পারে।

বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল গত রোববার তেহরান কেন্দ্রস্থলে, যেখানে ব্যবসায়ী ও দোকানিরা অংশগ্রহণ করেন। এরপর তা দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নিহতদের মধ্যে পশ্চিম ইরানের হামেদান শহরের এক তরুণ ব্যবসায়ী রয়েছেন। হামেদানের আঞ্চলিক গভর্নরের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপপ্রধান হামজেহ আমরাই বলেন, ওই মৃত্যুকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে এবং এটি দেশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার জন্য শত্রুরা ঘটিয়েছে।

তেহরানের দক্ষিণে কোম শহরের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোর্তেজা হায়দারি জানান, ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর গুলিতে নিহত হয়েছে। এছাড়া আরেক ব্যক্তি নিজের হাতে থাকা গ্রেনেড বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইলাম প্রদেশের মালেকশাহি এলাকায় সশস্ত্র ও মুখোশধারী হামলায় ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একজন প্রবীণ সদস্য নিহত হয়েছেন। লোরেস্তান প্রদেশেও একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে। আইআরজিসির প্রাদেশিক শাখা জানিয়েছে, খোররামাবাদ শহর থেকে ‘তিন প্রধান দাঙ্গাকারী নেতা’কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কয়েকজনের কথিত স্বীকারোক্তি প্রচার করা হয়েছে, যেখানে তারা দাবি করেছেন, তারা সশস্ত্র ছিলেন বা বিদেশি এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, “চলমান পরিস্থিতির জন্য বিদেশি প্রভাব দায়ী। দাঙ্গাকারীদের অবশ্যই উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের উদ্ধারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, “তারা নারী ও শিশুদের ওপর বোমা ব্যবহার করছে, অথচ আমাদের নির্দেশ দিচ্ছে কাউকে আঘাত না করতে।”

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

sixteen + 3 =

About Author Information

Tipu Sultan

সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ হাজার পরিবারকে ২১৩ কোটি টাকার সহায়তা

ইরানে বিক্ষোভের মধ্যে ইন্টারনেট বিভ্রাট, নিহত অন্তত ১০

Update Time : ০৩:৪৭:০৯ pm, Sunday, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই ইরানিরা আবারও ইন্টারনেট–বিভ্রাটের মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে দেশটির কর্তৃপক্ষ ‘বিদেশি নাশকতা’র সতর্কবার্তা দিয়ে পাল্টা সমাবেশের আয়োজন করছে।

গত বৃহস্পতিবার থেকে বাসাবাড়ির সংযোগ ও মোবাইল ইন্টারনেটে মাঝেমধ্যে বিঘ্ন লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার জানিয়েছে, আগের দিনের তুলনায় ইরানে গড় ইন্টারনেট ট্রাফিক কমেছে প্রায় ৩৫ শতাংশ।

এর আগে চলমান বিক্ষোভের সময়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট বন্ধ বা ধীরগতির করেছিল। চলতি বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে সরকারিভাবে ধীরগতির কারণ জানানো হয়নি। তথ্যমন্ত্রী সাত্তার হাশেমি বলেন, “গত রোববার ইরান সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সাইবার হামলা প্রতিহত করেছে,” যার ফলে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ সীমিত থাকতে পারে।

বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল গত রোববার তেহরান কেন্দ্রস্থলে, যেখানে ব্যবসায়ী ও দোকানিরা অংশগ্রহণ করেন। এরপর তা দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নিহতদের মধ্যে পশ্চিম ইরানের হামেদান শহরের এক তরুণ ব্যবসায়ী রয়েছেন। হামেদানের আঞ্চলিক গভর্নরের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপপ্রধান হামজেহ আমরাই বলেন, ওই মৃত্যুকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে এবং এটি দেশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার জন্য শত্রুরা ঘটিয়েছে।

তেহরানের দক্ষিণে কোম শহরের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোর্তেজা হায়দারি জানান, ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর গুলিতে নিহত হয়েছে। এছাড়া আরেক ব্যক্তি নিজের হাতে থাকা গ্রেনেড বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইলাম প্রদেশের মালেকশাহি এলাকায় সশস্ত্র ও মুখোশধারী হামলায় ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একজন প্রবীণ সদস্য নিহত হয়েছেন। লোরেস্তান প্রদেশেও একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে। আইআরজিসির প্রাদেশিক শাখা জানিয়েছে, খোররামাবাদ শহর থেকে ‘তিন প্রধান দাঙ্গাকারী নেতা’কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কয়েকজনের কথিত স্বীকারোক্তি প্রচার করা হয়েছে, যেখানে তারা দাবি করেছেন, তারা সশস্ত্র ছিলেন বা বিদেশি এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, “চলমান পরিস্থিতির জন্য বিদেশি প্রভাব দায়ী। দাঙ্গাকারীদের অবশ্যই উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের উদ্ধারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, “তারা নারী ও শিশুদের ওপর বোমা ব্যবহার করছে, অথচ আমাদের নির্দেশ দিচ্ছে কাউকে আঘাত না করতে।”

শু/সবা