1:57 pm, Saturday, 20 June 2026

ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ পরিবারের ৭টি ঘর পুড়ে ছাই

ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে  ৬ পরিবারের ৭টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে নগদ টাকা, নির্মাণসামগ্রী, বিদ্যুতের তার, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি) মধ্যরাত সাড়ে ৩টার দিকে ইউনিয়নের রুস্তমিয়া মাদ্রাসার পাশে মনু হাজীর বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।  সূত্রে জানা যায়, রুহুল আমিন প্রকাশ দুদুর ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের উৎপত্তি।
ঘটনার সময় বাড়ির লোকজন সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর চিৎকারে সবাই ছুটে আসে। স্থানীয়রা প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান।
খবর পেয়ে ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পার্শ্ববর্তী নাসিরের ঘরেও আগুন ছড়িয়ে পড়লেও ফায়ার সার্ভিস তা নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্ত বদিউল আলম জানান, মধ্যরাত হওয়ায় আগুন লাগলেও আমরা টের পাইনি। আমার ভাতিজা এসে ডাক দিলে উঠে দেখি চারদিকে আগুন। কোনোভাবেই ঘর থেকে কিছু বের করা সম্ভব হয়নি।
আগুনের লেলিহান শিখায় রুহুল আমিন, নূর মোহাম্মদ, বদিউল আলম, নূর হোসেন, নুরুল আলম, আম্বিয়া খাতুন এবং মাহাবুল আলমের ভাড়াটিয়া মহিউদ্দিনের দুটি পাকা ঘর ও চারটি সেমি পাকা ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে রয়েছে – বদিউল আলমের নগদ আড়াই লক্ষ টাকা, মহিউদ্দিনের নগদ ৫ লক্ষ টাকা, ঘরের ইলেকট্রিক কাজের জন্য বিদেশ থেকে আনা প্রায় ১০ লক্ষ টাকার বিদ্যুতের তার, ৭০ বস্তা সিমেন্টসহ ঘরের সকল আসবাবপত্র। এছাড়া দলিলপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
আগুনের খবর পেয়ে সকাল ১১টার দিকে সামাজিক সংগঠন রেনেসাঁ কাঞ্চননগর ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্য সামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও কম্বল বিতরণ করেন।
এদিকে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, অগ্নিকান্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

eighteen + nine =

About Author Information

Tipu Sultan

রাবিতে র‍্যাগিংয়ের ভিডিও করায় প্রক্টরের সামনে সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধর

ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ পরিবারের ৭টি ঘর পুড়ে ছাই

Update Time : ০৫:৪৮:২৭ pm, Sunday, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে  ৬ পরিবারের ৭টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে নগদ টাকা, নির্মাণসামগ্রী, বিদ্যুতের তার, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি) মধ্যরাত সাড়ে ৩টার দিকে ইউনিয়নের রুস্তমিয়া মাদ্রাসার পাশে মনু হাজীর বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।  সূত্রে জানা যায়, রুহুল আমিন প্রকাশ দুদুর ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের উৎপত্তি।
ঘটনার সময় বাড়ির লোকজন সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর চিৎকারে সবাই ছুটে আসে। স্থানীয়রা প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান।
খবর পেয়ে ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পার্শ্ববর্তী নাসিরের ঘরেও আগুন ছড়িয়ে পড়লেও ফায়ার সার্ভিস তা নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্ত বদিউল আলম জানান, মধ্যরাত হওয়ায় আগুন লাগলেও আমরা টের পাইনি। আমার ভাতিজা এসে ডাক দিলে উঠে দেখি চারদিকে আগুন। কোনোভাবেই ঘর থেকে কিছু বের করা সম্ভব হয়নি।
আগুনের লেলিহান শিখায় রুহুল আমিন, নূর মোহাম্মদ, বদিউল আলম, নূর হোসেন, নুরুল আলম, আম্বিয়া খাতুন এবং মাহাবুল আলমের ভাড়াটিয়া মহিউদ্দিনের দুটি পাকা ঘর ও চারটি সেমি পাকা ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে রয়েছে – বদিউল আলমের নগদ আড়াই লক্ষ টাকা, মহিউদ্দিনের নগদ ৫ লক্ষ টাকা, ঘরের ইলেকট্রিক কাজের জন্য বিদেশ থেকে আনা প্রায় ১০ লক্ষ টাকার বিদ্যুতের তার, ৭০ বস্তা সিমেন্টসহ ঘরের সকল আসবাবপত্র। এছাড়া দলিলপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
আগুনের খবর পেয়ে সকাল ১১টার দিকে সামাজিক সংগঠন রেনেসাঁ কাঞ্চননগর ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্য সামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও কম্বল বিতরণ করেন।
এদিকে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, অগ্নিকান্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
শু/সবা